ভারতে নারীর প্রতি বৈষম্য প্রতিরোধে এক অভিনব প্রতিরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন পারি দেশটির এক ধর্মীয় গোষ্ঠীর নারী নেতা। পবিত্র জলে স্নানের অধিকার থেকে নারীকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করেন পারি আখারা নামের ধর্মীয় সংগঠনের নারী সাধু ত্রিকাল ভাওয়ানতাভ।
সম্প্রতি ভারতের একটি আদালতের রায়ে মন্দিরে নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকা প্রাচীন প্রথা তুলে দেন। আদালত জানিয়েছেন, মন্দিরে প্রবেশ নারীদের মৌলিক অধিকার।
এই প্রেক্ষাপটেই মঙ্গলবার মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়ন শহরে ভারতের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব কুম্ভ মেলায় একটি কবর খুঁড়ে তাতে বসে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক রীতিনীতির প্রতিবাদ জানান ত্রিকাল সাধু। পবিত্র গঙ্গাজলে ‘শাহী স্নান’ উৎসবে নারীর অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ করেন তিনি।
কবরের মত গভীর গর্তে ধ্যানে বসলে ভক্তরা পারি আখারার ত্রিকাল সাধুকে ফুল ছিটিয়ে সমর্থন ও ভক্তি জানায়। তবে স্থানীয় পুলিশের হস্তক্ষেপে এই প্রতিবাদ ব্যাহত হয়।
উল্লেখ্য, ভারতের অনেক ধর্মীয় গোষ্ঠীর (আখারা) একটি পারি আখারা। এই গোষ্ঠীর নেতা ত্রিকাল ভবন্তকে অন্য অনেক গোষ্ঠীই স্বীকার করে না, কেননা এই গোষ্ঠীর প্রধান ধর্মীয় নেতা একজন নারী। ত্রিকাল ভবন্ত এই গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেন ২০০০ সালে। বলা হয়ে থাকে, পারি আখারাই একমাত্র নারীপ্রধান ধর্মীয় গোষ্ঠী।
মঙ্গলবার ঘটনাস্থল থেকে এএফপি একজন ফটোগ্রাফার জানান, গঙ্গী নদীতে শাহী স্নানে পুরুষরা যে সুবিধা পান, নারী সাধুরা একই সুবিধার দাবি জানিয়েছেন। হিন্দুস্তান টাইমসকে ওই ফটোগ্রাফার বলেন, ‘একজন পুরুষ যেটা করতে পারেন, একজন নারীও তা করতে পারবেন বলে দাবি করা হয়েছে।’
নারী নেত্রী ভবন্ত বলেন, ‘আমরা কখনোই প্রশাসনকে বলিনি যে আমাদের স্বীকৃতি দিতে হবে। আমরা কেবল কিছু সুবিধা চেয়েছি।’
প্রসঙ্গত, উজ্জয়ন শহরে হিন্দুধর্মের কুম্ভমেলা উৎসব প্রতি ১২ বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়। যদিও ভারতের অন্য শহরগুলো প্রতি তিন বছরে একবার এ উৎসব হয়। সূত্র: বিবিসি, হিন্দুস্থান টাইমস
/ইউআর/বিএ/








