ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে আসন্ন অলিম্পিক গেমসের মাত্র চার মাস বাকি। কিন্তু এই শহর এত বড় আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত কিনা সেটা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক ভেন্যু তৈরির কাজ এখনও শেষ হয়নি। প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ রয়েছেন রাজনৈতিক সংকটে। তার উপর রয়েছে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক। সব মিলিয়ে অলিম্পিক গেমসের জন্য কতটা প্রস্তুত রিও ডি জেনিরো? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
পুরো রিও ডি জেনিরোজুড়ে এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার এক মরিয়া চেষ্টা। আগস্টের শুরুতেই অলিম্পিক গেমস। কিন্তু অনেকগুলো ভেন্যু শুধু বাইরে থেকে দেখতে প্রস্তুত। প্রতিযোগিতার জন্য ভেতরে এখনো অনেক কিছুই প্রস্তুত নয়। এখনো চলছে কয়েকটি ভেন্যুতে যাওয়ার সংযোগ সড়ক তৈরির কাজ।
রিও অলিম্পিক আয়োজক কমিটি চেয়েছিল অসাধারণ এক অলিম্পিক পার্ক দিয়ে সবাইকে চমকে দেবে। কিন্তু তাতে কোনও চমক চোখে পড়ছে না। সবকিছু ছাপিয়ে দেশটিতে চলছে রাজনৈতিক বিক্ষোভ।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ অলিম্পিক উদ্বোধন করতে পারবেন কিনা সেটি নিশ্চিত নয়। কারণ তিনি রয়েছেন অভিশংসনের আশঙ্কার মুখে। তার সরকারের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দল কোয়ালিশন থেকে বেরিয়ে গেছে।
রিও অলিম্পিক কমিটির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ আয়োজক কমিটির বেশকিছু কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন।
রিও অলিম্পিক কমিটির মারিও আন্দ্রাদা বলেন, অলিম্পিকের ইতিহাসে কোন আয়োজক দেশ এতটা সংকটের মধ্যে দিয়ে যায়নি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে অলিম্পিকস আয়োজনের ওপর এর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে অথবা খেলার আয়োজনে আমরা কোনও আপস করবো।
অন্যদিকে রিও শহরজুড়ে চলছে মশার সঙ্গে যুদ্ধ। মশাবাহিত জিকা ভাইরাসে ব্রাজিল এক দুর্যোগের মুখে। হাজার হাজার মানুষ জিকায় আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যান্য দেশের গর্ভবতী নারীদের ব্রাজিলে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
অলিম্পিক দেখতে আসা দর্শকদের কি হবে? তারাও জিকা আক্রান্ত হয়ে পড়বেন কিনা সেটা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। ফাবিয়ানা অলিভিয়েরা বেইজিং ও লন্ডনে ভলিবলে দুবার গোল্ড মেডেল জিতেছেন। এখন তার নিজের দেশেই আসছে অলিম্পিক। কিন্তু আয়োজনজুড়ে এত সংকট তার মনে উত্তেজনার বদলে জুড়ে দিয়েছে উদ্বেগ।
তিনি বলেন, আমার দুঃখ লাগছে এটা ভেবে যে সবাই এই আয়োজনের ব্যাপারে মনোযোগী নয়। এটিকে সফল করে তোলা দিকে তাদের নজর নেই। আমার দেশ কঠিন সময় পার করছে সেজন্যও আমার দুঃখ হচ্ছে। কিন্তু আমার দেশের মানুষের যে সংগ্রামী স্পৃহা, আশা করি এবারের অলিম্পিক গেমসের মাধ্যমে তা প্রকাশ পাবে।
রিও অলিম্পিকের টিকিট বিক্রি অন্যান্য বারের মতো এখনো তেমন একটা জমে উঠেনি। অনেকেই নিরুৎসাহিত হচ্ছেন সেখানে যেতে। যদিও সাধারণত অলিম্পিক গেসসের আয়োজক শহর সবসময়ই এক ধরনের বিশেষ সম্মান পায়। কিন্তু রিও ডি জেনিরো সেই সম্মান কতটা রাখতে পারবে সেটা নিয়ে এখন উদ্বেগ রয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।
/এমপি/








