লোকচক্ষুর আড়ালে ঘাগড়ার গিরি নির্ঝর

Send
জিয়াউল হক, রাঙামাটি
প্রকাশিত : ১৬:০০, জুলাই ১৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০৬, জুলাই ১৮, ২০১৮

ছোট ঝিরির পথ ধরে পা ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া,ছোট-বড় পড়ে থাকা পাথরের পাশ দিয়ে পানির ওপর হেঁটে ছুটে চলা ঝরনার স্রোতের অভিমুখে। অতঃপর দশ ফুটের পাহাড় পেরিয়ে পৌঁছে যাওয়া সেই গিরি-নির্ঝরের পাশে। এটি রাঙামাটির চিরচেনা সেই সুবলং ঝরনা নয়,লোকচক্ষুর আড়ালে পড়ে থাকা ঘাগড়া ঝরনা। রাঙামাটিতে ঝরনা বলতেই মানুষ জানে ইঞ্জিনচালিত বোট দিয়ে কাপ্তাই হ্রদের বুক চিরে পাহাড়ের নিচে ঝরনার পানিতে ঠাঁই নেওয়া। কিন্তু ঘাগড়া ঝরনায় যাওয়ার জন্য বোটের প্রয়োজন হবে না। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের পাশেই ঘাগড়ার কলাবাগান নামক স্থানে নেমে আধ ঘণ্টা হাঁটলেই পাওয়া যাবে এই মায়াবিনী ঝরনার খোঁজ।

ঘাগড়া ঝরনা
রাঙামাটির শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার যাওয়ার পর কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকায় পৌঁছানোর পর ঝিরির ওপর পা রাখতেই মনটা কেমন সতেজ হয়ে ওঠে। আস্তে আস্তে পা ফেলে ছোট-বড় পাথর ডিঙিয়ে পানির ওপর হেঁটে চলা। মাঝে মাঝে ঝিরিটাও পাহাড়ের ওপর উঠে যাওয়ায় হামাগুড়ি দিয়ে সেই পাহাড়ও পাড়ি দিতে হয়। হামাগুড়ি দিতে দিতে অতঃপর মূল ঝরনার কাছেই চলে আসতেই দেখি ঢেউয়ের সারির মতো পাহাড় থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে।

ঘাগড়া ঝরনা
এই ঝরনাটি অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে পড়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে রাঙামাটিতে অনেক এমন ঝরনা প্রাণ ফিরে পায়। শুধু প্রচারণার অভাবে পর্যটকদের আনাগোনা তেমন একটা হয় না। এমনকি স্থানীয়রাও অনেকেই জানেন না ঝরনাটির কথা।  এদিকে পর্যটকদের মধ্যে মারামারির কারণে ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন কয়েকবার ঝরনায় ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা গেলে এই ঝরনাটিও হয়ে উঠতে পারে রাঙামাটির অন্যতম আকর্ষণ।

ঘাগড়া ঝরনা

ঝরনায় বেড়াতে আসা স্থানীয় সাংবাদিক শংকর হোড় বলেন, ‘রাঙামাটিতে যে কয়েকটা নামকরা ঝরনা রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে সহজে ভ্রমণযোগ্য ও সুন্দর ঝরনা হচ্ছে ঘাগড়া ঝরনা। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ঝরনাটি এখনও তেমন একটা প্রচার পায়নি। ঝরনায় ভ্রমণ করতে চাইলে স্থানীয়দের নানান বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের। এসব সমস্যা সমাধান করতে পারলে ঝরনাটি পর্যটকদের আকর্ষণে পরিণত হবে।’

ঘাগড়া ঝরনা
ঝরনায় বেড়াতে আসা আরেক স্থানীয় ফটো সাংবাদিক তৌসিফ মান্নান জানান, ‘জানার অভাবে এত সুন্দর একটি ঝরনাতে এতদিন আসা হয়নি। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে এখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলে হাজার হাজার স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটক আসবেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল বলেন, ‘স্থানীয় কিছু লোকে নিজের মধ্যে মারামারি করে। পাহাড়ি-বাঙালি মারামারিও হয়েছে তাই এটি এখন বন্ধ রাখা হয়েছে। এই ঝরনাটিতে লোকজনের চলাচল শুরু হলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. সোলাইমান বলেন, ‘এই ঝরনাটি অত্র এলাকায় ভাগ্য স্বরূপ। শুধু কিছু মানুষের জন্য এখন এটি বন্ধ। আমরা এলাকাবাসী চাই এটি চালু হোক।’
কাউখালি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এম জহিরুম হায়াত বলেন, ঝরনাতে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা ছিল না। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমাকে জানিয়েছেন ঝরনায় নিরাপত্তার অভাব হয়েছে। সাথে সাথে কিছুউচ্ছৃঙ্খল ছেলে গিয়ে মারামারি করে। তাই আপাতত ঝরনায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ। তবে সরকারিভাবে পর্যটন স্পট হিসেবে ঘোষণা হলে ট্যুরিস্ট পুলিশের মাধ্যমে নিরাপত্তা বিধান করলে সারাদেশের মানুষের আনাগোনা বাড়বে।

/এনএ/

লাইভ

টপ