behind the news
IPDC  ad on bangla Tribune
Vision  ad on bangla Tribune

বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া অর্থ থাকার অভিযোগ অস্বীকার ফিলরেমের

বিদেশ ডেস্ক১৭:০৩, এপ্রিল ০৫, ২০১৬

সালুদ ও বাউতিস্তাফিলিপাইনভিত্তিক মানি এক্সচেঞ্জ ফার্ম ফিলরেম সার্ভিস কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের অর্থের ১৭ মিলিয়ন ডলার তাদের কাছে থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মঙ্গলবার ফিলিপাইনের সিনেট কমিটিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে সিনেটররা টাকা ফেরত চাইলে ফিলরেমের স্বত্তাধিকারী মাইকেল বাউতিস্তা বলেন, ‘স্যার, আমাদের কাছে ১৭ মিলিয়ন ডলার নেই।’
বাউতিস্তার স্ত্রী ও ফিলরেমের প্রেসিডেন্ট সালুদ এর আগে কমিটিকে বলেছিলেন উইকাং ঝু নামের ব্যবসায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ৬শ মিলিয়ন পেসো ও আর ১৮ মিলিয়ন ডলার মুদ্রা রূপান্তর করেছিলেন। রিজাল কমার্সিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি)’র সাবেক ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মারিয়া সান্তোস দিগুইতোর নির্দেশনা অনুযায়ী উইকাং কাজটি করেছিলেন বলেও সে সময় দাবি করেছিলেন সালুদ।
মঙ্গলবারের শুনানিতে বাউতিস্তা দাবি করেন তাদের কাছে কোনও টাকা নেই। তারা সমস্যা সমাধানে সহায়তা করতে চান বলেই প্রথম দিনের শুনানি থেকেই সব ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আসছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
স্বামী-স্ত্রীর ভিন্ন বয়ান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন কমিটির চেয়ারপার্সন সিনেটর তৃতীয় তেওফিস্তো গুয়িনগোনা। আগের শুনানিগুলোতে ওই দম্পতি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ দম্পতি শপথের আওতায় আছেন মনে করিয়ে দিয়ে গুয়িনগোনা বলেন ‘মনে হচ্ছে আমাদেরকে বোকা বানানো হচ্ছে।’

সান্তোস দিগুইতো ও কিম অং

তবে সে অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বাউতিস্তা বলেন, ’১৮ বছর ধরে আমরা এ ব্যবসাতে আছি। মর্যাদা আর বিশ্বাস আমাদের একমাত্র সম্বল। আপনারা আমাদের প্রতারক বলতে পারেন না।’

হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির শুনানিতে মঙ্গলবার দুই উল্লেখযোগ্য অভিযুক্ত আরসিবিসি ব্যাংকের সাবেক ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মারিয়া সান্তোস দিগুইতো ও ব্যবসায়ী কিম অং-ও প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন। সিনেট কমিটির প্রথম দুটি শুনানিতে দিগুইতো তার জবানবন্দি দিলেও গত ২৯ মার্চ সিনেটে কিম অং হাজির হওয়ার পর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি। মঙ্গলবারই প্রথমবারের মতো তারা একে অপরের মুখোমুখি হন।
শুনানিতে আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা রাখা একটি বিবৃতি পড়ে শোনান দিগুইতো। তিনি সে সময অভিযোগ করে বলেন, ‘সম্প্রতি প্রভাবশালী লোকজন অর্থ পাচারের সব দায় আমার ওপর দিচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন, ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আমার মতো মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকা কারও পক্ষে কোটি কোটি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো অপরাধ সংঘটিত করা সহজ ব্যাপার। সত্যি কথা বলতে গেলে বড় বড় ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ ছাড়া এ ধরনের অপরাধ হয় না। কারণ এসব ব্যবসায়ীর বিভিন্ন দেশে প্রভাব থাকে।’

নিজেকে বড় বড় ব্যবসায়ীদের দাবা খেলার গুটি হিসেবে উল্লেখ করে দিগুইতো বলেন, ‘সিনেট কমিটি যদি গ্র্যান্ড মাস্টারকে খুঁজে থাকে তবে আমি সে ব্যক্তি নই। সাধারণ একজন ব্যাংক ম্যানেজারের চেয়ে এক্ষেত্রে আরও উচ্চ পর্যায়ের মানুষদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।’

দিগুইতো হলেন ফিলিপাইনের মাকাতি সিটির সেই জুপিটার স্ট্রিট শাখার সাবেক ম্যানেজার যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া টাকাগুলো লেনদেন হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। আর দিগুইতোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, চুরি যাওয়া অর্থগুলো জমা রাখা ও তোলার সুবিধা করতে ৫ জনের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ চুরি করে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে। সেখান থেকে ওই অর্থ ফিলিপিনো পেসোতে রূপান্তরের পর দুটি ক্যাসিনোতে পাঠানো হয়। সূত্র: ইনকোয়ারার

/এফইউ/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ