Vision  ad on bangla Tribune

এখনই ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না রিজার্ভের চুরি হওয়া অর্থ

বিদেশ ডেস্ক১৪:৪৮, এপ্রিল ০৭, ২০১৬

nonameযুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাউন্ট থেকে ফিলিপাইনের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থের যে অংশ চীনা ব্যবসায়ী কিম অং ফেরত দিয়েছেন, তা এখনই  বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে খবর প্রকাশ করেছে ফিলিপাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জিএমএ নিউজ অনলাইন। এদিকে ফিলিপাইনভিত্তিক আরেক সংবাদমাধ্যম র‍্যাপলার খবর দিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অর্থ ফেরত পেতে খানিক সময় লাগবে বলে নিজেই জানিয়েছেন ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ। আর অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁসকারী ফিলিপাইনি সংবাদমাধ্যম ইনকোয়ারারকে একজন আইনজ্ঞ বলেছেন, শর্টকাট রাস্তা ব্যবহার না করে যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে টাকা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ চুরি করে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে। সেখান থেকে ওই অর্থ ফিলিপিনো পেসোতে রূপান্তরের পর দুটি ক্যাসিনোতে পাঠানো হয়। পরে জানা যায়, চুরি হওয়া ওই অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে চীনা ব্যবসায়ী কিম অংয়ের। সিনেট শুনাতিতে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকারও করেন তিনি। ৪ এপ্রিল (সোমবার)কিম অং ফিলিপাইনের আর্থিক দুর্নীতি তদন্তকারী সংস্থা অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের (এএমএলসি) কাছে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৩৯২ ডলার ফেরত দেন। এর আগে ৩১ মার্চ (বৃহস্পতিবার) তিনি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দেন।পাচার হওয়া অর্থের সেই একাংশ ফেরত নিতে এ মাসের শুরুতে বাংলাদেশের তদন্তকারী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের
প্রতিনিধিরা ম্যানিলা গেলেও সেই অর্থ পুনরুদ্ধার নিয়ে এরইমধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ ৫ এপ্রিল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, রশিদে স্বাক্ষর করিয়ে দুই ধাপে তাদের হাতে চীনা বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী কিম অংয়ের ফেরত দেওয়া অর্থ তুলে দেওয়া হলেও পরে তা ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে রেখে দেওয়া হয়েছে। পরে ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যম র‍্যাপলারকে তিনি এক লিখিত বার্তায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ‘টাকা বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে খানিক সময় লাগবে। তবে কিভাবে দ্রুততর প্রক্রিয়ায় কাজটি করা যায়, তার জন্য আমরা ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।’

তেওফিস্তো গুইনগোনা

মঙ্গলবারের শুনানিতে এএমএলসি নির্বাহী পরিচালক জুলিয়া বাকে-আবাদ জানান, অং ওই অর্থ কেবল ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রেখেছেন। অং এএমএলসি-কে ওই অর্থ বাংলাদেশ সরকারের কাছে ফেরত দেওয়ার কথা বলেননি। তবে তারা এ বিষয়টি ফয়সালা করার চেষ্টা করছেন বলেও জানান আবাদ। বুধবার এএমএলসি এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের বৈঠকের পর ব্লু রিবন কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর তেওফিস্তো গুইনগোনা জানান, দেওয়ানি বাজেয়াপ্তকরণের মামলার মাধ্যমে কিম অংয়ের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার হওয়া অর্থ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। ম্যানিলার রিজিওনাল ট্রায়াল কোর্টে এই মামলা হবে। তবে সংবাদমাধ্যম র‍্যাপলার বলছে, এই মামলা নিস্পত্তি করে টাকা ফেরত পাওয়াটা যথেষ্ট ধীরগতির এক প্রক্রিয়া হবে। টাকা ফেরত পেতে সময় লাগবে বাংলাদেশের।

ফিলিপাইন যে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে টাকা ফিরিয়ে দেবে না, তার আভাস পাওয়া গেছে সেখানকার সংবাদমাধ্যম ইনকোয়ারারকে দেওয়া এক আইনজ্ঞের সাক্ষাৎকারেও। ফিলিপাইনের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একজন শিক্ষক আমাদো ভালডেজ মন্তব্য করেছেন, কোনওভাবেই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এই টাকা বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত হবে না। ‘শর্টকাট প্রক্রিয়া ব্যবহার করার কারণেই আজ আমাদের এই অবস্থা। টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনওভাবেই শর্টকাট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যাবে না। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’ বাংলাদেশকে ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় টাকা ফেরত দেওয়া যেতে পারে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনিও ওই টাকাকে বাজেয়াপ্তকরণ মামলার আওতায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। 

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ (বামদিক থেকে তৃতীয়)

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের সিনেট শুনানির পর এএমএলসি নির্বাহী পরিচালকের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ সাংবাদিকদের কাছে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই বিষয়টি আমাদের কাছে একদমই নতুন। কারণ এর আগে আমাদের কাছে এএমএলসি একটি লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছিল, এএমএলসি অফিসে গিয়ে আমাদের অর্থ সংগ্রহ করার জন্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এর আগে একটি রসিদে স্বাক্ষর করে ৪.৬৩ মিলিয়ন ডলার গ্রহণ করেছিলাম। দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব ওই অর্থ গণনা করেন। গতকাল আমি এক রসিদে স্বাক্ষর করে ৩৮.২৮ মিলিয়ন পেসো (ফিলিপাইনের মুদ্রা) গ্রহণ করি। দূতাবাস প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ওই অর্থ গণনা করেন। ওই অর্থ আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং আমরা তা গ্রহণও করি। কিন্তু এরপর ওই অর্থ গেল ভল্টে।’ পরে সিনেটর তেওফিস্তো গুইনগোনার সঙ্গে বৈঠক হয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে টেলি-সাক্ষাৎকারে সিনেটর বলেন, ‘এএমএলসি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের মধ্যকার বৈঠকে এএমএলসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কিম অং লিখিত অনাপত্তি না দিলেও তারা দেওয়ানি বাজেয়াপ্তকরণের মামলা দায়ের করে অর্থ হস্তান্তর প্রক্রিয়া এগোতে আদালতের আদেশ নিবে।’ আদালতের আদেশ পাওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের কাছে অর্থ হস্তান্তরে আর কোনও আইনি বাধা থাকবে না বলে জানান তিনি। বৈঠকের পরই টাকা ফিরে পেতে ‘খানিক সময় লাগবে’ বলে জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। সূত্র: র‍্যাপলার, জিএমএ নিউজ অনলাইন, ফিলস্টার, ইনকোয়ারার। 

/বিএ/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ