হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল আগামীকাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

Send
জার্নি রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৩৯, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪১, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল (ছবি: সংগৃহীত)ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমাহারে সাজানো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর)। সন্ধ্যায় এর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষে শিগগিরই বাণিজ্যিকভাবে খুলে দেওয়া হবে এ হোটেল। বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল এসব তথ্য জানান। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সময় আরও ছিলেন বিমান ও পর্যটন সচিব মো. মহিবুল হক, বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেডের (বিএসএল) এমডি মোকাব্বের হোসেন প্রমুখ।

১৯৬৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল এ দেশের প্রথম পাঁচতারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের। স্থপতি উইলিয়াম বি ট্যাবলারের চমৎকার নকশায় সাজানো হোটেলটি এখনও চমৎকার স্থাপত্যশিল্পের নিদর্শন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালোরাতে জীবনবাজি রেখে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যার ছবি ধারণ করেছিলেন হোটেলে ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থানরত বিবিসির বিখ্যাত সাংবাদিক মার্ক টালি ও সাইমন ড্রিং, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পাকিস্তান ব্যুরো চিফ আর্নল্ড জেইটলিন, ক্লেয়ার হলিংওর্থ, ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদক ডেভিড গ্রিনওয়ে। এসব ছবির মাধ্যমে বিশ্ব জানতে পেরেছিল বাংলাদেশে নৃশংসতার কথা।

১৯৮৩ সাল পর্যন্ত হোটেলটির নাম ছিল ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল’। এরপর স্টারউড কোম্পানির সঙ্গে সরকারের চুক্তি হওয়ায় ১৯৮৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ‘ঢাকা শেরাটন হোটেল’ নামে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলে। শেরাটনের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘রূপসী বাংলা হোটেল’ নামে এটি পরিচালিত হয়।

২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের (আইএইজি) সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি করে হোটেলটির মালিক প্রতিষ্ঠান বিএসএল। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধের পর ২০১৫ সালের মার্চে এর সংস্কার কাজ শুরু হয়। ‘হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল’ নামে এখন এটি আবারও চালু হচ্ছে।
রূপসী বাংলা হোটেলে ছোট-বড় মিলিয়ে কক্ষ ছিল ২৭২টি। সংস্কারের পর এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৩১টি। আয়তনের দিক থেকে কক্ষের আকার ২৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ স্কয়ার মিটার। বিশ্বমানের অতিথিসেবা নিশ্চিত করতে পরিবর্তন করা হয়েছে সুইমিং পুল ও ডাইনিং হলের স্থান। এর আগে হোটেলটির বলরুম ছিল একদিকে, উইন্টার গার্ডেন নামে সবচেয়ে বড় হলরুমের অবস্থান ছিল আরেকদিকে। এখন দুটি একত্র করে দেওয়া হয়েছে। হোটেলটির মূল ফটকও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেতরের সুইমিং পুলও স্থানান্তর করে সাজানো হয়েছে নতুনভাবে। গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। সংস্কার কাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬২০ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন-
মোগল স্থাপত্যশৈলী নিয়ে আসছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল




/সিএ/জেএইচ/
টপ