ঈদ কেনাকাটা সেহরি পর্যন্ত জমজমাট বসুন্ধরা সিটি

Send
জুবলী রাহামাত
প্রকাশিত : ১৯:৩২, মে ৩১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩২, মে ৩১, ২০১৯

ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করতে রাজধানীবাসী ভিড় জমাচ্ছে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে। রাত এগারোটার দিকে মার্কেটে ঢুঁ মারতে গিয়ে দেখা গেল প্রবেশপথ থেকেই লম্বা লাইন!


বসুন্ধরা শপিং মলের নিরাপত্তা কর্মী শাহিন আলমে জানান, দিনের বেশিরভাগ সময়ই ভিড় বেশি থাকে। কিন্তু ইফতারের পর ভিড় সামলানো মুশকিল হয়ে যায়। 

শপিং মলটির ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা গেল নিচতলার গোলচত্বরে মানুষের ঘোরাফেরার ফাঁকেই জায়গা করে নিয়েছে বিভিন্ন কোম্পানি। এসব কোম্পানির প্রচারণার কাজ চলছে এখানে। মিনিসো তাদের প্রচারণার জন্য লটারির বিনিময়ে একটি  কালো গারি পুরস্কার হিসেবে রেখেছে। এক পাশে চলছে অদ্ভুত মুখোশ চশমা পরে ছবি তোলা। স্টলে থাকা কর্মী জানালেন, এটি একটি মোবাইল কোম্পানির প্রচারণা। যারা মুখোশ চশমা পরে ছবি তুলবেন, তাদের ছবি আপলোড করা হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেই ছবিগুলোর মধ্যে যারা বেশি লাইক পাবেন, তাঁরা জিতে নেবেন একটি স্মার্টফোন।

নিচতলায় রয়েছে সারা লাইফ স্টাইল, ইয়েলো, জেন্টল পার্ক, সেইলর, রিচম্যান এর মতো ফ্যাশন হাউজ।  তরুণরা তাদের পছন্দের পাঞ্জাবি কেনার জন্য এক ফ্যাশন হাউজ থেকে আরেক ফ্যাশন হাউজে চক্কর দিচ্ছে। প্রত্যেকটি ফ্যাশন হাউজেই দেখা গেল উপচে পড়া ভিড়।  কলেজ পড়ুয়া লামিয়া তাসনিম বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন। লামিয়া তাসনিম ফ্যাশন হাউজ সারা থেকে স্যামোসিল ফ্যাব্রিক্সের কামিজ কিনেছেন। পছন্দের পোশাকের সাথে সাথে অনেকে তাদের পছন্দের গ্যাজেটও কিনছেন। বাদ যাচ্ছে না ব্র‍্যান্ডের ঘড়িও। সেলক্স, টাইম জোন, টাইম ভিউ, ক্রিডেন্স এর শোরুমগুলোতে বেশ ভিড় দেখা যায়। 

ছেলেদের আউটফিটের জন্য পছন্দের জায়গা হচ্ছে বসুন্ধরা শপিং মলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ফ্লোর। এই ফ্লোরগুলোতে রয়েছে রিচম্যান, ক্যাটস আই, মুনসুন রেইন,  সেলাই ঘর, ইলিয়েন, এক্সট্যাসি প্লাস, জারা ম্যান, ও কোড,  দর্জিবাড়ি, প্লাস পয়েন্টসহ আরো অনেকগুলো ফ্যাশন হাউজ। এই ফ্যাশন হাউজগুলো তাদের পাঞ্জাবি,  ফরমাল শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট ও জিন্সেr জন্য বিখ্যাত। ক্যাটস আইয়ের বিক্রয় কর্মী হাসান মাসুদ বলেন,  ‘প্রত্যেক দিন ভিড় বেড়েই চলছে। কিন্তু গতবারের তুলনায় এবার আমাদের কেনাবেচা কমেছে। এবার ঈদ কালেকশনের মধ্যে ক্যাজুয়াল শার্টগুলো সবাই পছন্দ করছে।’ 



চতুর্থ ফ্লোরে শাড়ি ও সালোয়ার কামিজের আউটলেটগুলোতে তুলনামূলক কম ভিড় দেখা গেল। এখানে বিদেশি পোশাক ও গাউনের জয়জয়কার। একদামের দোকান লেখা থাকার পরও দরদাম করার সুযোগ দিচ্ছে দোকানিরা। বিক্রেতারা জানালেন, ক্রেতা কম থাকায় সামান্য লাভ রেখেই দিয়ে দিচ্ছেন পোশাক।
বাটা ও হাসপাপিসের শোরুমগুলোতে তিল পরিমাণ  জায়গা নাই। ইনিফিনিটি মেগা মলে যেহেতু ঘুরে পাঞ্জাবি, টিশার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট, শিশুদের পোশাক, ঘড়ি,  ব্র্যান্ডের পারফিউম কিনছেন অনেক ক্রেতা।    
ফাতেমা নাহরিন তার স্বামী ও সন্তানসহ জুতার শোরুম অ্যাপেক্সে এসেছেন নিজের জন্য জুতা কেনার জন্য। তিনি বলেন, ‘সবসময় বসুন্ধরা শপিং মলেই আসি ঈদের কেনাকাটা করার জন্য। অ্যাপেক্স থেকে আমি পুরো পরিবারের  জন্য জুতা নিয়েছি।’

দেশীয় ব্র্যান্ড  দেশিদশের নিজস্ব কিছু ক্রেতা রয়েছে যারা দেশীয় ঐতিহ্যের বিভিন্ন মোটিফের নকশার পোশাক কিনতে আগ্রহী- এমনটাই জানালেন দেশাল থেকে পোশাক কিনতে আসা ঋতু। কেবল পোশাক নয়, দেশিদশ প্রাঙ্গণে পাওয়া যাচ্ছে ঘর সাজানোর বিভিন্ন পণ্যও।
একতলার প্রসাধনীর দোকান স্টার এর বিক্রয়কর্মী জানালেন, কাভেরি মেহেদি কিনছেন প্রচুর ক্রেতা। ঈদের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার জন্য শপিং মল খোলা থাকছে সেহরির আগ পর্যন্ত।  

/এনএ/

লাইভ

টপ