পাকা আম খাবেন কেন?

Send
আহমেদ শরীফ
প্রকাশিত : ১৮:৪৮, জুলাই ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫২, জুলাই ১৭, ২০১৯

আমের মৌসুম চলছে এখন। হিমসাগর, আম্রপালি, ল্যাংড়া,হাড়িভাঙ্গাসহ নানা জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। ফলের রাজা বলা হয় আমকে। এই ফল খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি এতে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। পাকস্থলীর জন্য ও খাদ্য হজমে আম খুব উপকারী। যেহেতু আমে প্রচুর আঁশ থাকে, তাই প্রতিদিন একটি করে আম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস ও হজমের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়। আমে আঁশ ছাড়াও প্রচুর ভিটামিন বি সিক্স, ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি আছে। এছাড়া আমে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, কপারের মতো মিনারেল আছে প্রচুর। জেনে নিন আমের উপকারিতা সম্পর্কে।


সার্বিক সুস্বাস্থ্যের জন্য
আমে প্রচুর ভিটামিন থাকে বলে এই ফল সার্বিকভাবে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে। এতে রয়েছে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম, যা উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে দেয়। ভিটামিনের পাওয়ার হাউজ বলা হয় আমকে। এসব ভিটামিন বিভিন্ন রোগকে দূরে রাখে। আমে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হৃদরোগ প্রতিরোধ করাসহ বেশ কিছু রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
ক্যানসার প্রতিরোধ করে
আমে দ্রবণীয় আঁশ আছে প্রচুর। এটি কোলেস্টেরল কমাতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। আমেরিকার দ্য ইনস্টিটিউট ফর ফুড রিসার্চ এর এক গবেষণায় দেখা গেছে এই আঁশে থাকা গ্যালেকটিন থ্রি নামের একটি প্রোটিন সব ধরনের ক্যানসার রোধে ভূমিকা রাখে। এছাড়া ইউরোপিয়ান প্রোসপেকটিভ ইনভেস্টিগেশন অফ ক্যানসারের এক গবেষণায় জানা গেছে আম খেলে গ্যাস্ট্রো ইনটেসটাইনাল ট্র্যাক্টে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। আর নিউট্রেশন রিসার্চ জার্নালে প্রকাশ হওয়া এক গবেষণায় জানা গেছে আমে থাকা পলিফাইনল ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে কেমোথেরাপির মতো কাজ করে।
ওজন বাড়ায়
ইদানিং ওজন কমানো একটা চ্যালেঞ্জ হলেও অনেকেই আছেন যাদের ওজন তুলনামূলক কম।আম ওজন বাড়াতে ভূমিকা রাখে। তাই যদি ওজন বাড়াতে চান, তাহলে অন্য সব খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত আম খেলে উপকার পাবেন।
হজমে সহায়ক
গত বছর ফুড অ্যান্ড ফাংশন জার্নালে প্রকাশ হওয়া এক গবেষণায় জানা গেছে আমে থাকা পেকটিন হজমে সহায়তা করে। বদহজম দূর করা ও অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি কমাতে আম উপকারী। এতে থাকা এস্টার, টারপিন ও এলডিহাইড ক্ষুধা বাড়ায় ও হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।
রক্তস্বল্পতা দূর করে
আমে আয়রন আছে প্রচুর। তাই রক্তস্বল্পতা দূর করে এটি। চীনে আম দিয়ে তৈরি ‘ইন টনিক’ অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা, মাড়ির রক্ত ঝরা, কফ, কোষ্ঠকাঠিন্য, জ্বর, দুর্বলতা এসব রোগ সারাতে ব্যবহৃত হয়।
প্রসূতিদের জন্য উপকারী
আমে প্রচুর আয়রন থাকে বলে প্রসূতিদের জন্য এটি খুবই উপকারী। সন্তান জন্মের আগে ডাক্তাররা অনেক সময় ভিটামিন, আয়রন ট্যাবলেট সেবনের পরামর্শ দেন প্রসূতিকে। এক্ষেত্রে আম হতে পারে আদর্শ এক স্বাস্থ্যকর খাবার।
ত্বকের যত্নে
ত্বক ভালো রাখতে আম বেশ উপকারী। নিয়মিত আম খেলে ত্বক প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল থাকে। এছাড়া মুখের ব্রণ দূর করতে আমের রসালো অংশ মুখে ১০ মিনিট মেখে রাখলে উপকার পাওয়া যায়।
বয়স ধরে রাখে
আমে প্রচুর ভিটামিন এ এবং সি আছে, যা শরীরে কোলোজেন প্রোটিন তৈরি করে। এই প্রোটিন চামড়া কুঁচকে যাওয়া বা বয়স বাড়ার প্রক্রিয়া কমিয়ে দেয়। তাই আমকে অ্যান্টি অ্যাজিং ফুডও বলে।
মস্তিষ্ক কর্মক্ষম রাখে
আমে ভিটামিন সি, বি সিক্স  ফোলেট বেশি থাকায় মস্তিষ্ক কর্মক্ষম রাখতে এই ফল বেশ কার্যকর। আম খেলে মন ভালো থাকে, ঘুম ভালো হয় ও মস্তিষ্ক সুস্থ থাকে। এতে থাকা গ্লুটামাইন অ্যাসিড মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
আমে বিটা ক্যারোটিন থাকে প্রচুর। এই উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্তি বিটা ক্যারোটিন পরে শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ তে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্র: অর্গানিক ফ্যাক্টস

/এনএ/

লাইভ

টপ