Vision  ad on bangla Tribune

কন্যাসন্তান জন্ম দিতে না পারার হতাশায় সদ্যোজাত পুত্রকে খুন

বিদেশ ডেস্ক১৬:১৫, এপ্রিল ০৭, ২০১৬

ক্রাইম সিনভারতের হায়েদ্রাবাদের এক মায়ের বিরুদ্ধে ২৪ দিন বয়সী সদ্যোজাত পুত্রের গলা কেটে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে ওই নারী তৃতীয়বারের মতো কন্যাসন্তান জন্ম দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে শেভিং ব্লেড দিয়ে ২৪ দিন বয়সী শিশু পুত্রের গলা কেটে রাস্তায় ফেলে দিয়েছেন। পরে তার সন্তান মারা যায়।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে যখন কেউ ছিল না তখনই পূর্ণিমা নামের ৩০ বছর বয়সী ওই নারী ভয়ঙ্কর ওই কাজ সম্পাদন করেন। পূর্ণিমার প্রথম পুত্র সন্তানটি ছিল জন্মগতভাবে মৃত। ৫ বছর আগে তিনি আরেকটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি। তৃতীয়বারের মতো গর্ভধারণের পর পূর্ণিমা মেয়ে সন্তান জন্ম দেবেন বলে বিশ্বাস করতেন।

কিন্তু তিন সপ্তাহ আগে আবারও ছেলে জন্মানোর পর হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। দোকানদার স্বামীকে তিনি বলেন যে নবজাতককে যেন সন্তানহীন দম্পতিদের দিয়ে দেওয়া হয়। তবে পরিবারের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ার পর আরও বেশি হতাশ হয়ে পড়েন পূর্ণিমা। ধীরে ধীরে নবজাতকের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে থাকেন।

তবে মঙ্গলবার রাতে সে হতাশা চরম ও মর্মান্তিক রূপ ধারণ করে। ওইদিন স্বামী শ্রীধর রাজুকে ফোন করেন পূর্ণিমা। তিনি জানান, বাড়িতে ডাকাত এসেছে। বাচ্চার ওপর হামলা করেছে এবং তার স্বর্ণের ‘মঙ্গলসূত্র’ নিয়ে গেছে। নেরেদমেত এলাকায় একটি কসমেটিকসের দোকান চালান শ্রীধর। খবর পেয়েই বাড়িতে ছুটে যান তিনি। বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরের এলাকায় গিয়ে দেখতে পান, তার স্ত্রী রাস্তার পাশে অচেতন সন্তানকে নিয়ে বসে আছেন।

পুলিশ জানায়, স্বামীকে পূর্ণিমা বলেন, দুটি বাইকে করে আসা ডাকাতরা তার মুখে কিছু ছুড়ে দিয়েছিল আর তাতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান আসার পর রাস্তায় ছেলেকে ওই অবস্থায় পান বলে জানান তিনি। গলাকাটা ছেলেকে নিয়ে দ্রুত টারনাকার সুরক্ষা হাসপাতালে যান শ্রীধর ও পূর্ণিমা। পরে তাদেরকে গান্ধী হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

নেরেদমেত পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার মধ্যরাতে তারা নবজাতকের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। পরে পূর্ণিমার জবানবন্দি ও আচরণ তাদের কাছে সন্দেহজনক বলে মনে হয়। নেরেদমেত পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘উনি একটুও কাঁদছিলেন না। যেখানে ঘটনা হওয়ার দাবি করেছেন সে রাস্তায়ও কোনও রক্ত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানান, ধারালো কিছু দিয়ে ওই শিশুর গলা কাটা হয়েছে। আর সে কারণে বুধবার আমরা পূর্ণিমাকে পাকড়াও করেছি।’

এরইমধ্যে পূর্ণিমার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

/এফইউ/বিএ/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ