যে দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি হাসে

Send
জনি হক
প্রকাশিত : ২১:৫২, মে ০৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৮, মে ০৪, ২০১৯

নাইজেরিয়ান শিশুর মুখে নির্মল হাসিকেমন আছেন আপনি? এটি একটি সহজ প্রশ্ন। কিন্তু একেক দেশের মানুষের আবেগ-অনুভূতি অনুযায়ী এর উত্তর ব্যতিক্রম হয়। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ ১৪৩টি দেশের ১ লাখ ৫১ হাজার সাধারণ মানুষকে এ ধরনের কয়েকটি প্রশ্ন করেছিল। সাক্ষাৎকার নেওয়ার ঠিক আগের দিন কেমন ছিলেন তারা? রাগী বা বিমর্ষ ছিলেন? হেসেছিলেন? নতুন কিছু কি শিখেছেন? সব মিলিয়ে গ্লোবাল ইমোশনস শীর্ষক এই রিপোর্টে উঠে এসেছে, মানুষ নিজের জীবনকে কীভাবে দেখছেন।

জরিপে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ব্যাপারে পাঁচটি প্রশ্ন ছিল গ্যালাপের। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ১০ জনের মধ্যে সাতজনের উত্তর ছিল— ‘উপভোগ্য সময় কেটেছে (৭১ শতাংশ), ভালো ঘুম হয়েছে (৭২ শতাংশ), প্রচুর হেসেছি (৭৪ শতাংশ) ও সম্মান পেয়েছি (৮৭ শতাংশ)।’

প্যারাগুয়ের নাগরিকদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা বেশিবিশ্বের যেকোনও দেশের চেয়ে দক্ষিণ আমেরিকার প্যারাগুয়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে আছে। ২০১৫ সাল থেকেই এক নম্বরে আছে দেশটি। এর নাগরিকরা বেশ আরামপ্রিয়। শীর্ষ দশে এরপর আছে যথাক্রমে পানামা, গুয়াতেমালা, মেক্সিকো, এল সালভাদর, ইন্দোনেশিয়া , হন্ডুরাস, ইকুয়েডর, কোস্টারিকা ও কলম্বিয়া। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ইন্দোনেশিয়া স্থান করে নিয়েছে এতে।

মেক্সিকোর রোজাস অ্যান্ড চকোলেট হোটেলগ্যালাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে ইতিবাচক মনোভাবের দেশের তালিকায় লাতিন আমেরিকার আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। সেখানকার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে প্রতিদিনই আবেগী অনুভূতি হয়। ওই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক প্রবণতা নাগরিকদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, জরিপে উঠে আসা চিত্র সেটারই প্রতিফলন।

আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়া। সবচেয়ে বেশি তরুণ জনসংখ্যার দিক দিয়ে এর অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়। দেশটির ১৮ কোটি ৬০ লাখ নাগরিকের মধ্যে ৯ কোটিরও বেশি বাসিন্দার বয়স ১৮ বছরের নিচে। সামাজিক ও পরিবারকেন্দ্রিক পরিবেশে থাকা নাইজেরিয়ানদের ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই প্রচুর হাসিখুশির মধ্যে থাকার কথা জানিয়েছেন।

মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুপ্রান্তরএদিকে শান্তিতে ঘুমানোর দিক দিয়ে এগিয়ে মঙ্গোলিয়া। দেশটির ৮৬ শতাংশ মানুষই জানান, আগের দিন তারা আরামে কাটিয়েছেন। অবারিত প্রান্তর, হ্রদ, গিরিখাদ ও বালিয়াড়িতে সমৃদ্ধ ল্যান্ডস্কেপ আছে সেখানে। তাছাড়া প্রতি বর্গকিলোমিটারে মাত্র দুই জন বাস করেন মঙ্গোলিয়ায়। ফলে সব ধরনের ঝামেলা এড়ানো তাদের জন্য সহজ।

এল সালভাদরের আকাজাটলার মেতালিওতে মায়ের সঙ্গে তিন শিক্ষার্থীগ্যালাপের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগের দিন বিশ্বের অর্ধেকেরও কম মানুষ (৪৯ শতাংশ) জানান, আগের দিন তারা কিছু শিখেছেন ও আলাদা কিছু করেছেন। যেমন এল সালভাদরে প্রতি চারজনে তিনজন এমন মন্তব্য করেছেন।  

বিশুদ্ধ অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ পরিপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য এল সালভাদর, পানামা ও গুয়াতেমালা এগিয়ে। এই তিনটি দেশের এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা ইতিবাচক আত্ম-উন্নয়নের কথা জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকান দেশ সেনেগাল (৭৩ শতাংশ) ও নাইজার (৭২ শতাংশ)।

ভিয়েতনামের থু বন নদীজরিপে শারীরিক যন্ত্রণা, দুশ্চিন্তা, বিষণ্নতা, ধকল ও বিরক্তি; এই পাঁচটি নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়েও বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের প্রশ্ন করা হয়। নেতিবাচক অভিজ্ঞতার র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে আছে মধ্য আফ্রিকার দেশ চাঁদ। ২০০৩ সাল থেকে এটি তেল উৎপাদনে সুনাম কুড়ায়। কিন্তু এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতায় জর্জরিত দেশটি। সেখানে হাজার হাজার পরিবারের মৌলিক সেবা ভেঙে পড়েছে। প্রতি ১০ জনের মধ্যে সাতজনই (৭২ শতাংশ) জানান, গত বছর জীবিকা নির্বাহ করতে হিমশিম খেয়েছেন তারা।

তাইওয়ানের হাওতংয়ে ক্যাট ভিলেজবিশ্বব্যাপী প্রতি তিনজনে একজন জানিয়েছেন, অনেক দুশ্চিন্তা (৩৯ শতাংশ) কিংবা ধকল (৩৫ শতাংশ) গেছে। ১০ জনের মধ্যে তিনজন শারীরিক যন্ত্রণার (৩১ শতাংশ) কথা জানান। প্রতি পাঁচজনে অন্তত একজন বিষণ্নতা (২৪ শতাংশ) ও বিরক্তিকর (২২ শতাংশ) অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। ইতিবাচক অভিজ্ঞতা কম দিয়েছে এমন দেশের নাগরিকদের মধ্যে অন্যতম আফগানিস্তান।

জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় সাত নম্বরে থাকা সুইডেন গ্যালাপের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা বেশি এমন তালিকায় হয়েছে চতুর্থ।

এস্তোনিয়ার রাজধানী তালিনদুশ্চিন্তা কিংবা বিষণ্নতার দিক দিয়ে তালিকার নিচের দিকে আছে তাইওয়ান, কম বিরক্তির ক্ষেত্রে এস্তোনিয়া ও শারীরিক যন্ত্রণা কম (১৪ শতাংশ) হয় ভিয়েতনামের নাগরিকদের।
কিরগিজস্তানের আইসাইক-কুল লেকআর কিরগিজস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানে ৮৬ শতাংশেরও বেশি মানুষ চাপমুক্ত সময় কাটান। বিপরীত দিকে গ্রিসে প্রতি ১০ জনের ছয়জনের ওপর দিয়ে ধকল যায় বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 

ইকুয়েডরে স্টিম ট্রেন ত্রেন ক্রুচেরোআবেগপ্রবণ দেশের মধ্যে ওপরের দিকে রয়েছে নাইজার, ফিলিপাইন, লাইবেরিয়া ও ইকুয়েডর। এসব দেশের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ছয়জনই বেশ আবেগী। এর মধ্যে যেমন ইকুয়েডরে ৯৭ শতাংশ মানুষই সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার বিষয়টি অনুভব করেন।

গ্যালাপের প্রতিবেদনের সঙ্গে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট অনেক ভিন্ন। ১৫৬টি দেশের মানুষের মাথাপিছু আয়, স্বাস্থ্য, সামাজিক সহায়তা, জীবনের প্রত্যাশা ও স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘ জরিপ করেছিল।

তুর্কমেনিস্তানের আসগাবাতে একটি প্যারেডসূত্র: সিএনএন ট্রাভেল

/জেএইচ/
টপ