Vision  ad on bangla Tribune

আনাদোলু পোস্টতুরস্কের গণভোট নিয়ে আপিল নাকচ নির্বাচনি বোর্ডের

বিদেশ ডেস্ক১৪:৪৫, এপ্রিল ২০, ২০১৭

তুরস্কে প্রেসিডেন্ট শাসিত ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফল নিয়ে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ নির্বাচনি বোর্ড ওয়াইএসকে। ১৬ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনের ফল নিয়ে এ আপত্তি তুলেছিল দেশটির তিনটি বিরোধী দল। দলগুলো হচ্ছে রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি), পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এইচডিপি) এবং প্যাট্রিয়টিক পার্টি। তবে পৃথকভাবে তাদের দায়ের করা পিটিশনগুলো বুধবার খারিজ দিয়েছে নির্বাচনি বোর্ড। এ বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার শিরোনাম করেছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু পোস্ট।
ওয়াইএসকে-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তুরস্কের সর্বোচ্চ নির্বাচনি বোর্ড-এর বৈঠকে ১১ জন সদস্যের মধ্যে ১০ জনই পিটিশনগুলো খারিজের পক্ষে মত দিয়েছেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের রায়ের ভিত্তিতে আবেদনগুলো প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

১৬ এপ্রিলের ওই গণভোটে প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রতি রায় দিয়েছেন ৫১ দশমিক ৪১ শতাংশ মানুষ। বিপরীতে এর বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থানের জানান দিয়েছেন ৪৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোটার। এই ফলের মধ্য দিয়ে সামান্য ব্যবধানে জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকারের পক্ষপাতী তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ক্ষমতা বেড়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান-এর।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, এই গণভোটে কেউ হারেনি, কিন্তু একটি পক্ষ জয়ী হয়েছে। আর সেই পক্ষ হচ্ছে তুরস্ক ও তুরস্কের মহৎ মানুষেরা।

প্রধানমন্ত্রীর এমন দাবি অবশ্য মানতে রাজি নন বিরোধীরা। দেশটির প্রধান দুই বিরোধী দল গণভোটে তাদের পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অবশ্য তুরস্কের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের নির্বাচনগুলোর তুলনায় অনেকটাই সুষ্ঠু ছিল এই গণভোট। তবে দেশটির প্রধান বিরোধী দল দ্য রিপাবলিকান পিপল পার্টি (সিএইচপি) এই ফলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা ৬০ শতাংশ ভোটের পুনঃগণনার দাবি জানিয়েছে। তুরস্কের বড় তিন শহর ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা ও ইজমিরে ‘না’ ভোট পড়েছে বেশি।

ডেলমা ইনস্টিটিউটের একজন ফেলো সেলিম সাজাক বলেন, আজকের আগ পর্যন্ত তুর্কির সরকারবিরোধীরা মনে করত দেশটির নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। কিন্তু যাই হোক, এটা পটপরিবর্তনকারী ঘটনা।

এরদোয়ানের সমালোচকরা বলছেন, সংবিধানের এই সংশোধনীর ফলে এক ব্যক্তির শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ডি ফ্যাক্টো স্বৈরতন্ত্র কায়েম হবে। এরদোয়ানের সমর্থকদের যুক্তি, তুরস্কের অভ্যুত্থানের ইতিহাস, বিশেষ করে গত জুলাইয়ে ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টা, অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও জোট রাজনীতির ব্যর্থতার কারণে একজন শক্তিশালী নির্বাহী প্রয়োজন। নতুন এই ব্যবস্থা ২০১৯ সালের নির্বাচনের সময় থেকে কার্যকর হবে। এটি হবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আধুনিক তুরস্কের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ওমর তাসপিনার বলছেন, ইস্তানবুলসহ তুরস্কের তিনটি বড় শহরে হ্যাঁ ভোট পরাজিত হয়েছে। অথচ একসময় ইস্তানবুলের মেয়র ছিলেন এরদোয়ান। তাসপিনার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হচ্ছে ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো এরদোয়ান ইস্তানবুলে পরাজিত হয়েছেন। অনেক একেপি সমর্থকও তাকে ভোট দেননি। ভোটের ফলে দৃশ্যমান হয়, এরদোয়ানের বিরোধীরা একটি বিকল্প হয়ে সামনে আসতে পারে। তুর্কি গণতন্ত্রের জন্য বিরোধীদের মধ্যে বিভক্তি একটি ফোঁড়ার মতো। ফলে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিকে এগুতে পারে।

/এমপি/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ