behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

পানামা পেপারস: আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করেনি ফনসেকা

বিদেশ ডেস্ক১১:৩৮, এপ্রিল ০৫, ২০১৬

মোসাক ফনসেকাবিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী রাষ্ট্রপ্রধানদের আইনি পরামর্শদানকারী পানামাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকার বেশ ক’জন মক্কেলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। আর তা জানার পরও ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিয়ে গেছে ফনসেকা। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের ফাঁস হওয়া প্রায় ১১ মিলিয়ন নথিপত্রে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, মোস্যাক ফনসেকা কাজ করতো এমন ৩৩ ব্যক্তিত্ব ও কোম্পানির বিরুদ্ধে ইউএস ট্রেজারির তরফে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে ইরান, জিম্বাবুয়ে ও উত্তর কোরিয়ায় অবস্থিত বেশ কয়েকটি কোম্পানি রয়েছে। একটির আবার উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল। এসব কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব নামে নিবন্ধন করতো ফনসেকা। আর সেকারণে এসব কোম্পানির সত্যিকারের মালিকদের শনাক্ত করা সম্ভব হতো না।
বিবিসির খবরে বলা হয়, ফনসেকার সঙ্গে কিছু কিছু কোম্পানির সম্পর্কটা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আগেই শুরু হলেও কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও বেশ কয়েকটি কোম্পানিকে সহায়তা করে আসছিল ফনসেকা।
উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচিতে সহায়তা দানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা



এরকম একটি কোম্পানি হলো ডিসিবি ফিন্যান্স। কোম্পানিটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মালিক এবং পরিচালকরা সবাই পিয়ংইয়ংয়ের। উত্তর কোরিয়ার জন্য তহবিল সংগ্রহের অভিযোগে এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তার কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইউএস ট্রেজারি।

ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, ডিসিবি ফিন্যান্স এর মালিকরা হলেন, উত্তর কোরিয়ার নাগরিক চোল স্যাম ও ব্রিটিশ ব্যাংকার নিগেল কোয়ি। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দায়েদোং ক্রেডিট ব্যাংকেরও সিইও ছিলেন নিগেল।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির ছবি

তবে এগুলো জানার পরও ফনসেকা তা এড়িয়ে গিয়েছিল। তবে ২০১০ সালে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যোগাযোগ ও তদন্ত করার পর ওই বছর ডিসিবি ফিন্যান্সের হয়ে কাজ করা বন্ধ করে ফনসেকা।

২০১৩ সালে ব্রিটিশ ভার্জিন কর্তৃপক্ষ (বিভিআই) এর তরফে আবারও মোস্যাক ফনসেকার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ২০০৬ সালে ডিসিবি ফিন্যান্সের সঙ্গে কাজ শুরুর আগে তারা কী ধরনের যাচাই বাছাই করেছিলেন। একই বছর আগস্টে এক ইমেইলে দেওয়া জবাবে ফনসেকা জানায়, ‘উত্তর কোরিয়া কালো তালিকায় থাকার পরও আমরা কেন ডিসিবি ফিন্যান্সের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করেছিলাম তা এখনও শনাক্ত করতে পারিনি। শুরুতেই আমাদের শনাক্ত করা দরকার ছিল যে এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানি।’

আসাদের আত্মীয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকার পরও ফনসেকা যাদের সঙ্গে কাজ চালিয়েছে, তাদের একজন হলেন রামি মাখলুফ। তিনি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের চাচাতো ভাই। তার সম্পত্তির পরিমাণ ৫শ কোটি ডলার। সিরিয়ার বিচারিক ব্যবস্থাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং ব্যবসায়িক শত্রুদের দমাতে সিরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ব্যবহার করার অভিযোগে ২০০৮ সালে তার ওপর ইউএস ট্রেজারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অথচ ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও ড্রেক্স টেকনোলজিসসহ মাখলুফের সঙ্গে ছয়টি ব্যবসায় জড়ায় ফনসেকা। ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায় এইচএসবিসি’র সুইস শাখা থেকে ফার্মটির জন্য অর্থ সরবরাহ করা হত।

রামি মাখলুফ

নিষেধাজ্ঞা আরোপের ২ বছর পর ২০১০ সালে মোস্যাক ফনসেকার কাছে এইচএসবিসি’র লেখা এক চিঠিতে বলা হয়, তারা বিশ্বাস করে যে ড্রেক্স টেকনোলজিস দীর্ঘস্থায়ী একটি কোম্পানি। ড্রেক্স টেকনোলজিসের সঙ্গে কাজ করতেন এইচএসবিসি’র এমন কর্মকর্তারা রামি মাখলুফকে জানতেন। ২০১১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ফনসেকার এক অভ্যন্তরীণ ইমেইলে বলা হয়, ‘আমরা এইচএসবিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারা জানিয়েছে মাখলুফ যে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের আত্মীয় তারা সেটা জানেন। জেনেভায় অবস্থিত এইচএসবিসি ব্যাংকের কমপ্লায়েন্স বিভাগই কেবল নয়, লন্ডনে অবস্থিত তাদের সদর দফতরও মাখলুফকে চেনেন। তারাও নিশ্চিত করেছেন যে মাখলুফের সঙ্গে কাজ করা স্বস্তিদায়ক।’

শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে রামি মাখলুফের সঙ্গে সবধরনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফনসেকা।

সিরীয় যুদ্ধের রসদ সরবরাহকারী কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা
ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা আরেকটি কোম্পানিকে ব্যবসায়িক সেবা প্রদান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ওই কোম্পানির নাম পানগেইটস ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশ লিমিটেড। ইউএস ট্রেজারি বিশ্বাস করে যে কোম্পানিটি সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধে বিমানের জ্বালানি সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি।

ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পরও পানগেইটসের সঙ্গে কাজ কাজ করছে ফনসেকা। ২০১৫ সালের আগস্টের আগ পর্যন্ত ফনসেকা স্বীকার করেনি যে, কোম্পানিটি কালো তালিকাভুক্ত।

উল্লেখ্য, মোস্যাক ফনসেকা নামক আইনি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১১ মিলিয়ন নথিপত্র ফাঁস হওয়ার পর সামনে এসেছে বিশ্বজুড়ে ক্ষমতাধরদের অর্থ কেলেঙ্কারির ভয়াবহ তথ্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত কিভাবে কর ফাঁকি দিয়ে সম্পদ গোপন করেন এবং কিভাবে অর্থ পাচার করেন;তা উন্মোচিত হয়েছে নথিগুলো ফাঁস হওয়ার পর। ফাঁস হওয়া গোপনীয় এই নথি-পত্রগুলো থেকে দেখা যায়,পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মোট ৭২ জন বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান নিজেদের দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করছেন।

মোস্যাক ফনসেকা নামক আইনি প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট ফি নেওয়ার মাধ্যমে মক্কেলদের বেনামে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এর মাধ্যমে তারা সম্পদ গোপন এবং কর ফাঁকি দিয়ে ওই অপ্রদর্শিত আয়কে বৈধ উপায়ে ব্যবহারের সুযোগ পান। মোস্যাক ফনসেকাই এসব বেনামি কোম্পানির দেখাশুনা করে থাকে। যদিও ব্রিটিশ আইল্যান্ড, পানামার মতো দেশগুলোতে বৈধ উপায়ে কর ছাড়াই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, সেখানে কোম্পানি গঠন করা হচ্ছে প্রকৃত স্বত্বাধিকারীর পরিচয় এবং অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করার মাধ্যমে। 

একজন বড় শিল্পপতি, যিনি কর ফাঁকি দিতে চাচ্ছেন অথবা একজন আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী অথবা একজন স্বৈরশাসক ওই পদ্ধতিতে তার অপ্রদর্শিত বা অবৈধ অর্থ বৈধ করে নিতে পারেন। মোস্যাক ফনসেকার দাবি, তাদের দেখাশোনা করা কোম্পানিগুলো কর ফাঁকি, অর্থপাচার, সন্ত্রাসী কাজে অর্থ যোগান দেওয়া বা অন্য কোনও বেআইনি কাজে জড়িত নয়। সূত্র: বিবিসি

/এফইউ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ