যেসব এয়ারলাইনস সবচেয়ে সময় বজায় রেখে চলে

Send
জার্নি ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:২৭, জানুয়ারি ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৪৪, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

সময় কেইবা নষ্ট করতে চায়! তবুও বিভিন্ন বাহনে চড়ার ক্ষেত্রে কিছু সময় এদিক-সেদিক হয়। বিমান ভ্রমণের বেলায় ফ্লাইট বিলম্বের ঘটনা হরহামেশাই ঘটে। ডিউটি ফ্রি শপে কতক্ষণই আর ঘোরাঘুরি করা যায়। তবে বিশ্বজুড়ে কিছু এয়ারলাইনস নিয়মিত নির্ধারিত সময়ে উড্ডয়ন ও অবতরণ করে।

সবচেয়ে সময় বজায় রেখে চলে এমন এয়ারলাইনসগুলোর র‌্যাংকিং তৈরি করেছে এভিয়েশন তথ্য সংস্থা ফ্লাইট গ্লোবাল। প্রতিষ্ঠানটির সিইও ক্রিস্টোফার ফ্লুক জানান, ৬০০টি সূত্র থেকে পাওয়া প্রতিদিন ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় বিশ্লেষণ করে দেখেছেন তারা। নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিটের মধ্যে উড্ডয়ন কিংবা অবতরণের ওপর ভিত্তি করে নম্বর পেয়েছে এয়ারলাইনসগুলো।

বিশ্বের সবচেয়ে সময়নিষ্ঠ এয়ারলাইনের তালিকায় শীর্ষে আছে ডেলটা এয়ার লাইনস। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর এক নম্বর জায়গাটি দখল করেছে মার্কিন বিমান সংস্থাটি। ২০১৮ সালে নির্ধারিত সময়ে উড্ডয়ন ও অবতরণের দিক দিয়ে ডেলটা এয়ারলাইনসের হার ৮৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। ২০১৭ সালের তুলনায় এই সংখ্যা শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ বেশি। স্বাভাবিকভাবে উত্তর আমেরিকান বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যেও ডেলটা এয়ার লাইনস এবার শীর্ষে।

আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে দুই নম্বরে আছে কাতার এয়ারওয়েজ। নির্ধারিত সময়ে অবতরণের ক্ষেত্রে কাতারের পতাকাবাহী এই সংস্থার হার ৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। তিনে রয়েছে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা কেএলএম (৮৫ দশমিক ০৪ শতাংশ)। ইউরোপিয়ান এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে এটাই আছে এক নম্বরে।

এশিয়া-প্যাসিফিকের মধ্যে জাপান এয়ারলাইনস ৮৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ নম্বর নিয়ে আছে শীর্ষে। শীর্ষ দশে এরপর আছে যথাক্রমে অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (৮৪ দশমিক ২০ শতাংশ), সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস (৮৩ দশমিক ৫২ শতাংশ), ইন্ডিগো (৮১ দশমিক ১০ শতাংশ), থাই এয়ারএশিয়া (৮০ দশমিক ৯৭ শতাংশ), ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া (৭৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ), কানটাস (৭৮ দশমিক ০৫ শতাংশ), জেট এয়ারওয়েজ (৭৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ), স্পাইসজেট (৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ), কোরিয়ান এয়ার (৭৩ দশমিক ২২ শতাংশ)।

মধ্যপ্রাচ্য-আফ্রিকার মধ্যে তালিকায় আছে কাতার এয়ারওয়েজ (৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ), এমিরেটস (৮২ শতাংশ), ফ্লাইদুবাই (৭২ দশমিক ৬৫ শতাংশ), সাউদিয়া (৭১ দশমিক ৩০ শতাংশ) ও ইজিপ্টএয়ার (৬৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ)। লাতিন আমেরিকার বিমান সংস্থার মধ্যে এক নম্বরে আছে কোপা এয়ারলাইনস (৮৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ)।

নির্ধারিত সময়ে সেবা দেওয়ার পুরস্কারের ১০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম বাজেট এয়ারলাইনস বিভাগে যৌথভাবে এক নম্বরে আছে ব্রাজিলের আজুল ও স্পেনের আইবেরিয়া এক্সপ্রেস। দুটি বিমান সংস্থাই পেয়েছে গড়ে ৮৬ দশমিক ১৭ শতাংশ।

বাজেট এয়ারলাইনস বিভাগে ভারতের ইন্ডিগো ৮১.১ শতাংশ নম্বর নিয়ে তিন নম্বরে ও মালয়েশিয়ার এয়ারএশিয়া (৮০.৯৭ শতাংশ) আছে চার নম্বরে।

সবচেয়ে সময়নিষ্ঠ ১০ এয়ারলাইনস
১. ডেলটা এয়ার লাইনস (৮৬ দশমিক ০৯ শতাংশ)
২. কাতার এয়ারওয়েজ (৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ)
৩. কেএলএম (৮৫ দশমিক ০৪ শতাংশ)
৪. অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ-এএনএ (৮৪ দশমিক ২ শতাংশ)
৫. অ্যারোফ্লট (৮২ দশমিক ৯৮ শতাংশ)
৬. অ্যালিটালিয়া (৮২ দশমিক ২৭ শতাংশ)
৭. এমিরেটস (৮২ শতাংশ)
৮. ইউনাইটেড এয়ারলাইনস (৮০ দশমিক ৭৫ শতাংশ)
৯. আমেরিকান এয়ারলাইনস (৮০ দশমিক ২৮ শতাংশ)
১০. স্ক্যান্ডিনাভিয়ান এয়ারলাইনস-এসএএস (৭৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ)

এদিকে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক বিমান ভ্রমণ বিষয়ক তথ্য সংস্থা ওএজি সবচেয়ে সময় বজায় রেখে চলে এমন এয়ারলাইনসের র‌্যাংকিং তৈরি করেছে। ২০১৮ সালের ৫ কোটি ৮০ লাখ ফ্লাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে এটি সাজানো হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে সময়নিষ্ঠ এয়ারলাইনের তালিকায় শীর্ষে আছে লাতিন আমেরিকার বিমান সংস্থা কোপা এয়ারলাইনস। পানামার এই পতাকাবাহী বিমান সংস্থার ফ্লাইটগুলো সময় বজায় রেখে চলেছে ৮৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

ওএজি’র র‌্যাংকিংয়ে গত বছর শীর্ষে থাকা লাটভিয়ার পতাকাবাহী বিমান সংস্থা এয়ারব্যালটিক নেমে গেছে দুই নম্বরে। তবে ইউরোপের শীর্ষ এয়ারলাইন খেতাব ধরে রেখেছে এটি। সবচেয়ে বড় উন্নতি হয়েছে ব্যাংকক এয়ারওয়েজের। গত বছরের চেয়ে এবার সময় বজায় রেখে চলার হার ১০ শতাংশ বেড়েছে এর। এটি আছে পাঁচ নম্বরে।

একই তালিকায় চিলির লাতাম এয়ারলাইনস গ্রুপ ৩৬ থেকে একলাফে ৭ নম্বরে ও নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা কেএলএম ৩০ থেকে উঠে এসেছে ১০ নম্বরে। গতবার চার নম্বরে থাকা জাপান এয়ারলাইনস চার থেকে নেমে গেছে ১৩ নম্বরে। আফ্রিকার সবচেয়ে সময়ানুবর্তী বিমান সংস্থা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাঙ্গো (৮২ দশমিক ৮৮ শতাংশ)।
সূত্র: ডেইলি মেইল, সিএনএন



/জেএইচ/
টপ