পানামা পেপারসউত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচিতে ব্রিটিশ ব্যাংকারের ইন্ধন

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:০৭, এপ্রিল ০৫, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৪, এপ্রিল ০৫, ২০১৬

নাইজেল কাওয়ি নামক এক ব্রিটিশ ব্যাংকার উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র বিক্রির জন্য গঠন করেছেন এক গোপন অফশোর মেকি আর্থিক কোম্পানি। অভিযোগ রয়েছে ওই কোম্পানির প্রকৃত মালিক পিয়ংইয়ং। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ওই কোম্পানির মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া অস্ত্র বিক্রি করে পরমাণু কর্মসূচী বাড়াতে সক্ষম হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মোস্যাক ফনসেকা নামক পানামাভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১১ মিলিয়ন নথিপত্র ফাঁস হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ক্ষমতাধরদের আর্থিক কেলেঙ্কারি সহ সামনে আসছে নিষেধাজ্ঞা আর অস্ত্র বাণিজ্যের এক ভয়াবহ চিত্র। ওই ফাঁস হওয়া নথি ‘পানামা পেপারস’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। আর ‘পানামা পেপারস’-এ ওঠে এসেছে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র বাণিজ্যের এক অপ্রকাশিত দিক।
‘পানামা পেপারস’ অনুসারে, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নথিভুক্ত ডিসিবি ফাইন্যান্স লিমিটেড নামক পিয়ংইয়ং-এর ওই আর্থিক কোম্পানির পেছনে রয়েছেন এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করা নাইজেল কাওয়ি। তবে তিনি দাবি করেছেন, ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয় বৈধ উপায়ে ব্যবসার জন্য। কোনও রকম বেআইনি লেনদেনের বিষয়ে তিনি অবগত নন।
উল্লেখ্য, ওই মেকি কোম্পানিগুলোতে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং লেনদেন দেখানো হয় ঠিকই, কিন্তু এর ভেতরটা থাকে পুরোপুরি ফাঁপা। এ ধরনের কোম্পানি কেবলমাত্র বিপুল পরিমাণ অর্থের পরিচালন করে এবং ওই অর্থের প্রকৃত মালিকের পরিচয় লুকিয়ে রাখে।
১৯৯৫ সালে কিম জং ইল ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় কাওয়ি উত্তর কোরিয়ায় যান। সেখানে তিনি দায়েদং ক্রেডিট ব্যাংকের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। এ সময় তিনি তিন সহকর্মী সহ পিয়ংইয়ং-এর একটি হোটেলে থাকতেন। তিনি উত্তর কোরিয়ায় প্রায় দুই যুগ অতিবাহিত করেন। এ সময়ে তিনি কোরিয়ান এবং চাইনিজ ভাষায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন।

২০০৬ সালে কাওয়ি মোস্যাক ফনসেকার সহায়তায় দায়েদং ক্রেডিট ব্যাংকের শাখা হিসেবে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস-এ ডিসিবি ফাইন্যান্স কোম্পানি গঠন করেন। তখন তার সফর সঙ্গী ছিলেন উত্তর কোরিয়ার পদস্থ কর্মকর্তা কিম চল-স্যাম। সে বছর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জবাবে উত্তর কোরিয়া সাতটি ব্যালাস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা চালায়।

নাইজেল কাওয়ি

২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র কিম চল-স্যাম, দায়েদং ব্যাংক এবং কাওয়ির ওই মেকি কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ‘অন্তত ২০০৬ সালে যখন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য তাদের সঙ্গে ব্যবসায় আগ্রহী ছিল না, তখন দায়েদং ক্রেডিট ব্যাংক তার ফ্রন্ট কোম্পানি ডিসিবি ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাহায্যে আন্তর্জাতিক লেনদেন রয়েছে।’

‘পানামা পেপারস’ অনুসারে, মোস্যাক ফনসেকা প্রথমে এই বিষয়টি বুঝতে পারেনি যে, কোম্পানিটির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সংযোগ রয়েছে। তবে ২০১০ সালে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস-এর ফাইন্যান্সিয়াল ইনভেস্টিগেশন অ্যাজেন্সি কাওয়ির কোম্পানির বিবরণ মোস্যাক ফনসেকাকে দেওয়ার পরই তারা বুঝতে পারেন যে, এতোদিন ধরে মোস্যাক ফনসেকা উত্তর কোরীয়দের সঙ্গে কাজ করছিল। এরপর মোস্যাক ফনসেকা ওই প্রতিষ্ঠানের কাজ ছেড়ে দেয়। আর পরের বছর কাওয়ি তার শেয়ার বিক্রি করে দেন এক চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছে।  

মোস্যাক ফনসেকা ‘ফিনিক্স কমার্শিয়াল ভেনচারস লিমিটেড’ নামক উত্তর কোরিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত আরেকটি কোম্পানি গঠন করে। ওই প্রতিষ্ঠানটি সিডি এবং ডিভিডি প্লেয়ার বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।

এদিকে, নাইজেল কাওয়ির আইনজীবী এক চিঠিতে বলেন, ‘আমার মক্কেল ডিসিবি ফাইন্যান্স লিমিটেডের একজন শেয়ার হোল্ডার। ডিসিবি ফাইন্যান্স বৈধ ব্যবসার জন্য গঠন করা হয়েছিল। আমার মক্কেল দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনও নিষিদ্ধ সংগঠন, অথবা কোনও নিষিদ্ধ বিষয়ে লেনদেন সম্পর্কে তিনি অবগত নন।’

উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে জার্মানির মিউনিখের একটি পত্রিকা জিড্ডয়েশ সাইটুঙ্গ একটি বেনামা সূত্র থেকে মোস্যাক ফনসেকা-র বিপুল তথ্যভাণ্ডারের সন্ধান পায়। তারা ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস বা আইসিআইজে-র মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানায়। তবে নথিগুলোর সংগ্রাহক ও প্রকাশকারীর নাম জানানো হয়নি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

/এসএ/

লাইভ

টপ