এম ক্যাফে: ছিমছাম পরিবেশে সুস্বাদু খাবার

Send
নওরিন আক্তার
প্রকাশিত : ১৬:০০, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩১, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭

অফিস থেকে দুপুরে লাঞ্চের খোঁজে বের হয়ে নতুন একটি ক্যাফে আবিষ্কার করে যারপরনাই আনন্দিত হলাম। এমনিতে পান্থপথ-কলাবাগান এলাকায় রেস্টুরেন্ট-ক্যাফের বেশ অভাবই রয়েছে বলা চলে। ফলে নতুন একটি ক্যাফে আবিষ্কার মোটামুটি আনন্দের সংবাদই বলা যায়। মজার ব্যাপার হলো, প্রতিদিন এদিক দিয়ে যাতায়াত করা হলেও কেন যেন এতদিন ‘এম ক্যাফে’ চোখেই পড়েনি!

এম ক্যাফে
কলাবাগানের লাজ ফার্মাকে হাতের বায়ে রেখে খানিকটা সামনে এগুলেই দেখা মিলবে এম ক্যাফের। বাইরে থেকে খুব একটা নজর কাড়ে না এর সাইনবোর্ড। সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই অবাক হতে হবে। ছিমছাম সুন্দর ক্যাফের ভেতরটা। সংগীত জগতের বিভিন্ন নামীদামী তারকার ছবি দিয়ে সাজানো ইন্টেরিওর। বিফ বার্গারের একটি প্ল্যাটার অর্ডার করলাম। বার্গারের পাশাপাশি আসবে অনিওন রিং, ফ্রাইড স্রিম্প আর লেমোনেডও। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাজির হলো খাবার।

বার্গারের প্ল্যাটার
মচমচে অনিয়ন রিং টমেটো সস ও মেয়োনিজে ডুবিয়ে খেতে বেশ লাগলো। মুচমুচে ফ্রাইড স্রিম্পে কামড় দিতেই ভেতরের নরম অংশের স্বাদ এসে ঠেকল জিভে। সসের সঙ্গে খুবই মুখরোচক আইটেমটি খেতে। লেমোনেড পরিবেশনের পাত্রটি বেশ মজার। বয়ামের মধ্যে স্ট্র দেওয়া লেমোনেডের পাত্রটিই যেন এর আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকাংশে। চেখে দেখার পরও হতাশ হতে হয়নি। ঠাণ্ডা লেমোনেডে প্রাণ জুড়িয়ে এবার কামড় দিলাম বার্গারে। সস ও মেয়োনেজে মাখামাখি ছোটখাট বার্গারটি। জুসি বার্গারটির বান ও পেটি দুটিই বেশ ফ্রেশ। কামড় দিতেই গড়িয়ে নামতে শুরু করলো সস। ভদ্রস্থ হয়ে বার্গার শেষ করতে মোটামুটি যুদ্ধই করতে হলো!

বার্গার
কথা হলো এম ক্যাফের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন মির্জা ওয়াহিদের সঙ্গে। ৪ জন সত্ত্বাধিকারীর মধ্যে একজন তিনি। জানা গেল এম ক্যাফে তাদের যাত্রা শুরু করেছে মাস কয়েক আগে। এর মধ্যেই বেশ ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে ভোজনরসিকদের কাছ থেকে।
ওয়াহিদ জানালেন এম ক্যাফে শুরুর পরিকল্পনা সম্পর্কে। এই এলাকায় প্রচুর অফিস, ইউনিভার্সিটি ও কোচিং সেন্টার রয়েছে। কিন্তু লাঞ্চ অথবা ডিনারের পাশাপাশি মনোরম পরিবেশে বসে দুদণ্ড বিশ্রাম নেওয়ার মতো রেস্টুরেন্ট নেই বললেই চলে। যেগুলো আছে সেগুলোর দাম শিক্ষার্থী ও মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীদের নাগালের প্রায় বাইরে। সবার জন্য সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক একটি ক্যাফে শুরু করার পরিকল্পনা এ কারণেই মাথায় এসেছিল বলে জানালেন মির্জা ওয়াহিদ। এমন একটি ক্যাফে যেখানে মোটামুটি কম দামের মধ্যেই যেমন মিলবে ভালো মানের খাবার, তেমনি বন্ধুদের নিয়ে আড্ডার পাশাপাশি চাইলে খানিকটা পড়াশোনাও করে নেওয়া যাবে। জানা গেল মেন্টরস কোচিংয়ের প্রচুর শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এখানে নিয়মিত আসেন তাদের দুপুরের খাওয়া সারতে।

এম ক্যাফে
এত রেস্টুরেন্টের ভিড়ে এম ক্যাফেতে কেন মানুষ বারবার আসতে চাইবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে এম ক্যাফের হেড অব মার্কেটিং কাযরিয়া কায়েস জানালেন এখানে প্রতিটি কাজ করা হয় অতি যত্নের সঙ্গে। আন্তরিকতার পূর্ণ ছোঁয়া থাকে বাজার করা থেকে শুরু করে খাবার পরিবেশন পর্যন্ত। এমনকি বাজার করার সময় স্বত্বাধিকারীদের কেউ না কেউ উপস্থিত থাকেন সবসময়। এখানকার বার্গার ও রেড পাস্তা এর মধ্যেই বেশ সুনাম কুড়িয়েছে বলে জানালেন কাযরিয়া। এছাড়া কার্লোস স্টেক বার্গার, বারবিকিউ চিকেন প্ল্যাটারও পছন্দ করছেন অনেকে।   

পাস্তা
খেলা চলাকালীন সময়ে স্ক্রিনিং করা হয় এম ক্যাফেতে। খেলাপ্রিয় যারা তখন তাদের আনাগোনাও বেড়ে যায়। শুধুমাত্র খেলা চলাকালীন সময়ে পরিবেশন করার জন্য এম ক্যাফে চালু করেছে বেশ কয়েকটি বিশেষ প্ল্যাটার। প্রতিষ্ঠাতা মির্জা ওয়াহিদ জানালেন, শুধু সুস্বাদু খাবার ও সাশ্রয়ী দামই নয়; সর্বোপরি পরিবেশ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসাই তাদের ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনে বারবার। 

/এনএ/

লাইভ

টপ