ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলে ক্ষতিপূরণ নেবেন যেভাবে

Send
জনি হক
প্রকাশিত : ২১:০০, জুন ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২২, জুন ২৩, ২০১৯

দেরি হওয়া ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের চোখ থাকে শিডিউল বোর্ডেকোথাও বেড়াতে কিংবা প্রিয়জনের কাছে কম সময়ে যাওয়ার জুতসই মাধ্যম হলো আকাশপথ। বেশিরভাগ সময় কোনও ঝক্কি ছাড়াই যাত্রীরা উড়োজাহাজে যাতায়াত করেন। তবে কিছু ফ্লাইট বিলম্বে ছাড়ে, আবার কিছু বাতিল হয়ে যায়। যদি এমন ঘটে তাহলে কী করবেন সেই প্রসঙ্গে জরুরি পরামর্শ দিয়েছে এয়ারহেল্প।

ফ্লাইট বিলম্বিত কিংবা বাতিল হওয়া যাত্রীদের জন্য বেশ হতাশার। এমনটা ঘটলে পুরো ভ্রমণের আনন্দটাই যেন মাটি! এসব পরিস্থিতিতে যেসব সুবিধা পাবেন তা নিশ্চিত করতে কিছু পদক্ষেপ অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

এয়ারহেল্পের যাত্রী অধিকার বিশেষজ্ঞ পালোমা সালমেরন জানিয়েছেন, ফ্লাইট বিলম্ব কিংবা বাতিলের খবর পেলে নিজের অধিকার সম্পর্কে জানা জরুরি। তিনি বলেন, ‘যদি ফ্লাইট বিলম্বিত হয় তাহলে প্রথমেই যাত্রী হিসেবে নিজের অধিকারগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। তাতে নিজে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য কিনা তা যাচাই করা যায়।’

ইইউ বিধি ইসি২৬১ অনুযায়ী, কোনও ফ্লাইট তিন ঘণ্টার বেশি দেরি কিংবা বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা প্রত্যেক যাত্রীকে ৬০০ ইউরো (৫৮ হাজার টাকা) দিতে বাধ্য। পালোমা সালমেরন বলেন, ‘ইইউ অন্তর্ভুক্ত যেকোনও দেশ থেকে ছেড়ে আসা ও সেইসব দেশে অবতরণ করা ইউরোপীয় বিমান সংস্থার ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য। ক্ষতিপূরণের দাবি বৈধ রাখা নিশ্চিত করতে বোর্ডিং পাস ও ভ্রমণের সব নথি সঙ্গে রাখুন। এছাড়া বিমান সংস্থার কর্মীদের কাছে ফ্লাইট বিলম্বের কারণ জিজ্ঞাসা করুন। নিজের কাছে যত বেশি তথ্য থাকবে ক্ষতিপূরণ পাওয়া ততই সহজ হবে।’

এয়ারহেল্পের পরামর্শ, ফ্লাইট বিলম্ব কিংবা বাতিল হওয়ার দিনের প্রমাণ রাখতে ডিপারচার বোর্ড কিংবা সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা থেকে যাত্রায় বিঘ্ন ঘটার কথা জানানোর মুহূর্তের ছবি তোলা যেতে পারে। এছাড়া অবতরণের মুহূর্ত ও বিমান সংস্থার দরজা খোলার সময়ের ছবি তুলে রাখতে পারেন। এটি অফিসিয়াল অবতরণের সময় হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব পন্থা অবলম্বন করলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়।

ফ্লাইট দেরি হওয়া যাত্রীদের জন্য হতাশারজানা গেছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ৮৬ শতাংশ বিমান যাত্রী নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন নন। বিমান সংস্থাগুলো সেই সুযোগটাই নেয়। তবে কেউ নাছোড়বান্দা হলে ৫০ ইউরো (৫ হাজার টাকা) থেকে শুরু করে নগদ ৬০০ ইউরো (৫৮ হাজার টাকা) পর্যন্ত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া ফ্লাইট বিলম্বিত হলে বিমান সংস্থাকে যাত্রীদের মৌলিক চাহিদা হিসেবে খাবার ও রিফ্রেশমেন্টের জন্য অর্থ দিতে হয়। এ প্রসঙ্গে পালোমা সালমেরন বলেন, ‘নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে ফ্লাইট উড্ডয়ন না করা পর্যন্ত খাবার ও রিফ্রেশমেন্টের জন্য অর্থ চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে যাত্রীদের।’

বিমান সংস্থা থেকে যাত্রীকে কোনও কাগজে স্বাক্ষর করতে বলা হলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এয়ারহেল্প। তাদের কথায়, কাগজে সই করার আগে ভালোভাবে তা পড়ে দেখা উচিত। অযথা স্বাক্ষরের কারণে যেন ক্ষতিপূরণের অধিকার নষ্ট না হয় সেদিকে সজাগ থাকা দরকার। যদি তেমন আশঙ্কা থাকে তাহলে স্বাক্ষর করবেন না।

কোনও ফ্লাইট যদি পাঁচ ঘণ্টার বেশি দেরি হয় তাহলে যাত্রী পরের ফ্লাইট ধরতে অপেক্ষা করবেন নাকি বিমানবন্দর থেকে চলে যাবেন তা পুরোপুরি তার ইচ্ছের ওপর নির্ভর করে। পালোমা সালমেরন বলেছেন, ‘পরের দিন ছাড়া যদি ফ্লাইট না থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে যাত্রীর জন্য থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে বিমানবন্দর থেকে হোটেল যাওয়া-আসার পরিবহন সুবিধাও পাবেন যাত্রী। বিমানবন্দরের মেঝেতে ঘুমানোর কষ্ট এড়াতে হলে বিমান সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলে হোটেল নিশ্চিত করতে হবে যাত্রীকে।’

কাঙ্ক্ষিত ফ্লাইটের সময়সূচি জানতে উদগ্রীব থাকেন যাত্রীরাবিমান সংস্থা থেকে হোটেল, পরিবহন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা না পেয়ে ব্যক্তিগতভাবে খরচ করে থাকেন যাত্রীরা। এক্ষেত্রে যেকোনও রশিদ সঙ্গে রাখুন। কারণ এগুলো পরে কাজে লাগতে পারে। যাত্রী অধিকার অনুযায়ী এসব প্রমাণ উপস্থাপন করলে সমপরিমাণ টাকা বিমান সংস্থা পরিশোধ করে দেবে।

যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক অধিকার বজায় রাখতে বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশে ২০০৩ সালে গৃহীত হয় মন্ট্রিল কনভেনশন। এর মধ্যে বাংলাদেশও আছে এই তালিকায়। ফ্লাইট বিলম্ব ও মালামালের ক্ষতি বা হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিমান সংস্থাকে দায় বহন করতে চুক্তিটি করা হয়। এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে মাঝে সদস্য একটি দেশে বিরতি নিলে তা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বলে গণ্য হয়। তখন মন্ট্রিল কনভেনশনের নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ মেলে।

বাংলাদেশে চুক্তিটির সুবিধা পেতে যাত্রীকে ব্যাগেজের ক্ষতির সাতদিনের মধ্যে তা দাবি করতে হবে। লাগেজ পেতে দেরি হলে ২১ দিনের মধ্যে তা জানানো নিয়ম। ওই সময় পেরিয়ে গেলে ধরে নিতে হবে তা হারিয়ে গেছে।

/জেএইচ/
টপ