নাটোরের চলনবিল জাদুঘরে উপমহাদেশের দুর্লভ অনেক নিদর্শন

Send
সুরজিত সরকার
প্রকাশিত : ২৩:০০, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১৬, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৯

নাটোর জেলার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে অন্যতম ‘চলনবিল জাদুঘর’। প্রায় চার দশক আগে ১৯৭৮ সালে গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর গ্রামে এটি প্রতিষ্ঠা করেন প্রফেসর আব্দুল হামিদ। তাকে সহযোগিতা করেন এলাকাবাসী। এটাই জেলার একমাত্র জাদুঘর।

চলনবিল জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পর থেকে উপমহাদেশের অনেক দুর্লভ নিদর্শন সংগ্রহ করে আনা হয় এখানে। এই অঞ্চলের মানুষের কাছে সেগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। পরবর্তী সময়ে নরওয়ে সরকারের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অনুদান দিয়ে জাদুঘরটি হয়ে ওঠে পাকা দোতলা ভবন। সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সরকারি পর্যায়ে এর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কেয়ারটেকার ও নৈশ্যপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করছেন আবু বক্কর সিদ্দিকী একাই। যারা সরকারি নিয়োগে ছিলেন তারা সবাই অবসর গ্রহণ করেছেন। ১৯৯৪ সালে বগুড়া মহাস্থানগড়ে অবস্থিত মহাস্থান জাদুঘরের অধীন করা হয় এটি।

চলনবিল জাদুঘরের দেয়ালে টানানো রয়েছে উটের চামড়া। এখানে আছে নাটোরের পাগলা রাজার উপদেষ্টা শ্রীবরদা প্রসাদ শাস্ত্রীর আবক্ষ মূর্তি। একসময় ডাকাতের উৎপাত ছিল এই অঞ্চলে। ফলে এক ডাকাতের তরবারি দেখা যায় জাদুঘরে। আরও আছে মিসরের পিরামিডের পাথর আর বিভিন্ন সময়ের স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র ও ধাতব মুদ্রা। কিছু মুদ্রা জাদুঘরে থাকলেও প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেই বলে আলমারিতে তুলে রাখা হয়েছে। ব্রিটিশ মুদ্রাগুলো রাখা হয়েছে বগুড়ার মহাস্থান জাদুঘরে।

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ব্যবহৃত বুলেট, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লার হাতে লেখা ডায়েরি, বাদশাহ নাসির উদ্দিন ও মোগল সম্রাট আলমগীরের হাতে লেখা কোরআন শরীফ, রানি ভবানীর হাতে লেখা দলিল দেখা যায় চলনবিল জাদুঘরে। এছাড়া তুলট কাগজ ও গাছের ছালে লেখা প্রাচীন ও মধ্যযুগের পুঁথির পাণ্ডুলিপি, তিন মাথা যুক্ত বাঁশ, মানুষের মাথার খুলি, বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান, ৮০টি দেশের মুদ্রাসহ প্রাচীন উপকরণ, বিভিন্ন ধরনের প্রস্তর ও পোড়ামাটির ভাস্কর্য ও মূর্তি; রাজা, সম্রাট, সুলতান ও নবাবদের ব্যবহৃত তরবারিসহ যুদ্ধাস্ত্র, মনসামঙ্গলের বেদি ও ঘট, বগুড়ার কবি মরহুম রুস্তম আলী কর্ণপুরীর দলিল-দস্তাবেজ, ডাকটিকিট, চিত্রকর্ম, চলনবিল অঞ্চলের মানুষের নিত্যব্যবহার্য নানান দ্রব্য, তৈজসপত্র, কৃষি ও মাছ ধরার সরঞ্জাম আছে এখানে।

তবে অধিকাংশ সময় জাদুঘরটি বন্ধ থাকায় দর্শনার্থীরা হতাশ হয়ে ফিরে যান। স্থানীয় বাসিন্দা দীল মোহাম্মদের আশঙ্কা, জাদুঘরের দ্বিতল ভবনের ছাদ যেকোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে নিচতলার বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। ভেতরে আলোর ব্যবস্থা নেই। প্রবেশপথের কলাপসিবল গেটও ভেঙে গেছে। অযত্ন-অবহেলায় ধুলোবালিতে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে দুর্লভ প্রত্নসম্পদগুলো।

ইতিহাস-ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য নাটোরের একমাত্র জাদুঘরটি সংরক্ষণের আহ্বান জানান স্থানীয়রা। জানা যায়, জাদুঘরটিকে পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর হিসেবে সাজানোর পরিকল্পনা আছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের।

যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাসে রওনা দিয়ে নাটোরে পৌঁছানোর আগে কাছিকাটা বাজারে নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি বা ভ্যানযোগে খুবজীপুর বাজারে গেলে চোখে পড়বে চলনবিল জাদুঘর। এছাড়া নাটোর শহর থেকে গুরুদাসপুর বাসে গিয়ে তারপর ভ্যানে চড়ে সেখানে যাওয়া যায়।
ছবি: লেখক

/জেএইচ/
টপ