জাতীয় চিড়িয়াখানায় দুই লাখ দর্শনার্থী

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ১৮:০২, জুন ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৯, জুন ০৬, ২০১৯

ঈদের দ্বিতীয় দিন জাতীয় চিড়িয়াখানার ফটকের সামনে দর্শনার্থীদের ভিড়‘বাঘ মামাকে দেখতে চাইলে আসুন, সিট খালি’— দূর থেকে শুনে মনে হতে পারে কোনও সার্কাস দলের কর্মীরা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। অথচ বাসের হেলপারদের মুখে এমন হাঁকডাক! জাতীয় চিড়িয়াখানাগামী বাসের হেলপাররা ঈদের দিন থেকে এভাবেই যাত্রীদের ডাকছেন। কোনও কোনও হেলপার যাত্রীদের ডাকতে গিয়ে বলতে থাকেন, ‘বাঘ, ভাল্লুক, ময়ূর, কুমির দেখতে আসুন।’

ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে বসবাসরত বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে গেছেন। তাই ঢাকার রাস্তার যানজট নেই বললেই চলে। রাস্তা ফাঁকা থাকায় গুলিস্তান থেকে ফার্মগেট হয়ে মিরপুরে-১ থেকে সনি সিনেমা হলে সামনে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগে না। তবে চিড়িয়াখানাগামী যানবাহনের চাপে দীর্ঘ গাড়ির জট দেখা যায় রাইনখোলা বাজার থেকে চিড়িয়াখানার ফটক পর্যন্ত। এ কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে এগোতে থাকেন। চিড়িয়াখানার প্রবেশ পথেও এখন দীর্ঘ লাইন।

ঈদের দিনের মতো আজ বৃহস্পতিবারও দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে চিড়িয়াখানায়। খানিকটা বিনোদনের খোঁজে পশু-পাখি দেখতে এসেছেন রাজধানী ও আশেপাশের মানুষ। বিভিন্ন প্রাণীর সঙ্গে শিশুদের পরিচিত করার ইচ্ছেও থাকে বাবা-মায়েদের।

জাতীয় শিশু পার্ক সংস্কারের জন্য বন্ধ থাকায় এবারের ঈদে বিনোদনপ্রেমীদের চাপ বেড়েছে চিড়িয়াখানায়। অন্যান্য বেসরকারি পার্কের টিকিটের দাম ও খরচ বেশি হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষদের পছন্দের তালিকায় প্রথমেই থাকে চিড়িয়াখানা। পশু-পাখি দেখতে আগ্রহীদের কাছে বিকল্প নেই বলে উচ্চবিত্তরাও আসেন এখানে।
চিড়িয়াখানার কিউরেটর নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েন, ঈদের দিন প্রায় ৬০ হাজার দর্শনার্থী পেয়েছেন তারা। আজ এসেছেন দুই লাখ মানুষ। আগামী কয়েকদিন এমন ভিড় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের জন্য চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মী ছাড়াও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া পুরো এলাকায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে।
ঈদের দ্বিতীয় দিন (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা চিড়িয়াখানায় ঢুকতে শুরু করেন। দুপুর গড়ানোর পর তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। যদিও এ সময় বাঘ, সিংহসহ বেশকিছু প্রাণী বিশ্রামের জন্য শুয়ে থাকায় তাদের দেখা পাননি অনেক দর্শনার্থী। নিষেধ থাকলেও অনেকেই ঢিল ছুড়ে প্রাণীদের উত্ত্যক্ত করেছেন।

ঈদের দ্বিতীয় দিন জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড়চিড়িয়াখানার মূল ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকে একটু এগোলেই বাঘ মামার দেখা মেলে। মামা বলে কথা! তাই ভাগ্নে-ভাগ্নিদের ভিড় সবচেয়ে বেশি মামার খাঁচার সামনে। তিন বছরের ছেলে নাঈমকে নিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে কামাল আহমেদ। ছেলেকে তিনি বলছেন, ‘বইয়ের মধ্যে বাঘ মামা পড়েছো না? এটাই সেই বাঘ মামা।’

বাঘ দর্শনের ফাঁকে কামাল আহমেদের সঙ্গে কথা হলো। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাচ্চাদের নিয়ে বেড়ানোর মতো খোলা জায়গা ঢাকায় খুবই কম। তাই ঈদের ছুটিতে বাচ্চাকে পশু-পাখি দেখাতে চিড়িয়াখানায় নিয়ে এলাম। বইতে বানর, হাতি, হরিণের ছবি দেখেছে সে। এবার বাস্তবে এসব প্রাণী দেখাতে আনলাম তাকে।’

চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা গেলো, শিশু-কিশোররা এদিক-সেদিক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন প্রাণীর খাঁচার সামনে তাদের ছুটোছুটিতে চারপাশ মুখর। ঢাকা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, ধামরাই, সাভার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল থেকে অনেকে চিড়িয়াখানায় এসেছেন।

ধামরাই থেকে আসা জামাল মিয়া বলেন, ‘ঈদের দিনে পরিবার নিয়ে বেড়ানোর জায়গা কম। তাই দূরে হলেও বাচ্চাদের খুশি করতে চিড়িয়াখানায় নিয়ে এলাম।’

ঈদের ছুটিতে ছেলেমেয়েদের আবদার রাখতে তাদের নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানালেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা বিমল সাহা। তার কথায়, ‘অন্য সময় চাইলেও এতদূর আসার সময়-সুযোগ হয় না। তবে মানুষের ভিড় বেশি থাকায় সবকিছু ভালোভাবে দেখা হয়নি এখনও।’

ঈদের দ্বিতীয় দিন জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড়উপচেপড়া ভিড়ে অভিভাবকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে অনেক শিশু। তাই মূল ফটকের তথ্যকেন্দ্র থেকে মাইকে সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। একইসঙ্গে কোনও শিশুকে পাওয়া গেলে এখান থেকে মাইকিং করা হয়।

চিড়িয়াখানায় বিনোদনের খোঁজে মানুষের আনাগোনা বাড়লেও বিপত্তি কম নয়। ভেতরে ছিল হকারদের উৎপাত। চিড়িয়াখানা থেকে বের হওয়ার পরও বাইরের কিছু খাবারের দোকানের কর্মীরা মানুষের হাত ধরে টানাটানি করতে থাকেন।

হকার প্রসঙ্গে চিড়িয়াখানার কিউরেটর নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈদের দিন মানুষের ভিড় এত থাকে যে, হকার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ একটি ব্যাগে মালামাল ভরে তারা ঢোকে। প্রবেশের সময় বোঝা যায় না তারা হকার কিনা। ঈদের সময় নিম্ন আয়ের এসব মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে অনেক সময় দর্শনার্থীরা বাধা দেন। তবে তারা যেন উৎপাত করতে না পারে সেদিকে নজর রাখছি আমরা।’

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

/জেএইচ/
টপ