behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ফিলিপাইনের ক্যাসিনোর সম্পদ জব্দে মামলা হচ্ছে

বিদেশ ডেস্ক২০:৫১, এপ্রিল ০৫, ২০১৬

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে হাতিয়ে নেওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার উদ্ধারে ব্যবস্থা নিচ্ছে ফিলিপাইন। এর অংশ হিসেবে ওই অর্থ চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ক্যাসিনো এবং জাংকেট অপারেটরদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের জন্য মামলা করবে ফিলিপাইনের মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষ (এএমএলসি)। আগামী সপ্তাহেই এই মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন এএমএলসির নির্বাহী পরিচালক জুলিয়া বাকে-আবাদ। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির বিষয়ে সিনেটের শুনানিতে তিনি এ কথা জানান।

জুলিয়া বাকে-আবাদ বলেন, “আমরা এর মধ্যেই আবেদনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহেই এই (বেসামরিক সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ) মামলা করতে পারব।”

ফিলিপাইনের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দেশটির রিজল ব্যাংকের চারটি অ্যাকাউন্ট থেকে ওই অর্থ ক্যাসিনোর জুয়ার টেবিলে হাতবদল হয়ে ফিলিপাইনের মুদ্রা ব্যবস্থায় মিশে যায়।

ফিলিপাইনে এ ধরনের মামলায় অবৈধ সম্পদ ব্যবহারের প্রমাণ পেলে সরকার অভিযুক্তের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে। সেক্ষেত্রে সম্পদের মালিকের আইনি লড়াইয়ের অধিকার থাকবে। কিন্তু তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, তার সম্পদ বৈধ অর্থ থেকে এসেছে।

এদিকে ফিলিপাইনভিত্তিক মানি এক্সচেঞ্জ ফার্ম ফিলরেম সার্ভিস কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া ওই অর্থের ১৭ মিলিয়ন ডলার তাদের কাছে থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মঙ্গলবার ফিলিপাইনের সিনেট কমিটিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে সিনেটররা অর্থ ফেরত চাইলে ফিলরেমের স্বত্তাধিকারী মাইকেল বাউতিস্তা বলেন, ‘স্যার, আমাদের কাছে ১৭ মিলিয়ন ডলার নেই।’

বাউতিস্তার স্ত্রী এবং ফিলরেমের প্রেসিডেন্ট সালুদ এর আগে কমিটিকে বলেছিলেন উইকাং ঝু নামের ব্যবসায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ৬শ মিলিয়ন পেসো ও আর ১৮ মিলিয়ন ডলার মুদ্রা রূপান্তর করেছিলেন। রিজাল কমার্সিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি)’র সাবেক ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মারিয়া সান্তোস দিগুইতোর নির্দেশনা অনুযায়ী উইকাং কাজটি করেছিলেন বলেও সে সময় দাবি করেছিলেন সালুদ।

মঙ্গলবারের শুনানিতে বাউতিস্তা দাবি করেন তাদের কাছে কোনও টাকা নেই। তারা সমস্যা সমাধানে সহায়তা করতে চান বলেই প্রথম দিনের শুনানি থেকেই সব ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আসছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

স্বামী-স্ত্রীর ভিন্ন বয়ান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন কমিটির চেয়ারপার্সন সিনেটর তৃতীয় তেওফিস্তো গুয়িনগোনা। আগের শুনানিগুলোতে ওই দম্পতি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ দম্পতি শপথের আওতায় আছেন মনে করিয়ে দিয়ে গুয়িনগোনা বলেন ‘মনে হচ্ছে আমাদেরকে বোকা বানানো হচ্ছে।’

তবে সে অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বাউতিস্তা বলেন, ’১৮ বছর ধরে আমরা এ ব্যবসাতে আছি। মর্যাদা আর বিশ্বাস আমাদের একমাত্র সম্বল। আপনারা আমাদের প্রতারক বলতে পারেন না।’

হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির শুনানিতে মঙ্গলবার দুই উল্লেখযোগ্য অভিযুক্ত আরসিবিসি ব্যাংকের সাবেক ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মারিয়া সান্তোস দিগুইতো ও ব্যবসায়ী কিম অং-ও প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন। সিনেট কমিটির প্রথম দুটি শুনানিতে দিগুইতো তার জবানবন্দি দিলেও গত ২৯ মার্চ সিনেটে কিম অং হাজির হওয়ার পর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি। মঙ্গলবারই প্রথমবারের মতো তারা একে অপরের মুখোমুখি হন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কথা বলছেন এএমএলসির নির্বাহী পরিচালক জুলিয়া বাকে-আবাদ।

শুনানিতে আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা রাখা একটি বিবৃতি পড়ে শোনান দিগুইতো। তিনি সে সময অভিযোগ করে বলেন, ‘সম্প্রতি প্রভাবশালী লোকজন অর্থ পাচারের সব দায় আমার ওপর দিচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন, ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আমার মতো মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকা কারও পক্ষে কোটি কোটি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো অপরাধ সংঘটিত করা সহজ ব্যাপার। সত্যি কথা বলতে গেলে বড় বড় ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ ছাড়া এ ধরনের অপরাধ হয় না। কারণ এসব ব্যবসায়ীর বিভিন্ন দেশে প্রভাব থাকে।’

নিজেকে বড় বড় ব্যবসায়ীদের দাবা খেলার গুটি হিসেবে উল্লেখ করে দিগুইতো বলেন, ‘সিনেট কমিটি যদি গ্র্যান্ড মাস্টারকে খুঁজে থাকে তবে আমি সে ব্যক্তি নই। সাধারণ একজন ব্যাংক ম্যানেজারের চেয়ে এক্ষেত্রে আরও উচ্চ পর্যায়ের মানুষদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।’

দিগুইতো হলেন ফিলিপাইনের মাকাতি সিটির সেই জুপিটার স্ট্রিট শাখার সাবেক ম্যানেজার যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া টাকাগুলো লেনদেন হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। আর দিগুইতোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, চুরি যাওয়া অর্থগুলো জমা রাখা ও তোলার সুবিধা করতে ৫ জনের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে দিয়েছেন তিনি।

এর আগে হাতিয়ে নেওয়া ওই অর্থের একাংশ ফেরত দেন চীনা বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী কিম অং। তখন চুরি যাওয়া বাকি অর্থও বাংলাদেশকে ফেরত দিতে ফিলিপাইনের মানি এক্সচেঞ্জ ডিলার ফিলরেম সার্ভিসেস ইনকরপোরেটেড এবং ক্যাসিনোগুলোকেও আহ্বান জানায় ফিলিপাইনের ব্লু রিবন সিনেট কমিটি। এই আহ্বান জানিয়ে কমিটি বলেছে, তা না হলে ফিলিপাইনের প্রতি আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা যাবে না।

সিনেটর বাম অ্যাকিনো বলেন, ‘আমাদের অন্যান্য ক্যাসিনো এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জোর দিতে হবে যেন তাদের কাছে যাওয়া অর্থ তারা ফেরত দেন। কারণ এটাই সঠিক পথ।’

চুরি যাওয়া অর্থের একটা অংশ গিয়েছিল চীনা বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী কিম অং-এর কাছে। ফিলিপাইনের অর্থপাচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের (এএমএলসি) কাছে তিনি প্রায় ৪.৬ মিলিয়ন ডলার জমা দিয়েছেন। অং সিনেট শুনানিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তবে সাইবার ডাকাতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। তিনি শুনানিতে আরও দুই ব্যক্তির পরিচয়ও দেন, যারা তাকে ওই অর্থ সম্পর্কে জানিয়েছিল।

সিনেটর অ্যাকিনো বলেন, ‘কিম অং-এর ৪.৬ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়াটা কেবলমাত্র প্রথম পদক্ষেপ।’ তিনি অং-এর মতো অন্যদেরও অর্থ ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে আগের শুনানিতে অ্যাকিনো উল্লেখ করেছিলেন, কিম অং ৪.৬ মিলিয়নেরও অনেক বেশি অর্থ গ্রহণ করেছেন।

সিনেটর রালফ রেকটো বলেন যে, এবার ফিলরেমের পালা, তারা ক্যাসিনোতে অর্থ স্থানান্তর করেছিল। ওই ৮১ মিলিয়ন ডলার থেকে তাদের কাছে যতোটুকু রয়েছে তা এএমএলসি’র কাছে ফেরত দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘তাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব ততোটুকু ফেরত দেওয়া উচিত, যা আমরা বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পারব।’

সিনেটর তেওফিস্তো গুইনগোনা বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে, আমরা আরও বেশি অর্থ পুনরুদ্ধার করতে পারি, যেন তা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যায়। আর এর মধ্য দিয়ে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে পারবো।’ ফিলিপাইনের ব্যুরো অব ইন্টারনাল রেভিনিউ (বিআইআর)-এর কমিশনার কিম হেনারেস বলেছেন, ‘আমরা ওই চুরিতে জড়িত সবার খোঁজ করছি।’

এর আগে এএমএলসি জানিয়েছিল, ফিলরেম ২৮.৭ মিলিয়ন ডলার সোলেয়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোতে পাঠায়, যা পরে জুর কাছে স্থানান্তরিত হয়। অভিযোগমতে, ব্যবসায়ী জুর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন লিজার কোম্পানি এবং ফিলিপাইন ন্যাশনাল ব্যাংকের (পিএনবি) ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১ বিলিয়ন পেসো বা ২১.৬ মিলিয়ন ডলার পৌঁছায় ওয়েকাং জুর কাছে। এর আগে এএমএলসি একই ধরনের অভিযোগ দায়ের করেছিল দিগুইতো এবং ওই চার ব্যক্তির নামে, যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া অর্থ উত্তোলন করা হয়। এএমএলসি জানিয়েছে, তারা জু-এর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ উঠিয়ে নেবে না।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ চুরি করে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে। সেখান থেকে ওই অর্থ ফিলিপিনো পেসোতে রূপান্তরের পর দুটি ক্যাসিনোতে পাঠানো হয়। সূত্র: ইনকোয়ারার, র‍্যাপলার।

/এমপি/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ