শেষ মুহূর্তেও জমে ওঠেনি উত্তরার ঈদ বাজার

আজরাফ আল মূতী১৬:৫৯, জুন ২০, ২০১৭

রোজা প্রায় শেষের দিকে। চারদিকে ঈদের আমেজ। কিন্তু সে তুলনায় উত্তরার শপিং সেন্টারগুলোতে ক্রেতা আনাগোনা একদমই কম। বিক্রেতাদের আশা ছিল শেষ মুহূর্তে জমে উঠবে বাজার। কিন্তু সে আশায় গুঁড়েবালি। অন্যদিকে বিক্রেতারা দাবি করছেন, কেনাকাটা করাটা কঠিন হয়ে পড়ছে দামের কারণে। দামে মিলছে না বলে খালি হাতেই বেরিয়ে যাচ্ছেন অনেক ক্রেতা। মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে অধিকাংশ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে ফাঁকা দেখা গেল, বিক্রেতারা জানালেন, ইফতারের পর কিছুটা ভিড় দেখা যায়। তবে সেটি অনান্যবারের মতো নয়।

উত্তরার জনপ্রিয় শপিং কমপ্লেক্স রাজলক্ষী ঘুরে দেখা গেল ক্রেতাদের আনাগোনা এবার অনেকটাই কম। পার্শ্ববর্তী অন্যান্য শপিং কমপ্লেক্সের চিত্রও অনেকটা একই রকম। পোশাকের দাম বাড়তি হওয়ায় অনেক ক্রেতাকেই ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।

পোশাকের এই বাড়তি দাম প্রসঙ্গে রাজলক্ষীতে আসা ক্রেতা মো. নুরুল আমিন অভিযোগ করেন, ‘গত বছর যে পোশাকের দাম ছিল ১০০০ টাকা, এ বছর সে একই পোশাক কিনতে হচ্ছে ১৫০০-২০০০ টাকায়।’ শুধু মো. নুরুল আমিন নন, অন্য ক্রেতাদেরও একই অভিযোগ। ক্রেতাদের এ অভিযোগ অস্বীকার করেননি বিক্রেতারাও।

এ অবস্থার জন্য চলতি বছরের বাজেটের আমদানি শুল্ক এবং পণ্য সংশ্লিষ্ট বাড়তি খরচকেই দায়ী করছেন বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সের একাধিক বিক্রেতা।

এ প্রসঙ্গে আমির কমপ্লেক্সের পিংক রোজ-এর কর্ণধার মো. ইলিয়াস বলেন, ‘একদিকে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। তার উপর ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক যোগ হওয়ায় আমদানি করা পোশাকের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। যে কারণে অধিকাংশ ক্রেতাই পোশাক দেখে ফিরে যাচ্ছেন। কিনছেন না। এর ফলে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি ক্রেতাও হচ্ছে হতাশ।’

আজমপুর থেকে মেয়ের ঈদের জামা কিনতে এসেছেন আনিস আহমেদ। তিনি জানালেন, বাচ্চাদের ভালো মানের জামা পাওয়াটা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। তিন ঘণ্টা ধরে ঘুরছেন কিন্তু এখনও জামা কিনতে পারেননি। ভালো মান ও সুন্দর এবং দাম একসঙ্গে মিলছে না। আর যা ভালো পাওয়া যায় তার সবই ভারতীয় পণ্য। যেটি কিনতে নারাজ তিনি।

এদিকে মাস্কাট প্লাজার দোকানি আলম জানালেন, দেশি পোশাক কিনতে হলে, দেশি ব্র্যান্ডের দোকানগুলোই ভালো। সেখানে দেশি পোশাক ভালো পাওয়া যায়। তবে ক্রেতাদের অধিকাংশের চাহিদাই ভারতীয় পোশাক। বিশেষ করে বিভিন্ন সিরিয়ালের নামে তৈরি হওয়া জামাগুলোই চলছে বেশি। অনেক ক্রেতা এসেই নাকি কিরণমালা, পাখি, বধুবরণ জামা ও শাড়ির খোঁজ করেন।

রাজলক্ষী কমপ্লেক্সের উত্তরা এম্পোরিয়াম-এর কর্ণধার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা নিরুপায়, গত বছর যে পোশাক আমরা ৭০০ টাকায় কিনে ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এ বছর সেই পণ্য কিনতে হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকায়। ফলে ক্রেতাদের কাছে আমরা আগের দামে পোশাক বিক্রি করতে পারছি না। এ কারণে অনেক ক্রেতাই বিকল্প হিসেবে ভ্রাম্যমাণ হকারদের কাছ থেকে পোশাক কিনছেন। যে গুলোর গুণগত মানে ত্রুটি রয়েছে। অন্যদিকে আমারা ব্যবসার স্বার্থে নামমাত্র লাভেও পোশাক বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।’

বর্তমানে বিক্রির দিক থেকে নারী ও শিশুদের পোশাকই বেশি চলছে বলে জানিয়েছেন উত্তরার শপিং কমপ্লেক্স ব্যবসায়ীরা। ১৫০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে শিশুদের পোশাক। অন্যদিকে নারীদের পোশাকের মধ্যে বিভিন্ন ডিজাইনের গাউন ৪০০০ থেকে ৭০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। শাড়ি ৫০০০ থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এ মার্কেটে। এ ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পোশাক। ছেলেদের পোশাকের বিক্রি তুলনামুলক কম হলেও বেশি চলছে পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবির দাম শুরু হয়েছে ১০০০ টাকা থেকে আর ফতুয়ার দাম ৪০০ টাকা থেকে।

রোজার শেষ সপ্তাহ চলে এলেও বিক্রি তেমন একটা বাড়েনি। প্রচুর ক্রেতা আসছেন কিন্তু না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।   

/এফএএন/       

লাইভ

টপ