সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ঘুড়ি ইশকুলের ইফতার

Send
জুবলী রাহামাত
প্রকাশিত : ১৬:১৭, মে ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩৪, মে ২১, ২০১৯

রাজধানীর শুক্রাবাদে ঘুড়ি ইশকুলে প্রবেশ করতেই দেখা গেল বিভিন্ন বয়সের বাচ্চারা ইফতার করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। সবার মুখেই প্রাণবন্ত হাসি। জানা গেল, আজ কোনও পড়াশানা হবে না। আজ শুধুই ইফতার করার জন্যই সবাই এক ছাদের নিচে মিলিত হয়েছে। বিভিন্ন বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ‘এক রঙা এক ঘুড়ি’ এর ব্যানারে ২০১৮ সালের অক্টোবরে 'ঘুড়ি ইশকুল' কার্যক্রম শুরু করে। 

পথশিশুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে একদল স্বেচ্ছাসেবক তরুণের হাত ধরে ২০০৮ সাল থেকে চলছে এই স্কুলের কার্যক্রম। এই দলে রয়েছেন কবি, সাহিত্যিক, লেখক, ফটোগ্রাফারসহ নানান পেশার কিছু স্বপ্নবাজ তরুণ যারা প্রতিনিয়তই স্বপ্ন দেখে পথশিশুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। ফেসবুক থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে যায়। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১১০ জন শিশু রয়েছে এই স্কুলে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে শুক্রাবাদে ‘ঘুড়ি ইশকুল’ তাদের কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী  রয়েছে এখানে। বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণও দেওয়া হয় বিনামূল্যে। ঘুড়ি ইশকুলের কার্যক্রম সম্পর্কে জানত চাইলে এর নির্বাহী পরিচালক এস এম মাসুদুল নীল বলেন, ‘আমরা এখানকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। যাতে তারা অবেলায় ঝরে না যায় এটাই আমাদের লক্ষ্য। এখান থেকে পড়শোনা শেষ করার পর  আমরা চেষ্টা করি আশেপাশের বিভিন্ন স্কুল যেমন- লেকসার্কাস স্কুল, নিউ মডেলে বা শুক্রাবাদ হাই স্কুলে রেফার করে দেওয়ার।’ 

‘এক রঙা এক ঘুড়ি’ কিছু নিয়মিত কার্যক্রম করছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম  হলো- শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ঈদে কাপড় বিতরণ কর্মসূচি,  গ্রীষ্মকালে ফল বিতরণ, শীতকালে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ। শিশুদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি তারা জাতীয় দূর্যোগেও কাজ করে। 

ঘুড়ি ইশকুলের সামনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে এর পরিচালক জানান, আগামী জুলাইয়ে জার্মানভিত্তীক  দাতা সংস্থা ' কেএনএইচ' এর সাথে পথশিশুদের উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করার জন্য কার্যক্রম শুরু হবে।  

/এনএ/

লাইভ

টপ