‘ডাবডুব’ খেতে

Send
ফাতেমা আবেদীন
প্রকাশিত : ২০:১৪, জুন ২৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৯, জুন ২৩, ২০১৮

থুকপা মুরগি গোরাম, মাছ গোরাম, কাচকি মাছ হলা, কাঁকড়া ভুনা, শামুকের মাংস, কাচকি মাছের হুরবো, শুটকি হেবাং, নাপ্পি, থুকপা, মুংদি, শুটকি হুরবো, আম হুরবো, পাজন, তাবাদি সবজি!

নামগুলোর সঙ্গে কী পরিচিত? আপনি যদি খাদ্যরসিক একই সঙ্গে পাহাড়প্রেমী হয়ে থাকেন, তবে এই খাবারগুলো নিশ্চিত আপনার জিভে জল এনে দেবে। এগুলো চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের জনপ্রিয় সব খাবার। আর এই খাবারগুলো পাত পেড়ে খাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ঢাকার রেস্তোরাঁ সিএইচটি এক্সপ্রেস।

পাহাড়ের খাবার সমতলে যখন তখন একটু ফিউশন তো থাকেই। সিএইচটি এক্সপ্রেসও এর ব্যাতিক্রম নয়। দারুণ দারুণ সব ফিউশন করেছেন এই রেস্তোরাঁরা মালিক বনাম প্রধান শেফ অর্পণ চাকমা।

অন্দর দুই বন্ধু অর্পণ ও মোহন চাকমা মিলে শুরু করেছিলেন অনলাইন ফুড সার্ভিস। মূলত ঢাকায় অবস্থানরত পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীদের পছন্দের খাবার সরবরাহ করা দিয়েই শুরু। সেই ছোট্টবেলার মায়ের হাতের স্বাদ। এরপর দুজন মিলে রেস্তোরাঁ খুলে ফেললেন। মিরপুর কাজী পাড়া স্বপ্ন লাইফের পাশের রোডে সিএইচটি এক্সপ্রেস। এরপরের গল্পটা শুধুই জনপ্রিয়তার।

অর্পণ নিত্য নতুন আইডিয়া মিলিয়ে রান্না করেন। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারের নাম বাঁশ গোরাম। বাঁশের ভেতরে বিন্নিভাত থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, সবজি এমনকী পাস্তাও তৈরি করেছেন অর্পণ। হোম ডেলিভারি আর রেস্তোরাঁ সার্ভিস দিয়ে কূল পাচ্ছেন না।

বিফ স্টেক রোলএছাড়া বাঁশ দিয়ে রান্না করা হাঁসের মাংস, গরু, মুরগির মাংস তো রয়েছেই। সর্বশেষ সংযোজন ডাবডুব। ডাবের জেলো পুডিং সার্ভ করা হয় ডাবের ভেতরে। সঙ্গে থাকে ডাবের শাঁস। এই ডাবডুবে নিজস্বতা আনতে অর্পণ মিশিয়েছেন পাহাড়ি সুগন্ধী গুল্প। কখনও মনে হবে এতে লেমন গ্রাস দেওয়া হয়েছে। কখনও পুদিনার হালকা স্বাদ। ডাবডুবের মতো এই অসাধারণ ডেজার্টে আসলে কী দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে আপনাকে হানা দিতে হবে সিএইচটি এক্সপ্রেসে। ডাবডুবের দাম মাত্র ১২০টাকা।

এখানে কন্টিনেন্টালেরও দেখা মিলবে। তবে স্বাদ একদম ভিন্ন। গ্রিল্ড চিকেন বা ফ্রাই চিকেন খেলেই মনে হবে একদম আলাদা কিন্তু লোভনীয় কোনও পরিচিত স্বাদ পাচ্ছেন। একইরকম ভিন্ন স্বাদ পাবেন, চিকেন রোলাটো, ফিশ অ্যান্ড চিপ্স, স্পেশাল ফিশ ফ্রাই, টমইয়াম স্যুপে।

চিকেন রোলাডোপ্রধান শেফ অর্পণ রহস্য ভাঙলেন। স্বাদে এই ভিন্নতা আনার মূল উপাদার হচ্ছে পাহাড়ি সুগন্ধী গুল্ম। এগুলো স্বাদ বদলে দেয়।

প্রতিদিন সিএইচটি এক্সপ্রেসে পাহাড়ি খাবারের পাশাপাশি কন্টিনেন্টাল পাওয়া যায়। অনেকজন খেতে চাইলে একটু আগে থেকে বলে যেতে হবে, একজন দুইজন খেতে চাইলে বেলা ১২টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে ঢুকে পড়লেই চলবে।

তবে একটাই অনুরোধ সিএইচটি এক্সপ্রেসে গিয়ে ডাবডুব মিস করবেন না এবং বাঁশের ভেতর রান্না করা মাছ মাংস বা পাস্তা না খেলে আপনিই পস্তাবেন।

ছোট্ট এই রেস্তোরাঁর অন্দরের সাজও আপনার ভালো লাগবে। পাহাড়ি ছোঁয়া সবখানে। আর গিয়ে খাওয়ার সুযোগ না থাকলে সুন্দর করে  ফেসবুক পেইজে গিয়ে অর্ডার করে দিন পছন্দের খাবার। দাম, পরিমাণ সবই পাবেন ফেসবুক পেইজে।

 

 

 

/এফএএন/

লাইভ

টপ