ভাসমান পেয়ারা বাজার: পর্যটকদের জন্য নেই পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা

Send
এস এম রেজাউল করিম, ঝালকাঠি
প্রকাশিত : ১৯:১৫, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩০, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৮

পেয়ারার মৌসুমে পর্যটকদের মিলনমেলা বসে ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা হাটে। প্রকৃতির নৈসর্গিক রূপ দর্শনে প্রতিদিন হাজারও পর্যটক এখানে ভিড় করেন। তবে পর্যটনের কোনও সুযোগ সুবিধা গড়ে না ওঠায় ভ্রমণ পিপাসুদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, পর্যটকদের জন্য বিশ্রামাগারসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিতে খুব শীঘ্রই কাজ শুরু করা হবে।  

ভাসমান পেয়ারা বাজার
শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসজুড়ে ভিমরুলির ভাসমান হাটে কোটি কোটি টাকার পেয়ারা কেনাবেচা হয়।  এখান থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদী ও সড়কপথে দেশি জাতের সুস্বাদু এ পেয়ারার যাচ্ছে। আর প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা এ জলের হাটের দৃশ্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্তের হাজারও পর্যটক এখন প্রতিদিন ভিড় করছেন এ পেয়ারা হাটে। কিন্তু তাড়াহুড়ো করেই দুপুরের মধ্যে হাট থেকে পর্যটকদের বিদায় নিতে হয়। এত বছরেও সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে পর্যটকদের জন্য এখানে বিশ্রামাগারসহ কোনও সুযোগ সুবিধাই তৈরি হয়নি। থাকা খাওয়ায়ও নেই কোনও সুব্যবস্থা। ফলে নারী পর্যটকরা একটু বেশিই বিপাকে পড়েন। পর্যটনে কোনও প্রশাসনিক নীতিমালাও গড়ে ওঠেনি।

বরিশালের বানারীপাড়া, পিরোজপুরের স্বরুপকাঠি উপজেলার আটঘর-কুরিয়ানা এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলার কৃর্ত্তিপাশা ও নবগ্রাম ইউনিয়নজুড়ে রয়েছে দেশ তথা উপমহাদের বৃহত্তম পেয়ারার বাগান। প্রায় ৩০০ বছর ধরে এ অঞ্চলে পেয়ারার আবাদ হয়ে আসছে।
এই পেয়ারা বাগানের বেশিরভাগ এলাকা ঝালকাঠির সদর উপজেলার মধ্যে অবস্থিত। ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ২০টি গ্রামে ৫০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হচ্ছে।

পেয়ারা বাগান এলাকায় প্রায় ১৫/২০টি ভাসমান বাজার রয়েছে। এসব হাটের মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভিমরুলি হাটটি বৃহত্তম।

ভাসমান পেয়ারা বাজার
বাগান থেকে ছোট ছোট নৌকায় পেয়ারা তুলে ভাসমান বাজারে আনেন কৃষকরা। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও নৌপথে পেয়ারা প্যাকেটজাত করে পাইকাররা নিয়ে যায়। পচনশীল এ ফসলটি পাকার দুই একদিনের মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে পচে যায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকরা। এ অঞ্চলে হিমাগার অথবা জ্যাম জেলির কারখানা না থাকায় বাগানেই প্রচুর পরিমাণ পেয়ারা নষ্ট হয়ে যায় বলে আক্ষেপ পেয়ারা চাষিদের।

পেয়ারা বাগান সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে হিমাগার অথবা জ্যাম জেলির কারখানা স্থাপিত হলে এ ফসলটি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অবশ্য জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছেন,  ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভিমরুলি গ্রামে হিমাগার স্থাপনের সম্ভব্যতা যাচাই চলছে।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক হামিদুল হক জানান, পর্যটকদের সুব্যবস্থা দিতে কয়েক বছর ধরেই চেষ্টা চালানোর পর পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে আর্থিক বরাদ্দ এসেছে। আর সেই বরাদ্দে একটি বিশ্রামাগারসহ পর্যটকদের জন্য টয়লেট নির্মাণের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু করা হবে। অপরদিকে পেয়ারা চাষি ও দেশিয় জাতের এ পেয়ারার মান উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়ারও প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানালেন তিনি। জ্যাম জেলির কারখানার জন্য বেসরকারি পর্যায়ে নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর। খুব শীঘ্রই এসব পরিকল্পনা কার্যকর করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান হামিদুল হক।

/এনএ/

লাইভ

টপ