সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন ট্রাভেল বাংলাদেশের আহসান রনি

Send
জার্নি রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:০০, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৭, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

পুরস্কার হাতে আহসান রনিভ্রমণে দারুণ কিছু আইডিয়া নিয়ে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন ট্রাভেল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আহসান রনি। নিজ নিজ শাখায় অবদানের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলোর সেরা তরুণদের এটি প্রদান করে গ্লোবাল ইয়ুথ পার্লামেন্ট ও গ্লোবাল ল থিংকার্স বাংলাদেশ।

সম্প্রতি প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকা হোটেলে ‘উই শাইন টুগেদার’ স্লোগান নিয়ে এশীয় ইয়ুথ কনফারেন্স ও লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়। এ আয়োজনে আহসান রনিসহ দেশি-বিদেশি ১৫ জনকে পুরস্কার দেওয়া হয়। দক্ষিণ এশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

২০১৭ সালে ভ্রমণপ্রেমী আহসান রনি বন্ধুদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ট্রাভেল বাংলাদেশ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। তার কথায়, ‘বিভিন্ন দেশে গিয়ে খেয়াল করেছি তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, উৎসব, দর্শনীয় স্থান, খাবারগুলোকে সুন্দরভাবে তুলে ধরে ও প্রচার করে। আমাদের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি, নদী, সমুদ্র, পাহাড় ও খাল-বিলের অপরূপ সৌন্দর্য বিদেশিরা তেমনভাবে জানে না। দেশের মানুষজনও ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো তেমন জানেন না বা জানার সুযোগ পান না। তাই এই উদ্যোগ নিয়েছি।’

ট্রাভেল বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আহসান রনি বলেন, ‘এটি মূলত এমন একটি ট্রাভেল প্ল্যাটফর্ম যা বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, দর্শনীয় স্থান, স্থানীয় খাবার, উৎসব, ভ্রমণ গল্প, থাকার জায়গাসহ দেশের বাইরের ভ্রমণ বিষয়ক নানান তথ্য দিয়ে থাকে। বাংলা ও ইংরেজি প্রতিবেদন আর ভিডিওর মাধ্যমে ভ্রমণে আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করি আমরা।’

শুধু ভ্রমণপ্রেমীদের নয়; বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, রিসোর্ট, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ট্রাভেল প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবসার প্রসারে বাংলা-ইংরেজি কনটেন্ট, ভিডিও মেকিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, আইটি ও কনসালটেন্সি সেবা দিচ্ছে ট্রাভেল বাংলাদেশ।

বর্তমানে দেশের ভ্রমণ বিষয়ক সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে ট্রাভেল বাংলাদেশ অন্যতম। প্রতি মাসে ৫ লাখের অধিক মানুষকে ভ্রমণ তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে এটি। সারাদেশে প্রায় ৫২ জনের বিশাল টিম রয়েছে তাদের। নতুন টিম নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ট্রাভেল বাংলাদেশ টিম গত বছর ওয়াই-ওয়াই গোষ্ঠী ও ইএমকে সেন্টারের যৌথ উদ্যোগ আয়োজিত সামাজিক উদ্যোগ ইনকিউবেটরে সেরা উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে জায়গা করে নেয়। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম সেরা স্টার্টআপ সাপোর্ট প্ল্যাটফর্ম ‘স্টার্টআপ ঢাকা’র ইনকিউবেটরেও স্থান পায় ট্রাভেল বাংলাদেশ।

দেশের শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে ট্রেনিং নিয়ে ট্রাভেল বাংলাদেশ টিম এখন আরও পরিণত বলে আত্মবিশ্বাসী ট্রাভেল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আহসান রনি। তিনি জানান, সম্প্রতি সার্ক চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের নিয়ে আয়োজিত ক্যাম্পে অংশ নেয় ট্রাভেল বাংলাদেশ।

আহসান রনি জানান, নেপালের কাঠমান্ডুতে সারাবিশ্বের ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে এশিয়ান রিজিলিয়েন্স সামিটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে ট্রাভেল বাংলাদেশ। এটি যৌথভাবে আয়োজন করে দ্য রিজিলিয়েন্ট কাউন্সিল ও নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড। এ বছর ইন্টারন্যাশনাল ইস্টিটিউট ফর পিচ থ্রু ট্যুরিজম (আইআইপিটি) অ্যাওয়ার্ডে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেরা ভিন্নধর্মী ১২টি উদ্যোগের একটি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে মনোনয়ন পেয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ট্রাভেল বাংলাদেশ।

আহসান রনি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন। দেশের জন্য বড় কিছু করার জন্য এগিয়ে চলেছেন। দেশ থেকে যাত্রা শুরু করলেও ট্রাভেল বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়ার দৃঢ়প্রত্যয় এই উদ্যমী তরুণের।

/জেএইচ/
টপ