behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

দ্য গার্ডিয়ানের সম্পাদকীয়তে পানামা পেপারস

বিদেশ ডেস্ক১৯:০৯, এপ্রিল ০৫, ২০১৬

ফাঁস হওয়া পানামা পেপারস-এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির পচন প্রক্রিয়া সামনে এসে হাজির হয়েছে; প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সোমবারের সম্পাদকীয় ভাষ্যে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউনের পাঠকের জন্য সেই সম্পাদকীয় থেকে সংক্ষেপিত ভাষ্য তুলে ধরা হলো।
হাজার হাজার কোম্পানি, লাখ লাখ দলিল এবং কয়েক টেরাবাইট তথ্য – এই বিশাল তথ্যভাণ্ডারে উঠে এসেছে অনেক অজানা গল্প, যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। মোস্যাক ফনসেকা নামক আইনি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১১ মিলিয়ন নথিপত্র ফাঁস হওয়ার পর সামনে এসেছে বিশ্বজুড়ে ক্ষমতাধরদের অর্থ কেলেঙ্কারির ভয়াবহ তথ্য। ওই ফাঁস হওয়া নথি ‘পানামা পেপারস’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত কিভাবে কর ফাঁকি দিয়ে সম্পদ গোপন করেন এবং কিভাবে অর্থ পাচার করেন; তা উন্মোচিত হয়েছে নথিগুলো ফাঁস হওয়ার পর। ওই বিতর্ক রেইকিয়াভিক থেকে কিয়েভ এবং ইসলামাবাদ থেকে বাগদাদ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
৮০টি দেশের সাংবাদিকরা ওই বিশাল তথ্যভাণ্ডার থেকে মাসের পর মাস ধরে কাজ করে তুলে এনেছেন কর ফাঁকি আর অর্থপাচারের এক ভয়ঙ্কর চিত্র। সেখানে উন্মোচিত প্রতিটা ঘটনাই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ওই বৈশ্বিক এলিট শ্রেণীর ক্ষেত্রে সাধারণ আইন কার্যকর থাকে না। নতুন ‘সোনালি যুগে’ কর ব্যবস্থা আবারও প্রযোজ্য হচ্ছে কেবল সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেই।
এ ধরনের অভিব্যক্তি সব সময়ই বিষের মতো কাজ করে, বিশেষত রাজনীতির ক্ষেত্রে। বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দায় যখন সাধারণ মানুষকে প্রতিপদে ছাঁড় দিতে হচ্ছে, ব্যয় সংকোচন নীতি অবলম্বন করতে হচ্ছে, তখনই ফাঁস হলো রাজনীতিবিদদের ওই আর্থিক দুর্নীতির তথ্য।

ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবেই পুরো বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে যে, ব্যাংকগুলো পুরনো ধাঁচের ছল-চাতুরি – সুদের হার বাড়িয়ে, গ্রাহকদের ধোঁকা দিয়ে এবং অর্থপাচারের মাধ্যমে পুরো বিশ্ব-অর্থনীতিকে দেউলিয়া করে দিয়েছে। লুক্স কর ফাঁস, এইচএসবিসি গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সুইস লকার তথ্য ফাঁস ইত্যাদির মাধ্যমে আমরা ব্যাংক ব্যবস্থার ভেতরের অনেক তথ্যই জানতে সক্ষম হয়েছি।

‘পানামা পেপারস’-এ উঠে এসেছে মেকি কোম্পানির কর্মকাণ্ড, যেখানে একই সঙ্গে কর ফাঁকিও দেওয়া হচ্ছে, আবার চাতুর্যের সঙ্গে প্রকৃত মালিককে লুকিয়ে রাখাও হচ্ছে। ১৯৮৩ সালের কুখ্যাত ব্রিঙ্কস-ম্যাট অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে মোস্যাক ফনসেকার নাম। তাদের ফাঁসকৃত নথিপত্রে কেবল বেনামা কর্পোরেশন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামই উঠে আসেনি, বরং সেখানে স্থান পেয়েছে অনেক প্রখ্যাত রাজনীতিবিদের নাম, এমনকি যারা নীতিবান, ত্যাগী বলে পরিচিত তাদের নামও।

ডেভিড ক্যামেরন

ওই নামগুলোই এই বিশ্ব-অর্থনীতির পচনের প্রমাণ দেয়। তাতে উঠে এসেছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নাম। অথচ ক্রেমলিন তাকে ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রি ডেভিড ক্যামেরনের বাবার কোম্পানি ব্লেয়ারমোর ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের নামও রয়েছে ‘পানামা পেপারস’-এ। সিনিয়র ক্যামেরন ‘বিয়ারার শেয়ার’ কেনার শক্ত প্রমানও রয়েছে ওই নথিতে। এখন ডেভিড বলতে পারেন, বাবার কৃতকর্মের জন্য ছেলে দায়ী হতে পারে না। তবে অবৈধপথে অর্জিত ওই অর্থ তার স্কুল ফিস দিতেও খরচ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে একে ‘ব্যক্তিগত বিষয়’ বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে একটি আর্থিক এলিট শ্রেণীর বিরুদ্ধে অসন্তোষ লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। এখন সর্ববৃহৎ নথি ফাঁস হওয়ার বিষয়টিতে উঠে এসেছে রাজনীতিবিদদের কথা। আর তাই নীতিগতভাবে অফশোর অর্থনীতিকে বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে বোঝাটাও ভীষণ জরুরি।

উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে একটি বেনামা সূত্র থেকে পাওয়া জার্মানির মিউনিখের একটি পত্রিকা জিড্ডয়েশ সাইটুঙ্গ মোস্যাক ফনসেকা-র বিপুল তথ্যভাণ্ডারের সন্ধান পান। তারা ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস বা আইসিআইজে-র মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানায় এবং বেশ কয়েক মাসের চেষ্টায় তা থেকে তথ্যগুলোকে সাজাতে সক্ষম হন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

/এসএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ