প্রকৃতিকে ভালোবেসেই শিল্পী হয়েছেন তিনি

Send
হৃদয় সম্রাট
প্রকাশিত : ১৫:১৬, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩০, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

কারু তিতাস, একজন শিল্পী, একজন আঁকিয়ে। ৩০ বছর ধরে ক্যানভাসে রঙ দিয়ে সৃষ্টি করছেন প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানালেন কেমন করে বাংলার প্রতিটা ঋতু তাকে প্রভাবিত করেছে। সুজলা, সুফলা, শস্য, শ্যামলা এই বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য সব সময় তাকে প্রলুব্ধ করেছে তুলির আঁচড়ে সেসব দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে।

চিত্রশিল্পী কারু তিতাস
ছবির পথে যাত্রা...
শুরুটা আসলে কীভাবে হয়েছিলো সেটা সঠিকভাবে বলতে পারবো না। আমাদের বাড়িতে সবসময় আঁকাআঁকির পরিবেশ ছিল। মা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী আমাদের অনেক বড় অনুপ্রেরণা। তবু একেবারে ছেলেবেলা থেকে ছবি আঁকা শুরু করিনি। একটি ঘটনার পর থেকে আমার ছবি আঁকার প্রতি ভালোবাসা জন্মেছিল। তখন আমি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। একদিন পৃষ্ঠায় সুন্দর একটি ফুলের ছবি এঁকেছিলাম। তখন আমার মনে হলো যে, আমি কী সুন্দর একটা ফুল তৈরি করে ফেললাম! এরপর থেকেই শুরু হয় আমার নিত্য ছবি আঁকা। সেই থেকেই চলছে তুলির সঙ্গে বসবাস।
ছবি আঁকার অনুপ্রেরণা...
আমাদের পরিবারটা একটি আগাগোড়া শিল্পী পরিবার। এখানে আমরা পেয়েছি অবাধ স্বাধীনতা, শিল্পী হওয়ার সুযোগ। এই বিষয়কে অনুপ্রেরণা বলবো কিনা, ঠিক বুঝতে পারছি না, কেননা আমার পরিবার কখনও আমাদের ওপরে কোনও কিছু চাপিয়ে দেয়নি। বলেনি যে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। আমরা আমাদের পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়েছি। যেমন আমার ইচ্ছা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়াশোনা করার। আমি তাই করেছি। সবাই সাদরে গ্রহণ করেছে। আর একটি কথা না বললেই নয়, আসলে বাংলাদেশের প্রকৃতির বৈচিত্র্যই আমার ছবি আঁকার প্রেরণা। এই প্রকৃতিতে নেশা আছে।
ভালোবাসার নাম বাংলাদেশ...
অনুপ্রেরণা বা ভালোবাসার কথা যদি বলতে চাই তবে বলতে হয় বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্যের কথা। আমার মতো চিত্রশিল্পীদের জন্য এই দেশের কোনও বিকল্প হয় না। কেননা প্রতিনিয়ত এই দেশের ঋতু পরিবর্তন হয় যেমনটা অন্য কোনও দেশে হয় না। আর সবচেয়ে ভালো লাগে যে ২০ মাইল অন্তর অন্তর এই দেশের বাতাসের পরিবর্তন ঘটে। আর দেশের প্রকৃতিক পরিবেশতো অসাধারণ, একেকটি জায়গা একটি বিশেষত্ব নিয়ে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের ভাণ্ডার খুলেছে। আর এসব কারণে আমার ঘুরতে ভীষণ ভালো লাগে। তবে ঢাকা ছাড়া যেকোনও স্থানে ঘুরতে যেতে আমি আগ্রহী। যখনই সময় পাই তখনই ঘুরতে বের হয়ে যাই। একবার চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠেছিলাম, ট্রেনটি চলতে চলতে হঠাৎ এক স্টেশনে থেমে যায়। সেখানকার পরিবেশটা এতটাই নীরব আর সুন্দর ছিল যে, আমি ট্রেন থেকে নেমে যাই।

চিত্রশিল্পী কারু তিতাস
তরুণদের জন্য কিছু কথা...
ছবি আঁকা কাজটি করতে হয় ধৈর্য আর ভালোবাসা নিয়ে। আপনার মাথায় যদি সারাদিনের কর্মব্যস্ত দিকগুলো নিয়ে চিন্তা থাকে তবে আপনি কখনও ভালো ছবি আঁকতে পারবেন না। আর আরেকটা বিষয় হচ্ছে, এখানে কোনও শর্টকাট ওয়ে নেই। কোনটা ছবি আর কোনটা ছবি না, তা সময়ই একদিন বলে দেবে। ঠিক যেমন একটি কবিতা সব ভেঙেচুরে কবিতা হয়ে ওঠে।
চলছে অবিরাম আঁকাআঁকি
ছবি নিয়ে বাংলাদেশের মতো একটি জায়গায় কাজ করা খুবই কঠিন বিষয়। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আর ছবি তো একটি সময়োপযোগী ব্যাপার। সময় বলে দেবে কী হবে। এই মুহূর্তে শিল্পাঙ্গনে চলছে আমাদের ২৯ জন শিল্পীর বর্ষা বিষয়ক প্রদর্শনী। এখানে আমরা কাজ করেছি বর্ষণমুখর বাংলাকে নিয়ে। আমাদের প্রতিটি ছবিতেই বাংলাদেশের বর্ষাকালের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি ছবির মেঘ, বাতাসের ভাঁজ আর পরিবেশটার দিকে তাকালেই বর্ষার ছোঁয়া পাবেন শিল্পপ্রেমীরা। প্রদর্শনীটি চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

শপিং ব্যাগের উপর এঁকেছেন ছবি

শপিং ব্যাগের উপর এঁকেছেন ছবি
ক্যানভাস তুলি নিয়েই পথচলা...
ছবি ছাড়া আমি আমার দিন শুরু করতে পারি না। আর নির্দিষ্ট করে এক বিষয় ধরে বেশিদিন বসে থাকতে পারি না। যেমন আমি ফুলের ছবি আঁকছি, কিন্তু আমি বেশি দিন ফুল আঁকতে পারি না। আমাকে পরিবর্তন করতে হয় ছবি আঁকার বিষয় বা মাধ্যম। এখন যেমন কাজ করছি বিভিন্ন শপিং ব্যাগের উপর। ইচ্ছা আছে এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু কাজ করার। ২০২০ সালে ছবির একটি প্রদর্শনীর পরিকল্পনাও রয়েছে। ছবি নিয়েই জীবন শুরু, ছবি নিয়েই শেষ দিন পর্যন্ত থাকতে চাই।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন 

/এফএএন/এনএ/

লাইভ

টপ