আড়ং উৎসবে কারু ঐতিহ্যের সরব উপস্থিতি

Send
হাসনাত নাঈম
প্রকাশিত : ২০:৩৫, অক্টোবর ৩০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৯, অক্টোবর ৩০, ২০১৮

বাংলাদেশের শীর্ষ লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ংয়ের ৪০ বছরপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজন করেছিল তিন দিনব্যাপী ‘আড়ং ফোরটি ইয়ার্স ফেস্টিভ্যাল’। আর ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষে আড়ং দর্শনার্থীদের জন্য আয়োজন করে কারুশিল্প প্রদর্শনী। মাঠ জুড়ে সাজানো হয়েছিল ১২টিরও বেশি বিভিন্ন কারুশিল্পের স্টল দিয়ে। কীভাবে কোন পদ্ধতিতে সৃষ্টি হয় আড়ংয়ের এক একটি পণ্য, তা সরাসরি দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল দর্শনার্থীদের জন্য। ছিল দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।

প্রদর্শনীতে জামদানীর স্টলটিতে প্রদর্শিত হয়েছে ৫০টিরও বেশি জামদানী শাড়ির ডিজাইন। একই সঙ্গে দেখার সুযোগ করা হয়েছিল জামদানী শাড়ির বুনন প্রক্রিয়া। দর্শনার্থীদের জন্য বুননের কাজটি করছেন সোনার গাঁও সেকশনের এলেম মিয়া। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ আছেন আড়ংয়ের এই জামদানী সেকশনে।

পারুলব্লক প্রিন্টিং স্টলটিতে ছিল বাহারি ধরনের ব্লক। দেওয়ালে সাজানো হয়েছিল শতাধিকের বেশি কাঠের তৈরি ব্লক। আড়ং ১২টি জেলার ১৩টি জায়গা থেকে মো২১৯ জন কারিগরের কাছ থেকে ব্লক প্রিন্টিংয়ের জন্য ব্লক সংগ্রহ করে থাকে। স্টলটিতে সরাসরি ব্লক তৈরির কাজ করছেন মানিকগঞ্জের পারুল। তিনি এই পেশায় আড়ংয়ের সঙ্গে আছেন ১৭ বছর যাবৎ।

সূচীশিল্পের স্টলটির চারদিকের দেওয়াল সাজানো হয়েছিলো বিভিন্ন পাখি, পশু, ফুল, চাদার. শাড়ির পাড় দিয়ে। প্রতিটি কাজে প্রকাশ পেয়েছে শৈল্পিক নৈপুণ্য। স্টলটিতে কাপড়ে সূচের কাজ করছে ৬ জন। এদের মধ্যে উত্তরার কণা কাজ করছেন ২২ বছর ধরে আড়ংয়ের সঙ্গে। আগ্রহীরা এখন থেকেও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা পেয়েছেন সূচীশিল্পের বিষয়ে।রামকৃষ্ণ কর্মকার

আড়ংয়ে বিক্রিত মেয়েদের গহনা সংগ্রহ করা হয় ১০টি জেলার ২০টি স্থান থেকে। প্রদর্শনীতে রয়েছে গহনা শিল্পের আলাদা স্টল। এখানে প্রদর্শীত হয় বিভ্ন্নি অসাধারণ ডিজাইনের গহনা। এখানে সরাসরি গহনা তৈরির কাজ দেখিয়েছেন রামকৃষ্ণ কর্মকার। তিনি এবার আড়ং থেকে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন। আড়ংয়ের তিনি কাজ করছেন ১৯৯৪ সাল থেকে। 

আড়ংয়ের প্রতিটি পণ্যের ছিল আলাদা প্রদর্শন। এর মধ্যে কার্পেট বুননও বাদ যায়নি। সারি সারি কার্পেট দিয়ে সাজানো এই স্টলে সাভারের আলি আকবর।দেখিয়েছেন কার্পেট বুনন প্রক্রিয়া।  তিনি ১৯৯১ সাল থেকে আছেন আড়ংয়ের সঙ্গে।

বাঁশের তৈরি পণ্য নিয়ে আড়ং সাজিয়েছিল বাঁশজাত পণ্যের স্টল। এখানে শোভা হিসেবে বিদ্যমান ছিলো বাঁশের তৈরি ঝুড়ি, মোড়া, মাথাইলসহ আরও অনেক পণ্য। এখানে সরাসরি পণ্য তৈরি করে দেখিয়েছেন টাঙ্গাইলের আব্দুল হাকিম।

কাঠের তৈরি নানা পণ্যের প্রদর্শনী করা হয়েছি কাঠ খোদাই স্টলে। কুমিল্লার আনন্দ চন্দ্র শর্মা আড়ংয়ের সঙ্গে আছেন ২২ বছর যাবৎ। তিনিই কাঠের মূল কারিগর।  

প্রায় হারিয়ে যাওয়া মৃৎশিল্পকে আবার জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে আড়ং। এ নিয়ে ছিল আলাদা স্টল। মাটির তৈরি শতাধিক পণ্যের প্রদর্শনী রয়েছে এখানে। এখানেও দেখানো হচ্ছে কিভাবে তৈরি করা হয় মাটির পণ্য। পটুয়াখালীর কুমার কমল পাল দর্শনার্থীদের জন্য সারাদিন জুড়ে মাটির হাড়ি বাসন তৈরি করেছেন।

এছাড়াও এই উৎসবে বিনামূল্যে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে আড়ং।

এখানে ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্প নিয়ে ছিল আলাদা স্টল। এখানে রেশম পোকার জন্ম থেকে কাপড় তৈরি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিই দেখানো হয়েছে দর্শনার্থীদের।

রেশম পোকাঊল্লেখ্য, আড়ং প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালে, গ্রামীণ কারু ও হস্তশিল্পীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে। গত ৪০ বছর ধরে বাংলাদেশের আবহমান ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক ফ্যাশনের মেলবন্ধন ঘটিয়ে নিজেকে দেশের সবচেয়ে বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে আড়ং। বর্তমানে আড়ংয়ের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছেন ৬৫ হাজারেরও বেশি কারু ও হস্তশিল্পী। তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিক্রি হচ্ছে দেশজুড়ে আড়ংয়ের ২০টি আউটলেটে।

ছবি: আল মামুন 

/এফএএন/

লাইভ

টপ