তিনি ছবি বাঁধাইয়ের শিল্পী

Send
সৌহৃদ জামান নীদ
প্রকাশিত : ১৯:১৫, মে ৩১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫২, মে ৩১, ২০১৯

কোন নির্দিষ্ট কাজের প্রতি ভালোবাসা, সাধনা আর শ্রদ্ধাবোধ থাকলে সেটি একসময় পরিণত হয় শিল্পে। এমনই একজন শিল্পী মোহম্মদ জাহাঙ্গীর। তিনি ফ্রেমের কারিগর। ফ্রেমে ফ্রেমে বাঁধাই করা তার একেকটি ছবি যেন শিল্পিত মনের পরিচয়। সাদাকালো থেকে শুরু করে রঙবেরঙের বাহারি ডিজাইনের ফ্রেম তৈরি করেন তিনি যা দেশ এবং দেশের বাইরেও কুড়িয়েছে খ্যাতি।

মোহম্মদ জাহাঙ্গীর

বাংলাদেশী খ্যাতনামা আলোকচিত্রী রশিদ তালুকদার, নাইবউদ্দিন আহমেদ, আবদুল হামিদ রায়হান, আনোয়ার হোসেন, রফিকুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, মনজুর আলম বেগ, শফিকুল আলম কিরণ, ড. শহীদুল আলম থেকে শুরু করে অনেক স্বনামধন্য বিদেশি আলোকচিত্রীদের ছবি এবং সংবাদ মাধ্যমের তোলা ছবি জাহাঙ্গীর সযত্নে বাঁধাই করে চলেছেন। শিল্পীর আঁকা বা ধারণ করা ছবিকে আরও শৈল্পিকরূপ দেওয়াই যেন জাহাঙ্গীরের কাজ। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের বিখ্যাত শিল্পকর্ম ‘ম্যাডোনা ৪৩’ এবং ‘মনপুরা ৭০’ তিনি ফ্রেমবন্দী করেছেন নিজ হাতে। এছাড়াও বিগত ষোল বছর যাবত তিনি কাজ করে যাচ্ছেন গ্লোবালাইজিং ওয়ার্ল্ড, ছবি মেলা, চারুকলা ইনস্টিটিউট, দৃক গ্যালারি, বেগার্ট, ম্যাপ, পাঠশালা, ইউনিসেফ, অ্যাকশন এইড, আমেরিকান দূতাবাস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে।


বার্মাটিক সেগুন কাঠ, গর্জন কাঠ এবং বেশিরভাগ কেরোসিন কাঠে বিভিন্ন টেক্সার, কাঠ কালার, সাদা-কালো-নীল প্লাস্টিক মাউন্টে শিল্পীদের ছবিগুলোয় এক অনন্য মাত্রা যোগ করেন জাহাঙ্গীর। বাংলাদেশের খ্যাতনামা বিভিন্ন আলোকচিত্রীদের আলোচিত কাজসমূহ ফটোফ্রেমে প্রদর্শনীর বন্দোবস্ত করেন তিনি।  দেশে প্রথম পিবিসি ফ্রেমের উদ্যোক্তাও তিনি।


এ কাজের শুরু কীভাবে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর বলেন কিশোর বয়সেই বাবাকে হারিয়ে লেখাপড়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ফ্রেমের সঙ্গেই একসময় নিজের জীবনকে বেঁধে ফেলেন। নীলক্ষেতের গাউসুল আজম সুপার মার্কেটে রয়েছে তার ছবি বাঁধাইয়ের দোকান। চলতি বছরের মে মাসে এই শিল্পের সঙ্গে পথচলার ষোল বছর পূর্ণ করলেন জাহাঙ্গীর।

ফ্রেম তৈরির এই পেশাকে গ্রামবাসী বা আত্মীয়স্বজন তখন খুব একটা ভালো দৃষ্টিতে না দেখলেও এত বছর এত বড়মাপের শিল্পীদের শিল্পকর্মগুলো নিজ হাতে ফ্রেমবন্দী করার পর তিনি নিজেকে সার্থক মনে করেন। এজন্য তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন আলোকচিত্রী চঞ্চল মাহমুদের প্রতি। প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট শিশির ভট্টাচার্যের এঁকে দেওয়া তার পোর্ট্রেটকে তিনি সনদ হিসেবে গণ্য করেন। এই পেশায় নিজের প্রথম কাজের কথা স্মরণ করে জাহাঙ্গীর বলেন, শুরুর দিকে কারিগর হিসেবে তের বছর মামার ফ্রেম তৈরির প্রতিষ্ঠানে কাজ করে ও নিজ হাতে পূর্ণাঙ্গ কোনও ফ্রেমের কাজ শেষ করতে পারিনি। নিজের প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পর সেটি সম্ভব হয়। আক্ষেপের সুরে তিনি আরও বলেন, ফ্রেম তৈরির এই পেশার সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার সুবাদে নানান শিল্পীর ভালোবাসায় সিক্ত হলেও এই পেশা আঁকড়ে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে যে আর্থিক প্রতিষ্ঠা দরকার তা তিনি পাননি। তবে ভালো দিনের আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন বাংলাদেশে আলোকচিত্র প্রদর্শন বা ফ্রেম তৈরির এই শিল্পকর্মের কদর এবং মূল্যায়ন অতীতে সেভাবে দেখা না গেলেও ইদানীং কিছু সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যকরী উদ্যোগে সাধারণ মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন যা এর কদর বাড়াচ্ছে।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন 

/এনএ/

লাইভ

টপ