behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

পানামা পেপারসদেশে দেশে তদন্ত শুরু, রাশিয়া-চীনের আলাদা সুর

শাহেরীন আরাফাত০১:১২, এপ্রিল ০৬, ২০১৬

.পানামা পেপারসে বিশ্বব্যাপী ক্ষমতাশালী ও ধনীদের অর্থ কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফ্রান্স-অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ড-অস্ট্রিয়া-সুইডেন-নেদারল্যান্ডসসহ বেশকিছু দেশ তাদের নিজ নিজ দেশের অভিযোগ ওঠা ধনী ও ক্ষমতাশালীদের ব্যাপারে তদন্তের কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও বিষয়টি খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। ফাঁস হওয়া নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অর্থ কেলেঙ্কারির তেমন কোনও তথ্য নেই উল্লেখ করে নথিগুলোকে ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়েছে রাশিয়া। একইভাবে চীনের তরফে ফাঁস হওয়া নথিগুলোকে পশ্চিমা ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এরইমধ্যে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আইনি সহায়তা দিয়ে গেছে পানামার সেই আইনি প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকা।

মোস্যাক ফনসেকা নামক আইনি প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে ১১ মিলিয়ন নথিপত্র ফাঁস হওয়ার পর সামনে এসেছে বিশ্বজুড়ে ক্ষমতাধরদের অর্থ কেলেঙ্কারির ভয়াবহ তথ্য। ওই ফাঁস হওয়া নথি ‘পানামা পেপারস’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত কিভাবে কর ফাঁকি দিয়ে সম্পদ গোপন করেন এবং কিভাবে অর্থ পাচার করেন; তা উন্মোচিত হয়েছে নথিগুলো ফাঁস হওয়ার পর।

পানামা পেপারস থেকে দেখা যায়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মোট ৭২ জন বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান তাদের নিজেদের দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক, লিবিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান মুয়াম্মার গাদ্দাফি, আইসল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর ডেভিড গুনলাউগসন, সৌদি বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। আরও রয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের বাবার নাম, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর আত্মীয়ের নাম। এছাড়া এক ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচারের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীর নামও রয়েছে।

আরও পড়ুন: মেকি কোম্পানি আর ট্যাক্স হ্যাভেনের কীর্তি

অভিযুক্তদের অনেকেই নিজেদের নির্দোষ বলে বিবৃতি দিলেও বেশকিছু দেশে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ফাঁসকৃত নথিতে প্রকাশিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কর আইনের আওতায় পড়ে কিনা, তারা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। হোয়াইট হাউজের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘এসব লেনদেনের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতার অভাব ছিল, তবে তাতে নিষেধাজ্ঞা এবং আইন ভঙ্গ হয় কিনা, তা বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখবেন।’

.জার্মান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছেন। সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশটির বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থা বাফিন এই বিষয়ে তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিবে। অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস সহ আরও বেশকিছু দেশের কর্তৃপক্ষও তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। মূলত যে ব্যাংকগুলো অফশোর মেকি কোম্পানিতে অর্থপাচারে সহযোগিতা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদেরকে কেন্দ্র করেই ওই তদন্ত শুরু হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

আর্জেন্টিনার মধ্য-ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট মাউরিসিও মাকরি বাহামাসে তার বাবার তৈরি একটি অফশোর মেকি কোম্পানির পরিচালক। এই তথ্য ফাঁসের পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে। তিনি অবশ্য ওই তথ্যকে অস্বীকার করেননি। তবে নিজেকে নির্দোষও দাবি করেছেন।

টেলিভিশনে এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে মাকরি বলেন, ‘ওটা ব্রাজিলে বিনিয়োগের জন্য আমার বাবার তৈরি একটি অফশোর আর্থিক কোম্পানি, যেখানে আমি তার পরিচালক। আর এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমনিতেই দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দেশটির একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মোস্যাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া নথিতে ব্রাজিলের সাত জন রাজনীতিবিদের নাম রয়েছে, তবে তাদের কেউ রৌসেফের ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে জড়িত নন। ব্রাজিলের রাষ্ট্রীয় কর সংস্থা জানিয়েছে, তারা পানামা পেপারস-এর তথ্য খতিয়ে দেখছে।

হংকং সরকারের রাজস্ব বিভাগও জানিয়েছে, তারা ওই তথ্যগুলো খতিয়ে দেখবে। কোনও দুর্নীতির প্রমাণ পেলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচিআরও পড়ুন: উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচিতে ব্রিটিশ ব্যাংকারের ইন্ধন

 

নথিতে বিলিয়ন ডলার পাচারকারী একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে, যা পরিচালিত হয় একটি রুশ ব্যাংকের মাধ্যমে এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কয়েকজন ঘনিষ্ট সহযোগীও এতে জড়িত বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সম্মতি ব্যতিত এতো বড় কাজ তার ঘনিষ্ঠ লোক করতে পারেন না। রাশিয়া, ক্রিমিয়াকে নিজেদের অংশ করে নেওয়ার পর ব্যাংক রোশিয়া নামের ওই ব্যাংকের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বিষয়টিকে রাশিয়া ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লক্ষ্য মিডিয়ার আক্রমন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এ ধরনের আক্রমন প্রত্যাশিতই। ফাঁস হওয়া নথির অভিযোগকে তিনি ধাপ্পাবাজির অংশ বলে জানান। সোমবার মিডিয়াকে তিনি জানান, এটা পুতিনফোবিয়ার আরেকটি উদাহরণ। তিনি বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এখন অনেক সাংবাদিক রয়েছেন যাদের কাজ সাংবাদিকতা নয়।

আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর ডেভিড গুনলাউগসনও তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক টিভি চ্যানেলে আলোচনার সময় প্রসঙ্গটি আসলে তিনি আলোচনা থেকে উঠে চলে যান। তিনি বিষয়টি অপ্রসাঙ্গিক প্রশ্ন হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে পুরো অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর কোনও প্রতিষ্ঠান কর ফাঁকি দিচ্ছে না বলেও দাবি করা হয়।

ফাঁস হওয়া নথিতে ফিফার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে। অন্যতম অভিযুক্ত উরুগুয়ের ফুটবল সভাপতি ডামিয়ানি এ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনকে তিনি হাস্যকর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে ফিফা জানিয়েছে, অভিযোগ ওঠার পর সংস্থার পক্ষ থেকে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হচ্ছে।

চীনে পানামা পেপারস প্রকাশের পর ‘মিডিয়া সেন্সরশিপ’ আরও জোরালো করা হয়েছে। এ সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হং লেই বলেন, ‘এগুলো ভিত্তিহীন অভিযোগ।’

আরও পড়ুন: পানামা পেপারস-এ মার্কিন নাগরিক না থাকায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন

উল্লেখ্য, আইসিআইজে-র প্রকাশিত ৬১৭ জন মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনও উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি নেই। মোসাক ফনসেকা যুক্তরাষ্ট্রেই নিজের  কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফলে এতে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এবং সমালোচনা প্রবল হচ্ছে।

সবচেয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন উজবেকিস্তানে নিয়োজিত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ক্রেইগ মুরে। সোমবার নিজের ব্লগে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, জার্মান পত্রিকা পশ্চিমা মিডিয়াকে এসব তথ্য প্রকাশ করতে দিয়ে অনেক বড় ভুল করেছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের জের ধরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান প্রথম গুরুত্ব সহকারে খবর প্রকাশ করে। গার্ডিয়ানের খবরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে।

মুরে লিখেছেন, ‘কিন্তু কেন রাশিয়াকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে? মোসাক ফনসেকার সহযোগিতায় যে বিপুল পরিমাণ অর্থ গোপনে বিনিয়োগ করা হয়েছে তার অল্প কিছুর মালিক রাশিয়ানরা। অবশ্য, শিগগিরই এসব নির্বাচিত খবর হাওয়া হয়ে যাবে। পশ্চিমা পুঁজিবাদের আসল রূপ প্রকাশের আশা করা ঠিক হবে না। পশ্চিমা কর্পোরেশনগুলোর নোংরা গোপনীয়তা কখনওই প্রকাশ হবে না।’ মুরে ইঙ্গিত করেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইসিআইজে-র পৃষ্ঠপোষকদের কারণেই কোনও আমেরিকান রাজনীতিবিদ ও উল্লেখযোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকায় ছিল না। 

এদিকে, মোস্যাক ফনসেকার দাবি করেছে, কোনও রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তারা গত ৪০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছে। সোমবার মোস্যাক ফনসেকা তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, সংবাদমাধ্যমে তাদেরকে ‘ভুলভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমদের মক্কেলদের মধ্যে কেউ কোনও অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে অথবা তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা থাকলে আমরা তাদের সাথে যুক্তি ভঙ্গ করি।’ আরও বলা হয়, ‘আমরা আমাদের নির্ধারিত ফি বাদে মক্কেলদের কোনও অর্থ, বা অন্য কোনও কিছু গচ্ছিত রাখি না।’ মোস্যাক ফনসেকা জানায়, কোম্পানির স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য তারা নতুন আন্তর্জাতিক আইনকে সমর্থন করে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট সুজি এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক এইচএসবিসি ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা ওই অফশোর কোম্পানি গঠনের ক্ষেত্রে গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং অর্থের স্থানান্তরে সহযোগিতা করেছে। পানামা পেপারস-এ তাদের বিরুদ্ধে জোরালো প্রমাণ রয়েছে বলে জানা যায়। তবে মঙ্গলবার তারা নিজেদের ওপর করা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ক্রেডিট সুজির সিইও তিদজানে থিয়াম জানান, তারা কেবল বৈধ সম্পদ এবং আর্থিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তিনি বলেন, ‘আমরা কর ফাঁকির কোনও সংস্থান তৈরি করি না। যখন কোথাও তৃতীয় পক্ষের সংযুক্তি থাকে, আমরা তার পরিচয় সম্পর্কেও জানতে চাই।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ধনী মার্কিন নাগরিকদের কর ফাঁকি দিতে সহযোগিতা করার জন্য ক্রেডিট সুজি-কে ২.৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনতে হয়। আর এইচএসবিসি-কে ম্যাক্সিকান মাদক ব্যবসায়ীদের অর্থপাচারে সহযোগিতার জন্য ২০১২ সালে ১.৯২ বিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে হয়।

আরও পড়ুন: পানামা পেপারস: আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করেনি ফনসেকা

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, মোস্যাক ফনসেকা কাজ করতো এমন ৩৩ ব্যক্তিত্ব ও কোম্পানির বিরুদ্ধে ইউএস ট্রেজারির তরফে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে ইরান, জিম্বাবুয়ে ও উত্তর কোরিয়ায় অবস্থিত বেশ কয়েকটি কোম্পানি রয়েছে। একটির আবার উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল। এসব কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব নামে নিবন্ধন করতো ফনসেকা। আর সেকারণে এসব কোম্পানির সত্যিকারের মালিকদের শনাক্ত করা সম্ভব হতো না।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের চাচাতো ভাই রামি মাখলুফের সম্পত্তির পরিমাণ ৫শো কোটি ডলার। সিরিয়ার বিচারিক ব্যবস্থাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং ব্যবসায়িক শত্রুদের দমাতে সিরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ব্যবহার করার অভিযোগে ২০০৮ সালে তার ওপর ইউএস ট্রেজারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অথচ ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও ড্রেক্স টেকনোলজিসসহ মাখলুফের সঙ্গে ছয়টি ব্যবসায় জড়ায় ফনসেকা। ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, এইচএসবিসি-র সুইস শাখা থেকে ফার্মটির জন্য অর্থ সরবরাহ করা হতো।

উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে জার্মানির মিউনিখের একটি পত্রিকা জিড্ডয়েশ সাইটুঙ্গ একটি বেনামা সূত্র থেকে মোস্যাক ফনসেকা-র বিপুল তথ্যভাণ্ডারের সন্ধান পায়। তারা ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস বা আইসিআইজে-র মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানায়। প্রায় এক বছর ধরে ৮০টি দেশের সাংবাদিকরা ওইসব নথি ঘেঁটে তথ্যগুলোকে পৃথক করে সাজান।

ওই তথ্যভাণ্ডারের পরিমাণ ২০১০ সালে উইকিলিকসের ফাঁস করা নথির চেয়েও বেশি। ২০১৩ সালে সাংবাদিকদের কাছে এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা নথির চেয়েও এ সংখ্যা ঢের বেশি। মোস্যাক ফনসেকা-র অভ্যন্তরীণ ডাটাবেজ থেকে ফাঁস হয় ১১.৫ মিলিয়ন নথি এবং ২ দশমিক ৬ টেরাবাইট তথ্য। তবে নথিগুলোর সংগ্রাহক ও প্রকাশকারীর নাম জানানো হয়নি। সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, হাফিংটনপোস্ট, বিবিসি।

/এসএ/আপ-এনএস/

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ