behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

তুরস্কে পৌঁছানো বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হবে

বিদেশ ডেস্ক১২:১৮, এপ্রিল ০৬, ২০১৬

শরণার্থী সঙ্কট মোকাবেলায় তুরস্কের সঙ্গে করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চুক্তি গত মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এরইমধ্যে ইউরোপের দেশগুলো থেকে তুরস্কে শরণার্থী বা অভিবাসন প্রত্যাশীদের ফেরত পাঠানো শুরু হয়েছে। গত সোমবার গ্রিস থেকে প্রায় ২০২ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে তুরস্কে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে তুরস্ক ছাড়াও পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা রয়েছেন। ইইউ-তুরস্ক চুক্তির আওতায় তাদের সেখানে পাঠানো হলেও সিরীয় নয় এমন শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে নারাজ আঙ্কারা। এর ফলে বাংলাদেশি শরণার্থীদেরও ফেরত পাঠানো হবে। এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ।

গ্রিসের অভিবাসন বিষয়ক মুখপাত্র ইয়োর্গোস কিরিটসিস তুরস্কে পাঠানো শরণার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেনেভায় এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর ইউরোপের আঞ্চলিক প্রধান ভিনসেন্ট কোচেটেল। তিনি বলেন, এভাবে সিরিয়ার বাইরে অন্যান্য দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো আইনের লঙ্ঘন। এটা ইইউ এবং আন্তর্জাতিক উভয় আইনেরই পরিপন্থী।

গ্রিস থেকে তুরস্কে পৌঁছানো একদল শরণার্থী।

শুরু থেকেই অবশ্য এ চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। তবে সব সমালোচনা, প্রতিবাদ উপেক্ষা করে তুরস্কের সঙ্গে বিতর্কিত এ চুক্তি স্বাক্ষর করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

তুরস্কের ইইউ বিষয়ক মন্ত্রী ভলকান বোজকির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানিয়েছেন, গ্রিস থেকে আসা অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে যারা সিরীয় নন, তাদের প্রথমে কিরক্লারেলি এলাকায় কিছু দিনের জন্য রাখা হবে। তারপর তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। সেক্ষেত্রে তারা যেসব দেশের নাগরিক তাদের সহায়তা চাওয়া হবে।

বিতর্কিত ইইউ-তুরস্ক চুক্তির আওতায় ২০ মার্চের পর যারা তুরস্ক থেকে গ্রিসে পৌঁছাবেন, তাদের আবার তুরস্কে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে যারা গ্রিসে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করবেন তাদের আবেদন বিবেচনা না করা পর্যন্ত গ্রিসে থাকতে দেওয়া হবে। এছাড়া তুরস্ক গ্রিস থেকে যতজন অভিবাসন প্রত্যাশীকে ফেরত নেবে ঠিক ততজন সিরীয়কে তুরস্ক থেকে ইউরোপে নিয়ে আসা হবে। তবে এর সর্বোচ্চ সংখ্যা হবে ৭২ হাজার। গ্রিস থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে অভিবাসন প্রত্যাশীদের বুধবার তুরস্ক পাঠানোর কথা রয়েছে।

এদিকে এ চুক্তির আওতায় ৪৩ জন সিরীয়কে সোমবার ইউরোপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ জন গিয়েছেন জার্মানিতে। বাকি ১১ জনকে ফিনল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে।

গ্রিসের উপকূলে পরিবারের সঙ্গে দুই শরণার্থী শিশু।

ইইউ-তুরস্ক চুক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে, অভিবাসন প্রত্যাশীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তুরস্ক থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছানোর চেষ্টা থেকে বিরত রাখা। এই উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এফকান আলা। তিনি জানান, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ জন করে মানুষ সাগর পাড়ি দিয়েছেন; যা আগের চেয়ে অনেক কম।

শরণার্থী সংকট নিরসনে ১৮ মার্চ ২০১৬ তারিখে ইইউ ও তুরস্কের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তিকে ঐতিহাসিক হিসেবে আখ্যায়িত করে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু বলেন, আজ আমরা উপলদ্ধি করতে পারছি যে, তুরস্ক ও ইইউর ভাগ্য অভিন্ন। উভয়ের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ অভিন্ন।

এদিকে চলতি সপ্তাহেই এভাবে তুরস্কে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর প্রতিবাদে গ্রিসে বিক্ষোভ করেন একদল মানবাধিকারকর্মী। এ সময় তারা ‘এই নোংরা চুক্তি বাতিল কর’, ‘শরণার্থীদের পাঠানো বন্ধ কর’, ‘ইউরোপ জেগে উঠো’ স্লোগান লেখা ব্যানার বহন করেন।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন বলেছে, ‘আসলে ফেরত পাঠানোর নামে কী হচ্ছে, আমরা জানি না। ইচ্ছার বিরুদ্ধে যদি কাউকে ফেরত পাঠানো হয়, তবে তা অন্যায়।’ সূত্র: ডয়চে ভেলে, রয়টার্স, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

/এমপি/এফএস/ 

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ