পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী তারা মসজিদ

Send
নাকিবুল আহসান নিশাদ
প্রকাশিত : ১২:০৩, অক্টোবর ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৯, নভেম্বর ০২, ২০১৯

ড়ড়ড়মসজিদের শহর ঢাকার ইতিহাস ৪০০ বছরের পুরনো। প্রাচীন এই শহরজুড়ে রয়েছে অসংখ্য ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। ফলে চারদিক থেকে ভেসে আসে আজানের মধুর সুর। সেজন্যই ঢাকাকে বলা হয় মসজিদের শহর।

অন্যান্য এলাকার মতো পুরান ঢাকায় বেশকিছু ইসলামিক স্থাপত্য বা মসজিদ চোখে পড়ে। এর মধ্যে অন্যতম আরমানিটোলার আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী তারা মসজিদ। এর আরও কিছু প্রচলিত নাম আছে। যেমন— মির্জা গোলাম পীরের মসজিদ বা সিতারা মসজিদ।

ধারণা করা হয়, অষ্টাদশ শতকের দিকে নির্মিত হয় তারা মসজিদ। সাদা মার্বেলের গম্বুজের ওপর নীলরঙা তারায় খচিত এই স্থাপনা মুগ্ধকর। মসজিদের সামনে এলে দর্শনার্থীদের প্রথমেই চোখে পড়ে বিশাল আকৃতির ফোয়ারাবেষ্টিত একটি তারা।

ডডডজানা যায়, অষ্টাদশ শতকে ঢাকার মহল্লা আলে আবু সাঈয়ীদে (পরে এলাকাটির নাম হয় আরমানিটোলা) আসেন জমিদার মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান)। ঢাকার ধনাঢ্য ব্যক্তি মীর আবু সাঈয়ীদের নাতি ছিলেন তিনি। মির্জা গোলাম পীর নির্মাণ করেন তারা মসজিদ। ‌মির্জা সাহেবের মসজিদ হিসেবে এটি তখন পরিচিতি পায়। ১৮৬০ সালে মারা যান মির্জা গোলাম পীর। তার সময় মসজিদে তিনটি গম্বুজ ছিল। এর দৈর্ঘ্য ৩৩ ফুট (১০ দশমিক ০৬ মিটার) ও প্রস্থ ১২ ফুট (৪ দশমিক ০৪ মিটার)।

১৯২৬ সালে তারা মসজিদ সংস্কারের উদ্যোগ নেন ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী আলী জান ব্যাপারী। সেই সময় মোজাইক কারুকাজে ব্যবহৃত হয় জাপানের রঙিন চিনি-টিকরি পদার্থ। সংস্কারের সময় মসজিদের পূর্ব দিকে একটি বারান্দা বাড়ানো হয়।

সংস্কারের সময় মসজিদের পূর্ব দিকে একটি বারান্দা বাড়ানো হয়১৯৮৭ সালে তিন গম্বুজ থেকে পাঁচ গম্বুজ পায় তারা মসজিদ। পুরনো একটি মেহরাব ভেঙে দুটি গম্বুজ ও তিনটি নতুন মেহরাব বানানো হয়। মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট (২১ দশমিক ৩৪ মিটার), প্রস্থ ২৬ ফুট (৭ দশমিক ৯৮ মিটার)।

মসজিদের জুল্লায় প্রবেশের জন্য পাঁচটি খিলানবিশিষ্ট পথ সৃষ্টি করা হয়েছে। এগুলো বহু খাঁজবিশিষ্ট এবং চারটি অষ্টভুজাকৃতির স্তম্ভ থেকে উত্থিত। মসজিদের অভ্যন্তর ও বাইরের পুরোটাই মোজাইক নকশা করা। এর গায়ে চিনামাটির বাসন, পেয়ালা ইত্যাদির ছোট ভগ্নাংশ ও কাচের টুকরো ব্যবহৃত হয়েছে। এ পদ্ধতিকে ‘চিনি টিকরি’ বা চিনি দানার কাজ বলা হয়। মসজিদের গাত্রনকশায় রয়েছে ফুলদানি, ফুলের ঝাড়, গোলাপ ফুল, এক বৃন্তে একটি ফুল, চাঁদ, তারা, নক্ষত্র ও আরবি ক্যালিগ্রাফিক লিপি।

জজজমসজিদের বারান্দায় জাপানের বিখ্যাত ফুজিসানের দৃশ্যসংবলিত টাইলস উল্লেখযোগ্য। ‘ফাসাদ’-এর কেন্দ্রে আরবি লিপিসংবলিত সূক্ষ্ম অর্ধচন্দ্র ও তারার অলঙ্করণ স্থান পেয়েছে। বৃত্তাকার শ্বেত-শুভ্র গম্বুজগুলোতে বসানো হয়েছে নীল রঙের অসংখ্য তারা বা নক্ষত্র। সমগ্র নকশায় সবচেয়ে প্রাধান্য পেয়েছে তারার মোটিফ। তাই মসজিদটি তারা মসজিদ নামে খ্যাত।

যেভাবে যাবেন

ঢাকার যেকোনও জায়গা থেকে খুব সহজেই তারা মসজিতে আসা যায়। চানখারপুল, গুলিস্তান কিংবা বাবুবাজার সেতুতে রিকশাচালককে আরমানিটোলা স্কুল বা তারা মসজিদ বললেই চলবে।

 

 

/জেএইচ/
টপ