যে গ্রামের রাস্তায় নেই একবিন্দু ময়লা!

Send
নওরিন আক্তার
প্রকাশিত : ০০:০৫, আগস্ট ২৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:০৫, আগস্ট ২৮, ২০১৮

সবুজে সবুজে আচ্ছাদিত চারপাশ। কোথাও লতানো পাতাবাহার তো কোথাও রঙিন ফুলের গাছ। ঝকঝক করছে রাস্তাঘাট। একবিন্দু ময়লা পড়ে নেই কোথাও। এতই পরিচ্ছন্ন এখানকার রাস্তা যে জুতা পায়ে হাঁটতেও মায়া লাগে! বলছিলাম এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম মাওলিননং এর কথা।  

মাওলিননং গ্রাম

মাওলিননং গ্রাম

ভারতের মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলায় অবস্থান ছবির মতো সাজানো গোছানো এই গ্রামটির। তৃতীয়বারের মতো ঢুঁ মারতে গিয়েছিলাম মেঘালয়ের এই গ্রামে। শিলং ও চেরাপুঞ্জি ঘুরে যেদিন বাংলাদেশে ফিরবো, সেদিন গেলাম গ্রামটি দেখতে। শিলং শহর থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের নিবাস মাওলিননং গ্রামটি। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের একেবারেই কাছাকাছি এই গ্রামে প্রতিদিনই আসেন অসংখ্য পর্যটক।


এখানকার সব বাড়িই ঘিরে রেখেছে সবুজ। কোথাও কোথাও পর্যটকদের জন্য বসেছে ছোট দোকান। এখানে স্থানীয় অধিবাসীদের হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়। কিছু দূর পর পরই ময়লা ফেলার জন্য বাঁশের ঝুরি সাজিয়ে রাখা। স্থানীয় বাসিন্দারা সারাদিনই সচেষ্ট থাকেন গ্রামটিকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য। পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ এখানে।


মাতৃতান্ত্রিক পরিবার এখানে। শিক্ষিত প্রায় ৯০ শতাংশ অধিবাসী। মূল পেশা কৃষিকাজ। ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক ট্র্যাভেল ম্যাগাজিন থেকে সর্বপ্রথম এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি পায় মাওলিননং। পরবর্তীতেও আবার একই পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছে গ্রামটি।


কেউ এখানে রাত্রিযাপন করতে চাইলে সেই সুযোগও রয়েছে। হোম স্টে বা স্থানীয় অধিবাসীদের বাসায় থাকার খুবই ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। চাইলে দুই এক রাত থেকে দেখতে পারেন গ্রামের সৌন্দর্য। একদম কাছাকাছি দূরত্বে আছে গাছের তৈরি প্রাকৃতিক সেতু ও বরহিল ঝর্না। সময় সুযোগ বুঝে দেখে আসতে পারেন সেগুলোও।


জেনে নিন
মেঘালয় ঘুরতে চাইলে আপনাকে ভিসা করাতে হবে ডাউকি দিয়ে। সিলেট নেমে তামাবিল বর্ডারে এসে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ঢুকে পড়ুন মেঘালয়ে। চলে যেতে পারেন শিলং, ডাউকি কিংবা চেরাপুঞ্জিতে। সবখানেই থাকা ও খাওয়ার খুবই ভালো ব্যবস্থা রয়েছে।

/এনএ/

লাইভ

টপ