বদলে যাচ্ছে বেড়ানোর সংস্কৃতি

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, জুন ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৪, জুন ০৯, ২০১৯

নতুন কোনও জায়গায় ঘুরতে গেলে রোজকার ঝুট-ঝামেলা থেকে স্বস্তি মেলে। তাই সুযোগ পেলে কোন সময়টাতে কোথায় বেড়ানো যায় সেই ছক কষেন অনেকে। যদিও আগে বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা আয়েশি বাঙালি তেমন একটা ভাবতো না। ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে সেই সংস্কৃতি। ছুটি মিললে সপরিবারে কিংবা বন্ধুবান্ধব মিলে বেরিয়ে পড়েন সবাই। সাম্প্রতিক সময়ে ঈদের ছুটিতে গ্রামে ফেরার চেয়ে মা-বাবাকে নিয়ে দেশ-বিদেশে ঘুরতে চলে যায় নগরবাসী।

বছরে ঠিক কত মানুষ ভ্রমণের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন সেই হিসাব না থাকলেও পর্যটন ব্যবসায়ী ও ট্যুর অপারেটরদের সংগঠনগুলো জানালো, বছরে এখন ৫০-৬০ লাখ মানুষ বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যান। গত ১০ বছরে এই সংখ্যা বেড়েছে তিন গুণ। যদিও নিজেদের পর্যবেক্ষণ থেকে তারা এমনটা মনে করছেন।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি তৌফিক উদ্দিন আহমেদও মানুষের মধ্যে ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার তথ্য তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ভারতীয় হাইকমিশন প্রতিদিন ছয় হাজার ভিসা দিয়ে থাকে। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার ভিসা পাওয়া অনেক সহজ। ফলে মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে থাকায় ভ্রমণের সম্ভাবনা বেড়েছে।’

যদিও ভ্রমণকারীদের সংখ্যার ব্যাপারে সদুত্তর নেই টোয়াব সভাপতির কাছে। তার ভাষ্য, ‘সার্কভুক্ত দেশগুলোতে আমাদের যাওয়া-আসা বরাবরই ছিল। বর্তমানে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে ভ্রমণের হার বেড়েছে। তবে ঠিক কতজন এ সময় বেড়াতে গেছে তা জানার কোনও সুযোগ নেই। মূলত এই হিসাব কারও কাছে নেই।’

ভ্রমণ নিয়ে ফেসবুকে এখন অনেক পেজ আছে। এর মধ্যে ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ, হ্যালো ট্রাভেলার্স, বেড়াই বাংলাদেশ, ভ্রমণকন্যা, ছুটি দিগন্তেসহ আরও অনেক পেজে লক্ষাধিক সদস্য দেখা যায়। এছাড়া ফেসবুকে ব্যক্তিগত পরিসরে দল করে বেড়াতে যাওয়ার আয়োজন চোখে পড়ে।

চাকরিজীবী হলে যেকোনও সময় হুট করে কোথাও চলে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া হয় না। তাই বেড়ানোর বেলায় ঈদের সময়টাকে বেছে নেন বেশিরভাগ ভ্রমণপিপাসু। কারণ এ সময় লম্বা ছুটি মেলে। তেমন একজন ভ্রমণপ্রেমী নায়লা জামান। তিনি মনে করেন, মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত নাগরিকদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা বাড়ার সঙ্গে দেশ-বিদেশে ভ্রমণের প্রবণতা বেড়েছে।

বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত এই নারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওপার বাংলার বাঙালিদের মধ্যে সারাবছর টাকা জমিয়ে পূজার সময় শহরের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার একটা প্রবণতা ছিল। এখন কলকাতার নাটক ও স্যাটেলাইট টিভির প্রভাবে বিষয়টি আমাদের মধ্যে ঢুকে গেছে। এটা কিন্তু ইতিবাচক।’

এদিকে মোটরসাইকেলে চড়ে দেশ দেখার জন্য গড়ে উঠেছে ছোট ছোট দল। বাইকারদের এমন একটি দল টিম-এবিএস। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) তারা ১০-১২ জন মিলে চুয়াডাঙার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

কেন এই আয়োজন? সংগঠনটির সদস্য আতিকা বিনতে বাকীর উত্তর, ‘আমরা নিছক আনন্দ পেতে এই আয়োজন করে থাকি। বাইক চালানো একটা আনন্দের বিষয়। আমরা দলবেঁধে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়াই।’

এ ধরনের গ্রুপ ধরে রাখতে ও কার্যকর করতে কী প্রয়োজন? আতিকা বললেন, ‘আমাদের পরস্পরের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সম্মান প্রবল। আমরা একে-অপরের বন্ধু। আস্থার জায়গা থেকে কাছের মানুষ হয়ে উঠেছি। একটি দল ধরে রাখতে এগুলো খুব কাজে দেয়।’

ঘুরতে ঘুরতে ৭৭ জন সদস্যের পরিবার তৈরি হয়ে গেছে! ‘বেদিশা পরিবার’ নামে পরিচিত এই গ্রুপের সদস্যরা এক পরিবারের বলে দাবি করেন নিজেদের। এখানকার একই মানসিকতার কয়েকজন একসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। তেমনই একে-অপরের বিপদে সবচেয়ে আগে তারাই এসে দাঁড়ান।

গ্রুপের অন্যতম সদস্য রাকিব কিশোর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ঘুরে বেড়ানো অবশ্যই আমাদের মূল উদ্দেশ্য, তবে তা একমাত্র কাজ নয়। আমাদের ৭৭ জনের রক্তের গ্রুপ সবার জানা। এই পরিবারগুলোর কখনও রক্ত দরকার হলে আমরা পরস্পরের সহযোগিতা নিই। ফলে রক্ত বাইরের কারও হলে যেসব দুশ্চিন্তা থাকে তা নিয়ে ভাবতে হয় না আমাদের। নিশ্চিন্তে ঘোরাঘুরি করতে চাইলে এমন মানসিকতার লোকজন একত্র হওয়া প্রয়োজন।’

/ওআর/জেএইচ/
টপ