গভীর রাতেও উপচে পড়া ভিড় নিউমার্কেট এলাকায়

Send
লাইফস্টাইল রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:৩০, মে ৩১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩০, মে ৩১, ২০১৯

শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বড় বড় শপিংমলগুলো চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবার কেনাকাটার মূল স্থান ছিল ঢাকা নিউমার্কেট। সেই নিউমার্কেট এখনও মধ্য ও নিম্নবিত্তের কেনাকাটার মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই এলাকায় কেবল নিউমার্কেট নয়; আরও রয়েছে চাঁদনীচক, গাউছিয়া, হকার্স ও বদরুদ্দোজা মার্কেট। ১০ রমজানের পর থেকেই নিউ মার্কেট জমে উঠে পুরোপুরি। শেষ মুহূর্তে সেই ভিড় বেড়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। একেবারে সেহরির আগ পর্যন্ত চলছে বিকিকিনি।


গতকাল বুধবার রাত একটায় সরেজমিনে নিউমার্কেট গিয়ে দেখা গেল, পা ফেলার জায়গাও নেই এই এলাকায়। হাজার হাজার মানুষ ঈদের কেনাকাটা করছেন। নিউমার্কেট গাউছিয়ার সংযোগকারী ফুট ওভারব্রিজে উপচে পড়া ভিড়। হাড়ি-পাতিল ধরার ন্যাপকিন থেকে চামচ, জুতার পালিশ, ন্যাপথলিন কিংবা নামাজের ওড়না পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে এই মাঝরাতে।


উত্তরা থেকে হুমায়রা আহমেদ দুই মেয়ে নিয়ে এসেছেন। রাত ১টা বাজে, এখনও কেনাকাটা শেষ করতে পারেননি। উত্তরায় এত মার্কেট থাকার পরও কেন এখানে এসেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বললেন, নিউমার্কেট, গাউছিয়া বা চাঁদনীচকের কেনাকাটায় যে বৈচিত্র্য সেটা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এখানে এসেছিলেন মেয়েদের জন্য রেডিমেড জামা কিনতে। এজন্য গাউসিয়ার দোতলায় তৈরি পোশাকের দোকানগুলোতে ঘুরছিলেন। জানালেন গাউছিয়া থেকে নিউমার্কেটে যাওয়ার পথে ফুটওভার ব্রিজ থেকে চামচ, পিঠার ছাচ, শার্টের বোতাম, ডাল ঘুঁটনি, মাজুনি ও ন্যাপকিনের মতো অনেক জিনিস কিনেছেন। যেটা আর কোথাও পাওয়া যায় না।


তারা বানু এসেছেন লালবাগ মসজিদের পাশ থেকে। তিনি গজ কাপড় কিনেছেন গাউসিয়ার নিচতলা থেকে। বাড়ির কাছে ইসলামপুর, সেখানে পাইকারি কিনতে হয়। তাই জমকালো গজ কাপড়গুলো এখান থেকেই কেনেন। ভেলভেটে কাজ করা কাপড় নিলেন লেহেঙ্গা বানানোর জন্য। এইসময় দর্জি কাপড় বানাতে নেবে কিনা জানতে চাইলে বললেন তিনি নিজেই টেইলর। সময় পাচ্ছিলেন না বলে এই রাত ১টায় এসেছেন।
হকার্স মার্কেটের শুরুতে ঢাকা ফ্যাশনের শার্টের দোকানে উপচে পড়া ভিড়। এত রাতে কারা শার্ট কিনতে আসছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মালিক হযরত আলী জানালেন, নানা ধরনের পেশাজীবীরাই মূলত রাতের অফিস শেষ করে কেনাকাটা করতে আসেন। বিশেষ করে দোকানী ও ব্যাবসায়ীরা রাতে আসেন। অনেকে দিনের ভিড়ের চাপ এড়াতেই রাতে আসেন।  


নূরজাহান এসি মার্কেটে চলছে ঈদের বিকিকিনি। হাতের নাগালে ফ্যাশনেবল রেডিমেড ড্রেসের জন্য এই মার্কেটের জুড়ি নেই। এখানে মেয়েদের সিঙ্গেল কামিজ, লেগিংস, স্কার্ট, পালাজ্জো হাতের নাগালের দামেই পাওয়া যাচ্ছে। যাত্রাবাড়ি থেকে বাবার সঙ্গে এসেছেন মৌ। তিনি মা অ্যাপারেলসে এসেছেন পালাজ্জো ও টপস নিতে। ইতোমধ্যে গাউসিয়া থেকে তার দুটো জামা কেনা শেষ। মৌয়ের বাবা আবদুল লতিফ জানালেন, এই এক ঈদের কেনাকাটা করা হয়। তাই মেয়ের সখ পূরণে যাত্রাবাড়ি থেকে এখানে এসেছেন। জ্যাম এড়াতে তারাবি শেষ করেই বের হয়েছেন।


তিন মার্কেটেই নিরাপত্তা ও সড়ক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপক। নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মী শাজাহান জানালেন, চাঁদরাত পর্যন্ত এই এলাকায় এমন ভিড় থাকবে। বছরে একবারই এমন ভিড় হয়। ঈদের অতিরিক্ত ডিউটিতে তাদেরও মিলছে বাড়তি কিছু টাকা। তাই ক্রেতা বিক্রেতা সবাই সন্তুষ্ট।
ছবি: সাদ্দিফ অভি 



/এফএএন/এনএ/

লাইভ

টপ