ডেইলি সাবাহসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান তুরস্কের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৪০, মার্চ ১১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪২, মার্চ ১১, ২০১৭

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। ১০ মার্চ ২০১৭ শুক্রবার ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এ বিষয়টি নিয়ে শনিবার শিরোনাম করেছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ।
বৈঠকে মিলিশিয়া বাহিনী কুর্দিশ পপুলার প্রটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি) এবং জঙ্গিগোষ্ঠী দায়েশ (আইএস)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেন এরদোয়ান। এ দুই সংগঠনের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ে তুরস্কের ইচ্ছার কথা জানান তিনি। এছাড়া রাশিয়ায় ওয়াইপিজি নেতাদের তৎপরতা বন্ধেরও আহ্বান জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

এরদোয়ান বলেন, আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে তুরস্ক এবং রাশিয়া একযোগে কাজ করবে। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে দুই দেশের একযোগে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। জ্বালানি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষার মতো ইস্যুতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নানা সমস্যা সমাধানে রাশিয়া ও তুরস্ক একযোগে কাজ করছে। সিরিয়ায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরিতে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ সজাগ ছিল। আমাদের এমন ঘনিষ্ঠ সহযোগিতামূলক সম্পর্ক কারও প্রত্যাশিত ছিল না।

এর আগে পুতিন-এরদোয়ানের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয় ২০১৬ সালের অক্টোবরে। এ সময় সিরিয়া ইস্যু এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার মতো বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।

সিরিয়া প্রশ্নে তুরস্ক ও রাশিয়ার অবস্থান পরস্পরবিরোধী। ইতোপূর্বে আঙ্কারার পক্ষ থেকে প্রায়ই মস্কোর বিরুদ্ধে আসাদ সরকারকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তোলা হতো। একপর্যায়ে রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় দুদেশের সম্পর্কে ফাটল দেখা হয়। পরে ওই ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে নিহত বিমানচালকের পরিবারের কাছে ক্ষমা চান এরদোয়ান। মূলত এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে।

২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর এরদোয়ান রাশিয়ার দিকে আরও ঝুঁকে পড়েন। এরদোয়ান মনে করেন ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র হাত রয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত তুর্কি নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের অভ্যুত্থান চেষ্টায় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। ফলে এরদোয়ান বুঝতে পেরেছেন সিআইএ ও ন্যাটো তার ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। ফলে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে তিক্ততার অবসান ঘটিয়ে মৈত্রী পুনরুদ্ধারে আগ্রহী।

২০১৬ সালের আগস্টে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান বলেন, তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে আমাদের পশ্চিমা বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন ছিল। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তারা চেয়েছিল এই অভ্যুত্থান সফল হোক। কিন্তু তুর্কি জনগণ সেটা হতে দেয়নি।

তিনি বলেন, পশ্চিমারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করেছে। তারা অভ্যুত্থানের পক্ষ নিয়েছে। ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পর কোনও বিদেশি নেতা তুরস্ক সফর করেননি। অথচ ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে হামলার পর সংহতি জানাতে বিশ্বনেতারা সেখানে হাজির হয়েছিলেন। যাদের আমরা বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করতাম তারাই অভ্যুত্থানপন্থী সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়েছে। সন্ত্রাসীদের খোঁজে জার্মানিকে আমরা চার হাজারের অধিক ফাইল পাঠিয়েছি। কিন্তু তারা কিছুই করেনি। যারা তুরস্কের গণতন্ত্র থেকেও বেশি চিন্তিত অভ্যুত্থানকারীদের ভাগ্য সম্পর্কে, তারা তুরস্কের প্রকৃত বন্ধু নয়। তবে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর ফোন করে সহমর্মিতা জানানোর জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানান এরদোয়ান।

/এমপি/

লাইভ

টপ