Vision  ad on bangla Tribune

‘হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে ৯ বছর বয়সী এক সাংবাদিকের প্রতিবেদন!

বিদেশ ডেস্ক১৭:৩৭, এপ্রিল ০৬, ২০১৬

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় সংঘটিত এক ‘হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে নিজের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদন ও ভিডিও প্রকাশ করে নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হওয়ার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ৯ বছরের শিশু হিলডে কেট লিসিয়াক। তার দাবি, ৯ বছরের শিশু হওয়া মানে এ নয় যে তারা বড় কোনও সংবাদ জানাতে পারবে না।  

ঘটনাটি গত শনিবারের। ফিলাডেলফিয়া থেকে ১৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমের এলাকা সেলিন্সগ্রোভে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটছে বলে ইঙ্গিত পায় কেট। জানতে পারে, কেউ একজন হত্যার শিকার হয়েছেন। খবর পেয়েই বিস্তারিত জানতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় সে। কিন্তু ঘটনাস্থলে তখনও কোনও রিপোর্টার পৌঁছাননি। পুরো ঘটনাটি নিয়ে নিজেই একটি প্রতিবেদন তৈরি করে ৯ বছরের ছোট্ট মেয়েটি। পরে অরেঞ্জস্ট্রিটনিউজ.কম নামে নিজের ওয়েবসাইটে ওই প্রতিবেদনটির পাশাপাশি একটি ভিডিও প্রকাশ করে সে। প্রতিবেদনের শিরোনাম দেওয়া হয়, ‘এক্সক্লুসিভ: মার্ডার অন নাইনথ স্ট্রিট!’ 

৯ বছরের শিশু কেট

প্রতিবেদনে লেখা হয়, ‘এক লোক হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ বিস্তারিত জানাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এ ব্যাপারে মিডিয়ায় কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে।’ 

তবে প্রতিবেদন ও ভিডিও পোস্টের খানিক বাদেই কেটের ফেসবুক পাতা ও ইউটিউব চ্যানেল নানা মন্তব্যে ভরপুর হয়ে ওঠে। তার সাহসী পদক্ষেপের বিপরীতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান অনেকে। কেটকে এসব না করে পুতুল নিয়ে খেলার কিংবা আড্ডা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কেউ কেউ আবার মেয়েকে এ ধরনের কাজের অনুমতি দেওয়ায় লিসিয়াকের বাবা-মার বিবেক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 

এমন অবস্থায় পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় কেট। মঙ্গলবার কেট লিখেছে, ‘এটি আমাকে খুব রাগিয়ে তুলেছে। কারণ, আমার বয়স ৯ বছর মানেই এ নয় যে আমি বড় সংবাদ জানাতে পারি না। এর মানে এই নয় যে, আমি রিপোর্টার হতে পারি না।’

২০১৪ সাল থেকে অরেঞ্জ স্ট্রিট নিউজ নামের ওয়েবসাইটটি পরিচালনা করছে কেট। মূলত সাংবাদিক বাবা ম্যাথিউ লিসিয়াক এবং ১২ বছর বয়সী বোন ইসাবেল লিসিয়াকই তার অনুপ্রেরণা। ম্যাথিউ নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজের সাবেক রিপোর্টার। আর ইসাবেল বিভিন্ন ভিডিও ও ফটো নিয়ে কাজ করে থাকে। অরেঞ্জ স্ট্রিট নিউজ নামের ওয়েবসাইটটি কমিউনিটিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হয়ে উঠেছে। ওয়েবসাইটের পাশাপাশি এটি ফেসবুকেও পরিচালনা করা হয়ে থাকে।  


‘পারিবারিক এ ওয়েবসাইটটিতে সাধারণত বিস্ময় চিহ্ন দিয়ে ছোট ছোট স্টোরি প্রকাশ করা হয়ে থাকে। ম্যাথিউ জানান, সাধারণত তার মেয়ের রিপোর্টগুলো নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘ও সাংবাদিকতার ব্যাপারে খুব আগ্রহী। আমার বড় মেয়েও তাই। তারা অনেক প্রশ্ন করে আমাকে।’ 

৯ বছরের সাংবাদিক কেট

ম্যাথিও জানান, সাধারণত কোনও মন্তব্য নিয়ে কেট প্রতিক্রিয়া দেখায় না। কিন্তু এবারের মন্তব্যে তাকে চা চক্রে আড্ডা দেওয়ার পরামর্শ সে মেনে নিতে পারেনি। 

উল্লেখ্য, কেটের পোস্ট করা শনিবারের প্রতিবেদনে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ওয়েবসাইটটিতে একজন লিখেছেন, ‘এতো ছোট একটি মেয়ে নিজেকে সত্যিকারের সাংবাদিক ভাবছে, এটি খুবই লজ্জার। চায়ের আড্ডা কি নেই? ৯ বছরের মেয়ের পুতুল নিয়ে খেলার কথা, রিপোর্টার হওয়ার চেষ্টা করার কথা নয়।’

আর তাতে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রবিবার কেট লিখেছে, ‘আমি জানি, এ ধরনের কাজ আপনাদের কাউকে কাউকে অস্বস্তিতে ফেলবে। আমি জানি যে আপনাদের কেউ কেউ চান আমি বসে থাকি এবং চুপ করে থাকি কারণ আমার বয়স ৯ বছর। কিন্তু আপনারা যদি চান আমি সংবাদ প্রকাশ করা বন্ধ করে দিই, তবে বলব আপনারা কম্পিউটারের সামনে থেকে উঠে যান এবং নিজেরাই খবর নিয়ে কাজ করুন। আপনাদের জন্য কি সেটাই ভালো হবে না?’ সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ডেইলি মেইল, গার্ডিয়ান

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ