শুরু হলো জামদানি উৎসব

Send
জুবলী রাহামাত
প্রকাশিত : ২১:১৬, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৭, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

জামদানি শাড়ির ইতিহাস বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির। সোনালি যুগের এই অতীত বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আজ শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু হয়েছে ‘ ঐতিহ্যের বিনির্মাণ’ শীর্ষক পাঁচ সপ্তাহব্যাপী জামদানি উৎসব।

জামদানি উৎসব প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি এবং ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিল এশিয়া প্যাসিফিক রিজিয়নের প্রেসিডেন্ট ড. গাদা হিজাউয়ি-কাদুমি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। তিনি বলেন,  বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হলে আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা ছাড়া কোনও উপায় নেই। জামদানির কারিগররা এই ঐতিহ্যকে এখনও বহন করে চলছেন। দেশের তরুণদের মাঝে আমাদের অতীতকে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই জামদানি উৎসবের সূচনা। গাদা হিজাউয়ি-কাদুমি তার বক্তব্যে বলেন,  বাংলাদেশের জামদানি সারা বিশ্বের জন্য রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হওয়ার মতো অবস্থানে এই জামদানি শাড়ি অবস্থান করছে। এই শিল্প টিকিয়ে  রাখার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের অনেক ভূমিকা রয়েছে বলে আমি মনে করি। জামদানি উৎসব প্রতিবছর যাতে হয় সেজন্য আমি কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।  সেলিনা হায়াৎ আইভি বলেন,  এই শিল্পের শহরের বাসিন্দা হতে পেরে আমি আজ গর্ববোধ করছি। সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এই শিল্পকে। আমি অনুরোধ করি বাংলাদেশ সরকারের কাছে, যাতে জামদানি শিল্প ও এর কারিগরদের পৃষ্ঠপোষকতায় কোনও কমতি না থাকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন,  আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাসের কথা বলে এই জামদানি। জামদানির কথা বলতে গেলে শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর ইতিহাসও উঠে আসে। জামদানি শিল্পের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এসব নদীকেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। অতীত যাতে আমরা ভুলে না যাই সেজন্য এই শিল্পকর্মগুলোর প্রদর্শনীতে আমাদের সবার আসা উচিত। আমি এবং আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে কোনও অনুষ্ঠানে গেলে জামদানি পরে যাই। কেউ জিজ্ঞেস করলে আমরা খুবই গর্ব করে বলি এটা আমাদের নিজেদের জামদানি শাড়ি। সোনারগাঁকে ওয়ার্ল্ড ক্রাফট সিটির মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আমি ওয়ার্ল্ড ক্রাফট কাউন্সিলকে ধন্যবাদ জানাই।

অনুষ্ঠানে পাঁচ জন বয়নশিল্পী ও তাদের সহকারীদের শ্রেষ্ঠ  ‘কারুশিল্পী পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন ওস্তাদ মো. সজীব হোসেন ও তার সহকারী আলাল হোসেন, ওস্তাদ মোতালিব ও তার সহকারী নুর আমিন, ওস্তাদ মুনীর ও তার সহকারী আবু বকর, ওস্তাদ সিদ্দিক ও সহকারী মাকসুদা, ওস্তাদ জামাল ও তার সহকারী শাকিল।

জামদানি উৎসবে সহযোগী হিসেবে রয়েছে আড়ং, কুমুদিনী, অজান্তা ও টাঙ্গাইল শাড়িঘর।

 

/এফএএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ