behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

পানামা পেপারস-এ মার্কিন নাগরিক না থাকায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন

বিদেশ ডেস্ক১৭:০৬, এপ্রিল ০৫, ২০১৬

পানামা পেপারস ফাঁসের পর কয়েকটি শক্তিধর দেশে আলোচনার ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের প্রভাবশালী ও নির্বাচিত শীর্ষ নেতারা কোনও অপরাধ না করার দাবি করছেন। চীন দেশটির সোশ্যাল মিডিয়ায় সেন্সর আরোপ করেছে। ক্রেমলিন এটাকে সিআইএর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। ফাঁস হওয়া নথিতে কোনও মার্কিন নাগরিক কিংবা ব্যাংকের নাম থাকায় প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

পানামা পেপারস ফাঁসের পর সোমবার প্রকাশ হয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালীরা কি পরিমাণ গোপন সম্পদের মালিক। এ তালিকায় রয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, সেলিব্রেটি, বিখ্যাত ব্যবসায়ী থেকে শুরু ফুটবল তারকারা। ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেশন জার্নালিস্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ফাঁস হওয়া নথি বিশ্বজুড়ে শতাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পানামাভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকা এসব আর্থিক লেনদেনের বিষয় তদারকি করত। এই প্রতিষ্ঠানের তথ্যই ফাঁস হয়েছে।

ফাঁস হওয়া নথির প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত তথ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই সমালোচনা করছেন ফাঁস হওয়া নথিতে কোনও মার্কিন নাগরিক কিংবা ব্যাংকের নাম থাকায়।  ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীরা বলছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এটা করা হয়েছে। তবে অনেকেই মিডিয়ার পক্ষপাতিত্ব নিয়ে গুরুতর সমালোচনা হাজির করেছেন।

ফাঁস হওয়া তথ্যে শুধু এক মার্কিন নাগরিক সরাসরি জড়িত বলে দেখা যায়। যিনি একজন ফিন্যান্সিয়াল লেখক মারিয়ানা ওলসজেভস্কি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ৯০ বছরের এক ব্রিটিশ নাগরিককে নিয়োগ দিয়েছেন যিনি বিদেশে বিনিয়োগ করা অর্থ গোপন রাখার কাজ করতেন।

আইসিআইজের প্রকাশিত ৬১৭ জন মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনও উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি নেই। মোসাক ফনসেকা যুক্তরাষ্ট্রেই নিজের  কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফলে এতে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এবং সমালোচনা প্রবল হচ্ছে।

সবচেয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন উজবেকিস্তানে নিয়োজিত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ক্রেইগ মুরে। সোমবার নিজের ব্লগে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, জার্মান পত্রিকা পশ্চিমা মিডিয়াকে এসব তথ্য প্রকাশ করতে দিয়ে অনেক বড় ভুল করেছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের জের ধরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান প্রথম গুরুত্ব সহকারে খবর প্রকাশ করে। গার্ডিয়ানের খবরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে।

মুরে লিখেছেন, কিন্তু কেন রাশিয়াকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে? মোসাক ফনসেকার সহযোগিতায় যে বিপুল পরিমাণ অর্থ গোপনে বিনিয়োগ করা হয়েছে তার অল্প কিছুর মালিক রাশিয়ানরা। অবশ্য, শিগগিরই এসব নির্বাচিত খবর হাওয়া হয়ে যাবে। পশ্চিমা পূঁজিবাদের আসল রূপ প্রকাশের আশা করা ঠিক হবে না। পশ্চিমা কর্পোরেশনগুলোর নোংরা গোপনীয়তা কখনওই প্রকাশ হবে না।

মুরে ইঙ্গিত করেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইসিআইজের পৃষ্ঠপোষকদের কারণেই কোনও আমেরিকান রাজনীতিবিদ ও উল্লেখযোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকায় ছিল না।

আইসিআইজির পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে রয়েছে ফোর্ড ফাউন্ডেশন, দ্য কার্নেগি এনডোমেন্ট, দ্য রকফেলার ফ্যামিলি ফান্ড, দ্য ডাব্লিউকে কেলগ ফান্ড এবং ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন (সরস)। এসব পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান সবগুলোই শিল্প ও কর্পোরেট সহযোগী।

মুরে আরও লিখেছেন, আমি জানি রাশিয়া ও চীন দুর্নীতিগ্রস্ত। এটা আমাকে জানানোর দরকার নাই। কিন্তু আপনার কেন পশ্চিমের বিষয়গুলো তুলে ধরছেন না, যাতে করে বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা যায় এবং এ বিষয়ে কিছু করা সম্ভব হয়।

মুরের মতোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ষড়যন্ত্র তত্ত্বই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে ‍টুইটারে মিডিয়ার পক্ষপাতিত্বের বিষয়টিই সামনে আসছে।

বিদেশে গোপন সম্পত্তির মালিকের তালিকায় থাকা নামের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী হচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যদিও পানামা পেপারসে ফাঁস হওয়া তথ্যে কোনও সম্পত্তির সরাসরি মালিক নন পুতিন। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সেগেই রলডুজিন, পুতিনের মেয়ে মারিয়া, ইউরি কোভালচুক, ব্যাংক রসিয়ার উল্লেখযোগ্য অংশীদার।

পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার বলেছেন, আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে আমাদের প্রেসিডেন্টের পরাজয়ের জন্যই এটা করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য। এটা সরাসরি আমাদের দেশের বিরুদ্ধে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমাদের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে।

পেসকভ বলেন, পুতিনফোবিয়া এমন উচ্চমাত্রায় পৌঁছেছে যে এখন আর রাশিয়ার ভালো কিংবা সাফল্য নিয়ে এখন কথা বলতে পারেন না। শুধু রাশিয়ার খারাপ দিকগুলো নিয়ে আপনারা কথা বলতে পারেন।

ফাঁস হওয়া তালিকায় রাশিয়ান কর্মকর্তা আন্দ্রেই কস্টিন রয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ভিটিবির প্রধান। তিনি বলেন, পুতিন কখনওই এসবে জড়িত ছিলেন না। এসব সম্পূর্ণ বাজে কথা।

পানামা পেপারসে ফাঁস হওয়া তথ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শ্যালক ডেং জিয়াগুইয়ের নামও রয়েছে। মিডিয়ায় এ তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক নেটওয়ার্ক সিনা ওয়েইবো ও উইচ্যাটে কয়েকশ পোস্ট প্রকাশ করা হয়। যদিও সোমবার সকাল থেকে প্রায় সব পোস্টই মুছে ফেলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

আইসিআইজি যুক্তরাষ্ট্রে ৬১৭ জন মধ্যস্বত্ত্বভোগীর নাম প্রকাশ করেছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় তাতে কোনও মার্কিন নাগরিকের নাম নেই।

/এএ/এমপি/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ