ঈদে ক্রেতাদের পছন্দ কুমিল্লার খাদি

Send
মাসুদ আলম, কুমিল্লা
প্রকাশিত : ২১:৪৪, জুন ১১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৮, জুন ১১, ২০১৮

কুমিল্লার খাদি এক সময় সংগ্রামী মানুষ আর গরিবের পোশাক হিসেবে পরিচিত ছিল। কুমিল্লার ঐতিহ্যের খাদি এখন ঈদের ক্রেতাদের এবং ফ্যাশনে সময়ের চাহিদা মেটাচ্ছে। ঈদ ছাড়াও যে কোন ধর্মীয় উৎসবে খাদির কাপড় ক্রয়ে আগ্রহী হচ্ছেন ক্রেতারা। ঈদকে ঘিরে কুমিল্লায় খাদি কাপড়ের দোকানে এখন প্রতিদিনই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। দিন দিন বাড়ছে কুমিল্লার খাদি কাপড়ের কদর।

ঈদের আর ৭/৮দিন বাকী। ঈদ কেনাকাটায় উপচে পড়া ভিড় কুমিল্লার খাদি দোকানগুলো থেকে শুরু করে নগরীর শপিং মল আর ফুটপাথের দোকান গুলোতে। এই সময়ে নগরের ক্রেতাদের সঙ্গে উপজেলার ক্রেতারাও ভিড় করছেন।

উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ক্রেতার ভিড় নগরীর সাত্তার খান কমপ্লেক্স, খন্দকার হক টাওয়ার, ময়নামতি গোল্ডেন টাওয়ার, ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজা, চৌরঙ্গী শপিং কমপ্লেক্স, কুমিল্লা টাওয়ার ও টাউন হল সুপার মার্কেটে। নিম্নবিত্তের ভিড় বেশি নগরীর শাসনগাছা রেলওয়ের ওভারপাসের নীচে, কান্দিরপাড়, মনোহরপুর, রাজগঞ্জ,রামঘাট ফুটপাথ এবং নিউ মার্কেটের আন্ডার গ্রাউন্ডে। এছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকানেও উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদকে ঘিরে কুমিল্লার খাদি পোশাকের মধ্যে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, সেলোয়ার কামিজ, ওড়না, বিছানার চাদর, গায়ের চাদরসহ ব্যবহার্য পণ্য সামগ্রীতে নজরকাড়া ডিজাইন আনা হয়েছে।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে খাদির সব ধরণের পোষাকে আধুনিকতা আসলেও খদ্দরের সেই মোটা কাপড়ের পাঞ্জাবি এখনও আগের জৌলুস ধরে রেখেছে। খাদির পোশাক যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনি পরতে আরামদায়ক। কুমিল্লা মহানগরীর মনোহরপুর ও লাকসাম রোডে খাদিপণ্য বিক্রির পুরানো দোকানগুলোর পাশাপাশি অসংখ্য নতুন দোকান গড়ে উঠেছে। অন্যান্য জেলার লোকজন কুমিল্লায় বেড়াতে এলে স্মারক হিসেবে নিয়ে যান কুমিল্লার খাদি।

খাদির পাঞ্জাবি ভালো বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ভুইয়া ম্যানশনের পদ্মা খাদিঘরের স্বত্বাধিকারী এমরান হোসেন। তিনি জানান, শপিং কমপ্লেক্সের কাপড়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাদি কাপড়ের বাহারি ডিজাইনের পরিমাণ বাড়ছে। ঈদকে ঘিরে খাদি ফ্যাশনেবল পোশাক হওয়ায় ক্রেতাদের পছন্দ বেড়েছে। যার কারণে আমাদের বিকিকিনি বেড়েছে।   

দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা গ্রামের গ্রামীণ খদ্দর ভাণ্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী রঞ্জিত দেবনাথ জানান, বাপ-দাদার ঐতিহ্যের পেশা হিসেবে এখনও কাপড় বুনছি। সুতা ও তুলার দাম বাড়ায় আমরা বেকায়দায় পড়ছি। তবে বর্তমানে ঈদসহ যে কোন উৎসবের বাজারে খাদির চাহিদা বাড়ছে। সে পরিমাণে যোগান দিতে কষ্ট হচ্ছে।

বাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা ক্রেতা এইচ এম সিরাজ বলেন, খাদির পণ্য আরামদায়ক এবং দামেও কম। কুমিল্লায় আসলে খাদির জামা না কিনে ফিরি না। পরিবারের জন্যও খাদির কাপড় কিনে নিই।

কুমিল্লা মহানগরীর প্রবীণ খাদি কাপড়ের ব্যবসায়ী খাদিঘরের স্বত্ত্বাধিকারী প্রদীপ কুমার রাহা বলেন, শুধু মসলমানের ঈদ নয়। সব ধর্মের উৎসবে খাদির চাহিদা বাড়ছে। খাদি শিল্পের প্রসারে মাঠ পর্যায়ে প্রান্তিক খাদি শিল্পীদের সঠিক ভাবে জরিপ করে তাদের অসুবিধা-অসুবিধা জেনে তাদের সংগঠিত করা উচিত।

 

/এফএএন/

লাইভ

টপ