ছায়া হয়ে পাশে থেকো বন্ধু

Send
ফাতেমা আবেদীন
প্রকাশিত : ০৯:৫৮, আগস্ট ০৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:১২, আগস্ট ০৪, ২০১৯

বন্ধু দিবসবছর দশেক আগে মুম্বাইয়ের এক ক্যান্সার হাসপাতালে ঘটেছিল এক অভূতপূর্ব ঘটনা। ২৬ বছর বয়সী সুহানি ছিলেন ক্যান্সার রোগী। কেমোথেরাপির কারণে চুল কেটে ন্যাড়া হয়ে যেতে হয়েছিল সুহানিকে। ভীষণ মন খারাপ ছিল তার। বন্ধুর মন ভালো করতে ৯ বন্ধু ন্যাড়া হয়ে চুল ফেলে দিয়ে হাসপাতালে হাজির হয়েছিলেন। গল্পটা নির্মেদ এক বন্ধুত্বের। বন্ধুই শুধু পারে বন্ধুর জন্য এমন স্বার্থত্যাগ করতে।

বন্ধু কারা? এমন প্রশ্নের কোনো জবাব নেই। যারা দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা বন্ধু, কারো বাবা বন্ধু, কারো বা মা, কেউ কেউ স্বামী বা সন্তানকেও বন্ধু বলে দাবি করেন। কিন্তু এইসব রক্তের কিংবা আইনগত সম্পর্ক ছাপিয়ে যে মানুষটার কাছে দায়হীন হয়ে আশ্রয় নেওয়া যায় সেই আসলে বন্ধু বলে মনে করে আসছেন সমাজের নানা শ্রেণি পেশার লোকেরা। পরিবারের মানুষগুলোকে একপাশে সরিয়ে যে মানুষটা কোনো কারণ ছাড়াই তার কাঁধ পেতে দেবে তিনিই প্রকৃত বন্ধু।

বন্ধুর কোনও প্রকারভেদ নেই আসলে- কে কখন বন্ধু হয়ে ওঠে সেটিরও কোনো ব্যাখ্যা নেই। বন্ধু দিবস বলে যে উদযাপন সেটিও কেবলমাত্র চলমান সংস্কৃতির অংশ। বাবা-মাকে ভালোবাসতে শ্রদ্ধা করতে যেমন দিবস লাগে না, বন্ধুর জন্যও দিবস লাগে না। বহু বছর পর প্রাণের বন্ধুর দেখা মিললেই ঝাঁপিয়ে পড়া যায়।

আর বন্ধু মানেই তো স্মৃতির ঝাঁপি। নস্টালজিয়ায় আনাগোনা। ছোট বেলার বন্ধু, স্কুলের বন্ধু, কলেজের বন্ধু, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু, পারিবারিক বন্ধু, হলের বন্ধু, খেলার বন্ধু, তুই বলা বন্ধু, আপনি ডাকা বন্ধু কিংবা অনুজ বন্ধু, অগ্রজ বন্ধু-সব বন্ধুর সঙ্গেই থাকে বা আছে কিছু অসাধারণ স্মৃতি। সেইসব স্মৃতি হাতড়ে বেড়িয়ে বন্ধুকে খুঁজে পেয়ে আমরা প্রায়ই বলে উঠি-বন্ধু কী খবর বল?

হালের সংস্কৃতিতে যুক্ত হয়েছে ফেসবুক বন্ধু। কত দূর দেশে থাকা মানুষ শুধু চিন্তা-কর্মের জের ধরে হয়ে যাচ্ছে বন্ধু। আগে পত্রমিতা বা কলম বন্ধু আর এই সময়কার ফেসবুক বন্ধুদের অনেক মিল আছে। পত্র লিখে বন্ধুত্ব করা লাগে না, প্রোফাইল দেখে বন্ধু হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে এমনিতেই বন্ধু হয়ে যাওয়া যায়। এই বন্ধুত্ব কিন্তু নিছক অন্তর্জালে আটকে থাকে না। দেখা হয় বন্ধুদের মাঝে, সম্পর্ক তৈরি হয়। বাড়ে জীবনের লেনদেন।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে বন্ধুত্ব তার কুফল থাকলেও সুফল নেহায়েত কম নয়। হুট করে মাঝরাতে রক্ত লাগবে, দেখা গেল আপনার পোস্ট দেখে বন্ধুরা হয় শেয়ার করে ছড়িয়ে দেয় নয়তো নিজে দিয়ে জীবন বাঁচায়।

এইতো কিছুদিন আগে তুহিন বলে এক তরুণ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছোটভাইকে হারিয়ে পাগল প্রায়। সেই ভাইকে খুঁজে দিল বন্ধুরাই। ফেসবুকে পোস্ট, শেয়ার, থানায় দৌঁড়াদৌঁড়ি মিডিয়ায় খবর প্রকাশ। সব করেই পথেই মিললো ভাই। তাও খুঁজে পেলেন এক বন্ধু। তুহিনের মতো কিছুদিন আগে আরেক ভদ্রলোক ফেসবুক বন্ধুদের কল্যাণে খুঁজে পেলেন হারিয়ে যাওয়া অসুস্থ মাকে।

অন্তর্জালের বাইরেও এমনটা ঘটে। বন্ধুর জন্য আমরা সবসময় দুহাত বাড়িয়েই রাখি। চেষ্টা করি ছায়া হয়ে পাশে থাকতে। সেইসব নিঃস্বার্থ বন্ধুদের জন্য বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা। তবে বন্ধুবেশি প্রতারক ও শত্রু থেকেও সাবধান। বন্ধু যেমন বুক দিয়ে আগলে রাখবে তেমনি এরা বন্ধুবেশি হয়ে সুযোগ নিয়ে আপনাকে বিপদে ফেলবে।

বন্ধুর ছায়া হয়ে থাকুন, বন্ধুকে ভালোবাসুন, দিবসে নয় প্রতিদিন ভালোবাসুন আপনার বন্ধুকে।

.

লাইভ

টপ