হিমালয় কন্যা তেঁতুলিয়ায় বেড়ানো

Send
সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, পঞ্চগড়
প্রকাশিত : ১৯:৩৩, জুন ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৩, জুন ০৮, ২০১৯

পঞ্চগড়ে ভ্রমণপ্রেমীরাপঞ্চগড়ের পাঁচটি উপজেলায় বেশকিছু পর্যটন কেন্দ্র ও জেলার ঐতিহ্যবাহী স্থান। ঈদের ছুটিতে হাজারও প্রাণের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এগুলো। ঈদের দিন বিকাল থেকে মুখর হয়ে ওঠে এসব স্পট। বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যান, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থীসহ সব বয়সী মানুষ দলবেঁধে ঘুরেছেন। মোবাইল ফোনে সেলফি আর ছবি তুলতে ভুল হচ্ছে না কারও। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা সপরিবারে কিংবা বন্ধুদের নিয়ে মনের আনন্দে বেড়াচ্ছেন সবাই।

উপজেলাগুলোর দর্শনীয় স্থানের তালিকায় আছে তেঁতুলিয়ার রওশনপুরে জেমকন গ্রুপের কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট, আনন্দধারা, আনন্দ গ্রাম, শিশু পার্ক, সমতলের বুকে বিখ্যাত অর্গানিকসহ বিভিন্ন চা বাগান, তালমা রাবার-ড্যাম এলাকার হিমালয় বিনোদন পার্ক, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, তেঁতুলিয়ার বেরঙসহ অন্যান্য পিকনিক কর্নার, পঞ্চগড় ১৮ রাইফেল ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) ক্যান্টিন, পঞ্চগড় ডিসি পার্ক, বোদা পৌরসভা সংলগ্ন বাইপাস মহাসড়ক, বোদা হারবাল গার্ডেন, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট-ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মহানন্দা নদীর পাড়, মুক্তাঞ্চল তেঁতুলিয়ার স্মৃতিসৌধ, ভিতরগড়ের পৃথু রাজার মহারাজার দীঘি, পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে পাথরের জাদুঘর, বদেশ্বরী মন্দির, মির্জাপুর শাহী মসজিদ, বারো আউলিয়ার মাজার, ভীমের জঙ্গল, বাংলার শ্রেষ্ঠ সুলতান হোসেন শাহের হোসেন দীঘির গড়, মোগল সেনাপতি মীর জুমলার মীরগড়, ইখতিয়ারউদ্দীন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজীর রাজনগড় ও পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীর পাড়।

পঞ্চগড়ে ভ্রমণপ্রেমীরাফুরসত পেলে বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে আসেন ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা আব্দুল কাদের। তার কথায়, ‘সমতল ভূমিতে সারি সারি চা বাগানে সবুজের সমারোহ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। এখানটা প্রকৃতির রূপের চাদরে মোড়ানো। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে যাওয়া মহানন্দা নদীর পাড়ে এলে খুব ভালো লাগে।’

তেঁতুলিয়ার রওশনপুরে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটের আনন্দধারার ব্যবস্থাপক এ কে এম ওয়াহিদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈদের সময় এখানে প্রচুর ভিড় হয়। এবারও একই চিত্র। সীমান্ত এলাকা হিসেবে এখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা। আমরা সাধ্যমতো তাদের ঘোরা ও দেখার সুযোগ করে দেই।’

পঞ্চগড়ে ভ্রমণপ্রেমীরাআশপাশের জেলা ও রাজধানী থেকে অনেকেই পরিবার নিয়ে আসেন তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদীর পাড়ে। তাদেরই একজন লাবণী আক্তার। তার ভাষায়, ‘ঈদ আনন্দে ছেলেমেয়েসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছি। এত সুন্দর পরিবেশ ঢাকায় পাই না। চিত্তবিনোদনের জন্য তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নারে শিশুদের জন্য আরও কিছু রাইড থাকলে ওরা আনন্দ পেতো।’

ঢাকার আরেক ভ্রমণপিপাসু নিয়াজ বললেন, ‘বেশকিছু বিনোদন কেন্দ্র ঘুরেছি। অধিকাংশই নিরিবিলি আর শব্দ-দূষণমুক্ত। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সহজেই মুগ্ধ করে।’

পঞ্চগড়ে ভ্রমণপ্রেমীরাহিমালয় কন্যা তেঁতুলিয়ার রূপবৈচিত্র্য দেখে বিমোহিত চট্টগ্রাম থেকে আসা নাহিদ হাসান। তিনিও এসেছেন সপরিবারে।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের যেন কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হিমালয় বিনোদন পার্কতেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সানিউল ফেরদৌস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারের উদ্ভাবনী কর্মসূচি ও পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে তেঁতুলিয়াকে সাজানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেরঙ নামে দৃষ্টিনন্দন একটি নতুন আবাসযোগ্য কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। পর্যটনে আমাদের আরও নতুন নতুন ভাবনা আছে। ধীরে ধীরে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।’

/জেএইচ/
টপ