বিশ্বের দীর্ঘতম ফ্লাইট পরিচালনায় রেকর্ড গড়লো কোয়ান্টাস

Send
জার্নি ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:২৯, অক্টোবর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৯, অক্টোবর ২০, ২০১৯

 

সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলো কানটাসের বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজটি (2)যাত্রী নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে দীর্ঘতম ফ্লাইট পরিচালনা করলো কোয়ান্টাস। এর মধ্য দিয়ে রেকর্ড গড়লো অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পতাকাবাহী এই বিমান সংস্থা। এত লম্বা ভ্রমণ পাইলট, কেবিন ক্রু ও যাত্রীদের মধ্যে কী প্রভাব ফেলে তা গবেষণা করাই এর অংশ। একইসঙ্গে তাদের ওপর জেটল্যাগের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা।

কোয়ান্টাসের একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ ৪৯ জন আরোহী নিয়ে ১৯ ঘণ্টা ১৬ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পৌঁছায়। এজন্য পাড়ি দিতে হয়েছে ১৬ হাজার ২০০ কিলোমিটার পথ। গত ১৮ অক্টোবর রাতে রওনা হয়ে ফ্লাইটটি সিডনি পৌঁছায় আজ রবিবার (২০ অক্টোবর) সকালে।

আগামী মাসে অর্থাৎ নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে সিডনিতে আরেকটি বিরতিহীন ফ্লাইট পরীক্ষামূলকভাবে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে কোয়ান্টাসের। সব অনুকূল মনে হলে দীর্ঘতম রুট দুটিতে ২০২২ কিংবা ২০২৩ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে আশাবাদী তারা।

বিশ্বের কোনও বিমান সংস্থার যাত্রীবাহী ও কার্গো ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এত দীর্ঘযাত্রার বিরতিহীন রুট নেই।

কোনও বিরতি ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছাতে উড়োজাহাজটিতে পর্যাপ্ত জ্বালানি নেওয়া হয়। এ কারণে ব্যাগেজ সংখ্যা সীমিত রাখার পাশাপাশি পণ্য ওঠানো নিষিদ্ধ ছিল। সাধারণত অন্য ফ্লাইটগুলো জ্বালানি নিতে বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবতরণ করে।১৯ ঘণ্টা ১৬ মিনিট ভ্রমণের পরও পাইলট-কেবিন ক্রু সবার মুখে হাসি

নিউইয়র্ক ও সিডনির মধ্যে প্রায় ১৫ ঘণ্টা সময়ের পার্থক্য রয়েছে। তাই উড়োজাহাজে উঠে যাত্রীরা তাদের ঘড়ি কাঁটা সিডনির সময় অনুযায়ী সাজিয়ে নেন। ছয় ঘণ্টা পর তাদের দেওয়া হয় উচ্চ-কার্বোহাইড্রেট খাবার। যাত্রীদের চোখে যেন ঘুম আসে সেজন্য বাতি ছিল মিটমিটে।

পাইলটের মস্তিষ্কের তরঙ্গ, মেলাটোনিন হরমোনের মাত্রা, সতর্কতা, যাত্রীদের জন্য ব্যায়ামের ক্লাস, অনেক টাইম জোন অতিক্রমের সময় মানুষের শরীরে কেমন প্রভাব পড়ছে এসব পর্যবেক্ষণ করা হয় ফ্লাইটে।

কোয়ান্টাস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালান জয়েস বলেন, ‘এভিয়েশন শিল্পে এমন দীর্ঘযাত্রার ফ্লাইট সত্যিই অর্থবহ প্রথম ঘটনা। পৃথিবী গ্রহের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষ কীভাবে ভ্রমণ করে তা বু্ঝে নিয়মিত সেবা প্রদানের নিরীক্ষা এটি।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দীর্ঘযাত্রার বিমান রুটের প্রতিযোগিতা বেড়েছে। ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুর থেকে নিউ ইয়র্কে প্রায় ১৯ ঘণ্টার বিরতিহীন ফ্লাইট চালু করে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস। এখন পর্যন্ত এটাই বিশ্বের দীর্ঘযাত্রার নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের রেকর্ড ধরে রেখেছে। গত বছর পার্থ থেকে লন্ডনে ১৭ ঘণ্টার বিরতিহীন ফ্লাইট চালু করে কোয়ান্টাস। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড থেকে দোহায় সাড়ে ১৭ ঘণ্টার বিরতিহীন ফ্লাইট চালাচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ।

সূত্র: বিবিসি

/জেএইচ/
টপ