প্রভাব খাটিয়ে ড. ইউনূসকে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার পাইয়ে দিয়েছেন হিলারি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:৪০, এপ্রিল ২০, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১০, এপ্রিল ২০, ২০১৬





ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও হিলারি ক্লিনটন

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে হিলারি ক্লিনটন তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের অন্যতম দাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার তহবিল জুগিয়েছেন। ২০১১ সালে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরও ইউনূসকে এ তহবিল সংগ্রহ করে দেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি কলার নিউজ ফাউন্ডেশনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। রবিবার (১৭ এপ্রিল) এ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউএসএআইডির ১৮টি পৃথক লেনদেনের মাধ্যমে এ তহবিল দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় লেনদেনের ওয়েবসাইট ইউএসএস্পেনডিং ডট গভ-এ এসব লেনদেন তালিকাভুক্ত আছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, কীভাবে হিলারি ক্লিনটন রাষ্ট্রীয় ও ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের কাজকে একত্রিত করেছেন।
সংস্থাটির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনূস প্রায় ৩ লাখ ডলার দিয়েছেন ক্লিনটন ফাউন্ডেশনকে।

আরও পড়ুন- শফিক রেহমান: গ্রেফতার তত্ত্বে নতুন মোড় ঢাকায় ২৩ মার্চের বৈঠক

ইউনূসের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গোষ্ঠী ইউএসআইডির কাছ থেকে আরও ১ কোটি ১০ লাখ ডলার পেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সবার সঙ্গে ইউনূসের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।
ডেইলি কলারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন দশক ধরে বিল ও হিলারি ক্লিনটনের সহযোগিতা পেয়ে আসছেন ইউনূস। উভয়েই ইউনূসকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন। ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানগুলোতে ইউনূসকে সেলিব্রিটি হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। ২০০৬ সালে ইউনূসের নোবেল পুরস্কার জয়ের জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে কৃতিত্ব দেওয়া হয় ওই প্রতিবেদনে।

হিলারি ও ড. ইউনূস
বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসায় দেশটির তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এ নিয়ে তদন্তও করতে পারে বলে মনে করেন সংস্থাটির সাবেক এক কর্মকর্তা। রবার্ট টি. হসকো নামে ব্যুরোর অপরাধ বিভাগের ওই সাবেক সহকারী পরিচালক জানান, ডেইলি কলার নিউজ যদি এ তথ্য পেয়ে থাকে, তাহলে এফবিআইও তা পেয়েছে। নিশ্চিতভাবেই এফবিআই জানতে চাইবে এ সম্পর্কের প্রকৃতি কেমন ছিল। তিনি আরও বলেন, এফবিআই অনুসন্ধান করবে রাষ্ট্রীয় কাজে দুর্নীতি ছিল কি না।
তবে এ বিষয়ে এফবিআই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে দ্য ডেইলি কলার নিউজ ফাউন্ডেশনকে জানানো হয়, আমরা যেসব বিষয়ে তদন্ত করছি তা সম্পর্কে সাধারণত মন্তব্য করি না।

আরও পড়ুন- নিউ ইয়র্ক প্রাইমারিতে ট্রাম্প ও হিলারি জয়ী

অবশ্য, ইউনূসের পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা কখনও গোপন রাখেননি হিলারি। ২০১১ সালে ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার তদন্ত শুরুর পর হিলারি এ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। বাংলাদেশে বিষয়টি ব্যাপক সমালোচিত হয়।
হিলারি ক্লিনটনের ফাঁস হওয়া ই-মেইল থেকে জানা যায়, ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের তদন্ত খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন বিল ও হিলারি। সূত্র: দ্য ডেইলি কলার।
/এএ/টিএন/

লাইভ

টপ