জাতীয় বৃক্ষমেলা: বারোমাসি ফলে আগ্রহ ক্রেতাদের

Send
নওরিন আক্তার
প্রকাশিত : ২১:২৫, জুন ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৫, জুন ২৪, ২০১৯

তপ্ত রোদের ঝাঁ ঝাঁ দুপুরে বেশ একটা মিষ্টি হাওয়া খেলে গেল সবুজে ঘেরা আঙিনায়। সেই বাতাসে ফুলের মিষ্টি গন্ধ। হেলেদুলে উঠলো গাছের ডালে ঝুলে থাকা টসটসে পাকা আম। শুধু কি আম? গাছের ডালে ডালে শোভা পাচ্ছে কমলা, আমলকী, করমচা, পেয়ারাসহ আরও কত কী! টবের গাছে ঝুলে থাকা ডাসা ডাসা সব ফলের মুগ্ধতা কাটতে না কাটতেই আপনাকে আপ্লুত করে তুলবে রঙ-বেরঙের গোলাপের দল। মাটির বড় সানকিতে ফুটে আছে পদ্মফুল। হরেক রকমের দেশি ও বিদেশি গাছের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে চাইলে আপনাকে ঢুঁ মারতে হবে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাণিজ্য মেলার মাঠে। ২০ জুন থেকে ‘শিক্ষায় বন প্রতিবেশ, আধুনিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০১৯। মাসব্যাপী এই মেলা চলবে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত।

আম গাছের প্রতি আগ্রহ ক্রেতাদের

বনসাই
ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় এখনও সেভাবে শুরু হয়নি মেলায়। বিক্রেতারা জানালেন, ছুটির দিনের বিকেলে ক্রেতা সমাগম হয় বেশি। এছাড়া দিন গড়ালে ভিড় বাড়বে এমনিতেই।

নানা জাতের ক্যাকটাস

সাজানো গোছানো গাছের সারি
যশোর থেকে বৃক্ষমেলায় অংশ নিতে এসেছেন মোশাররফ আলী। ‘আল্লাহর দান’ নার্সারির মালিক তিনি। জানালেন, বৃক্ষমেলা  উপলক্ষে ‘নাকাচুয়া’ নামের একটি জাপানি গাছ এনেছেন। এই গাছ এমনিতে খুব একটা পাওয়া যায় না। ক্রিসমাস ট্রির মতো চমৎকার আকার নিয়ে বেড়ে ওঠে গাছটি। ‘লিভিং আর্ট’ নার্সারি কেবল বনসাই নিয়েই অংশ নিয়েছে মেলায়। এখানে ৪ হাজার থেকে শুরু করে ৭০ হাজার টাকার বনসাই পাওয়া যাচ্ছে।

লটকন গাছ

উত্তরা থেকে তাসনিম প্রিয়া এসেছিলেন গাছ কিনতে। জানালেন প্রতি বছরই বৃক্ষমেলা থেকে গাছ কেনা হয়। ছাদে বাগান রয়েছে প্রিয়ার। সেখানে লাগানোর জন্য লটকন ও কমলা গাছ কিনতে এসেছেন। মোহাম্মদপুর নিবাসী আবির জানালেন বারান্দায় রাখার জন্য যুতসই ফুলের গাছ কিনতে এসেছেন। বৃক্ষমেলায় অনেক ধরনের গাছ থেকে পছন্দের গাছটি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। এজন্যই সকাল সকাল চলে এসেছেন মেলায়।  

ক্যাকটাস
ছাদে ও বারান্দায় লাগানোর উপযোগী বিভিন্ন ফল গাছের চাহিদা বেশি বলে জানালেন ইব্রাহিম নার্সারির বিক্রয়কর্মী। ড্রামে লাগানো বাতাবি লেবু, চায়না লেবু, করমচা, আমলকী, পেয়ারা গাছ বিক্রি হচ্ছে বেশি। ফুল গাছের মধ্যে গোলাপ, বেলি, গন্ধরাজের চাহিদা বেশি বলে জানা গেল। বিশেষ করে বারোমাসি ফুলের উপর আগ্রহ বেশি সবার।

হরেক রঙের গোলাপ নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের
‘ডানকানস অর্কিড স্টল’ এ নজরকাড়া সব রঙের অর্কিড দেখা গেল। বারান্দা ও হালকা রোদে অর্কিড ভালো থাকে বলে জানালেন স্টলের বিক্রেতা। ঝুলন্ত অর্কিডগুলো ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নানা জাতের অর্কিড

ক্রেতারা গাছ দেখছেন
‘সৌদি খেজুর নার্সারি অ্যান্ড অ্যাগ্রো’ নিয়ে এসেছে সৌদি খেজুরের চারা। বিক্রেতা গোলাম হোসেন জানালেন, সৌদি খেজুরের বীজ থেকে বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত এসব চারার প্রতি মানুষের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এর মধ্যেই ড্রামে লাগানো দুটি খেজুর গাছ বিক্রি করে ফেলেছেন ২ লাখ ২০ হাজার টাকায়। এছাড়া চারা রয়েছে, দাম পড়বে ২ হাজার টাকা।

সৌদি খেজুরের চারা

নতুন ধরনের এই ইনডোর প্ল্যান্ট নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের

ইনডোর প্ল্যান্ট ও হরেক জাতের রঙ-বেরঙের ক্যাকটাস রয়েছে মেলায়। বিশাল আকৃতির চাইনিজ বটের বনসাই বিক্রি হচ্ছে আড়াই লাখ টাকায়।

গাছে ধরেছে আমলকী

হরেক রকমের গাছ
আমের পাশাপাশি জাম্বুরা, ডালিম, থাই আমলকী, চায়না লেবুর গাছ কিনছেন অনেকেই। কমলা গাছ ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আম্রপলি, ব্যানানা ম্যাংগোসহ আরও নানা জাতের আমের চারা ও গাছ রয়েছে মেলায়। দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু। গোলাপ গাছের চারা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

জাম্বুরা ও কমলা গাছ হয়েছে টবে
গোলাপের পাশাপাশি কামিনী, গাঁদা, জারবেরা, রঙ্গন, কাঠ গোলাপ, করবী গাছ রয়েছে। ফলদ বৃক্ষের মধ্যে বিলাতি গাব, লাল কাঁঠাল, স্ট্রবেরি পেয়ারা, থাইল্যান্ডের ডুরিয়ানের মতো বিদেশি ও হাইব্রিড গাছের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা গেছে।

ইনডোর প্ল্যান্ট কিনছেন ক্রেতারা
মেলায় গাছের পাশাপাশি গাছ লাগানোর টব, ড্রাম, কীটনাশক, সার ও আনুষঙ্গিক বিভিন্ন কিছু পাওয়া যাচ্ছে।

গাছের পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র
মেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও তথ্যকেন্দ্রসহ এবারের মেলায় মোট স্টলের সংখ্যা ১০৪টি। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বৃক্ষমেলা।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন 

/এনএ/

লাইভ

টপ