মণ্ডপে মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি

Send
জুবলী রাহামাত
প্রকাশিত : ১৭:৪৫, অক্টোবর ০৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৮, অক্টোবর ০৩, ২০১৯

মহালয়ার মধ্য দিয়ে স্বর্গে অবস্থান করছেন দেবী দূর্গা। মহাষষ্ঠীতে দেবী দূর্গাকে আগমনের আহ্বানের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব ১৪২৬। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। রাজধানীর কয়েকটি পূজামণ্ডপে ঢুঁ মেরে দেখা যায় যে পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও প্রতিমা শিল্পীরা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। কেউ প্রতিমায় তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত, কেউ মণ্ডপের গেট তৈরিতে ব্যস্ত। 


কলাবাগান পূজামণ্ডপ
প্রতিবছরের মতো এবারও ধানমন্ডি সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি রাজধানীর কলাবাগান মাঠে আয়োজন করতে যাচ্ছে সার্বজনীন দুর্গাপূজা। কলাবাগান মাঠে প্রবেশ করে দেখা যায় বিশাল আকৃতির মণ্ডপ প্রস্তুত হচ্ছে। এই মণ্ডপটি দক্ষিণ ভারতের নকশার মোটিফে করা হয়েছে। মণ্ডপের চারপাশে রয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থাপনার এল ই ডি। কলাবাগান পূজামণ্ডপের নকশাকার সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘পূজা কমিটির দেওয়া নকশার ক্যাটালগ অনুযায়ী আমি ও আমার দল এই মণ্ডপ প্রস্তুত করেছি। আশা করি ৩ তারিখ সকালের মধ্যে মণ্ডপ পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে।’
ধানমন্ডি সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অমর পোদ্দার বলেন, ‘প্রতিমা তৈরির কাজ শিল্পীরা প্রায় শেষ করে ফেলেছে। শাস্ত্র ও রীতি অনুযায়ী আমরা দূর্গার চক্ষুদান করে ফেলবো।’ উৎসবের সামগ্রিক খরচ সম্পর্কে জানতে চাইলে অমর পোদ্দার বলেন, ‘ মূল খরচ চাঁদার মাধ্যমে তোলা হয়। এছাড়া স্পন্সরও রয়েছে।’
খামারবাড়ি পূজামণ্ডপ 
খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গণে সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘ আয়োজন করেছে এবারের দুর্গাপূজার মণ্ডপের। মণ্ডপটি ভারতের অজান্তা ও ইলোরা গুহার ভাবনায় নির্মিত হয়েছে।এর শিল্প নির্দেশক ভাস্কর উত্তম কুমার বলেন, ‘মণ্ডপের ভেতরের অংশ ভারতের ইলোরার ২৯ নং গুহার আদলে তৈরি করা হয়েছে। মণ্ডপের উপরের অংশটি অজান্তা গুহার আদলে করা হয়েছে।’ মণ্ডপের ভেতরের দেয়ালগুলোতে দেবী দুর্গার জীবনী বর্ণিত হয়েছে। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন দুর্গা ও তার পরিবারের সদস্যদের অলংকৃতকরণে ব্যস্ত শিল্পীরা।
সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘের সভাপতি সমীর চন্দ্র জানান, তিনি ও উত্তম কুমার দুজনই ৫ মাস আগে ভারতে গিয়েছিলেন অজান্তা ও ইলোরার ডিজাইন গ্রহণ করার জন্য। উত্তম কুমার বলেন, ‘এই গুহাগুলোতে গিয়ে আমি স্কেচ করে এনেছি। প্রতিবছর দুর্গাপূজার পরপরই আমরা নতুন থিমের জন্য চিন্তা করি।’  
ঢাকেশ্বরী পূজামণ্ডপ
জাতীয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির আয়োজনে পূজা আয়োজিত হয়ে থাকে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী পূজামণ্ডপে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষই এখানে আসেন দুর্গাদর্শনে। ঢাকেশ্বরীর এবারের পূজার মণ্ডপটি তৈরি করা হয়েছে দেবীদূর্গার পিতা সর্বশক্তিমান শিবের হিমালয়ের কৈলাশ শৃঙ্গের আদলে। তার সাথে রয়েছে শরত ঋতুর প্রতীক কাশফুল।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বলেন, ‘মা দূর্গাকে সদরে গ্রহণ করার জন্য আমরা প্রস্তুত। কিছু কাজ বাকী রয়েছে। সঠিক তিথির মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।’
রমনা কালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশেই রমনা কালী মন্দির। এখানে শিল্পীরা প্রতিমা সাজানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ ব্যস্ত পূজার লাড্ডু বানানোয়। শিল্পীরা প্রতিমা বানানোর কাজ শেষ করে ফেলেছেন, প্রতিমাতে রঙ করা হয়েছে। অলংকার দেওয়াও হয়েছে। এখন তারা ব্যস্ত প্রধান ফটকের নকশা নিয়ে।
রমনা কালী মন্দিরের এবারের দুর্গাপূজার প্রধান প্রতিমা শিল্পী অঞ্জন বণিক বলেন, ‘আমরা এবার প্রতিমা সাজানোর জন্য ক্যামিকেল রঙের পাশাপাশি শুদ্ধতার জন্য প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করেছি। এবার প্রধান ফটকে থাকছে মূল প্রতিমার আদলে তৈরি আরেকটি প্রতিমা।’

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন 

/এনএ/

লাইভ

টপ