যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে

Send
নোরা তাসনিম
প্রকাশিত : ১৮:২৫, আগস্ট ০৭, ২০১৫ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৮, ডিসেম্বর ২২, ২০১৫

handshakeকর্পোরেট জগত মানেই নিত্য নতুন প্রতিযোগিতা। যোগাযোগসহ অন্যান্য দক্ষতায় তুখোড় না হলে ছিটকে পড়তে হবে এ প্রতিযোগিতা থেকে। কারণ কর্মক্ষেত্রে উন্নতির অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যোগাযোগে কতোটা পারদর্শী তার উপর।
কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য প্রথমেই নজর দিতে হবে উপস্থাপন ভঙ্গির উপর। অন্যের নিকট নিজেকে প্রকাশ করা চাই আকর্ষণীয়ভাবে। সঠিক ব্যক্তিত্ব ও রুচিবোধ যেন আপনার কথা বার্তা ও চালচলনে ফুটে ওঠে শতভাগ। নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান কখনো উন্নতি করতে পারে না। অফিসে নিজেকে একজন দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সকলের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের ক্ষমতা থাকতে হবে। সুষ্ঠু যোগাযোগের মাধ্যমে সহকর্মীদের সাথে ভালো সম্পর্ক রক্ষা করাও কিন্তু আপনার ব্যক্তিগত দক্ষতার মধ্যে পড়ে। সবসময় গম্ভীর হয়ে থাকা কিংবা প্রয়োজন ছাড়া কথা না বলার অভ্যাস দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার জন্য তাই বাড়াতে হবে আবেগীয় দক্ষতা। সহকর্মীর সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানান ও উৎসাহিত করুন। এতে সম্পর্কে সরলতা বাড়বে। একসঙ্গে কোনো কাজ করতে গেলে সকলের মতামত নিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নিন। আগ বাড়িয়ে নিজেই সব করে ফেলতে যাবেন না। নিজের ভুল হলে তা স্বীকার করুন সঙ্গে সঙ্গে। ভুল শুধরে নিয়ে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। এটি অন্যের নিকট আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে। নিজে কথা বলবেন অবশ্যই, তবে তার আগে মনোযোগ দিয়ে কথা শোনার অভ্যাস করুন। কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় তা গুরুত্বের সঙ্গে শুনুন। প্রসঙ্গের বাইরে কথা বলতে যাবেন না। মনে রাখবেন একজন মনোযোগী শ্রোতা খুব সহজেই অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে। কথা শোনা শেষ হলে আপনার বক্তব্য গুছিয়ে বলুন। নিজের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করুন। তবে নিজের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য কখনো জোর খাটাতে যাবেন না। আপনার বক্তব্যের পক্ষে জোরালো যুক্তিগুলো তুলে ধরুন সুন্দর করে। সবসময় কথা বলবেন আত্নবিশ্বাসের সঙ্গে। তবে আচরণে অহংকার বা জেদ যেন প্রকাশ না পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। কর্মক্ষেত্রে সব ধরণের পরিস্থিতি সামলানোর জন্য উপস্থিত বুদ্ধির প্রয়োগ জরুরী।
যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাচনভঙ্গিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আপনার অঙ্গভঙ্গি যেন অন্যকে বিরক্ত না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। কথা বলার সময় অযথা হাত পা নাড়া কিংবা চিৎকার করা উচিত নয়। চাই সঠিক ভাষাগত দক্ষতাও। বাংলা ও ইংরেজি ভাষা নির্ভুল বলার পাশাপাশি ভাষায় আঞ্চলিকতা থাকলে তা পরিহার করা জরুরী। শুদ্ধ ভাষা, স্পষ্ট উচ্চারন ও কথা বলার মোহনীয় ভঙ্গি আপনার যোগাযোগকে আরোও সাবলীল করে তুলবে।

শুধু সামনাসামনি যোগাযোগ নয়, যোগাযোগের যেকোনো ক্ষেত্রেই চাই পূর্ণ দক্ষতা। বর্তমানে কর্পোরেট যোগাযোগের বেশিরভাগই হয় আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে। তাই তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা চাই পুরোপুরি। আবার অফিসের প্রয়োজনে লিখিত যোগাযোগের প্রয়োজনও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সঠিক প্রয়োজনটি যেন লেখার মাধ্যমে সুন্দর ভাবে ফুটে ওঠে তা লক্ষ্য রাখা জরুরী। ভুল বানান সমৃদ্ধ অগোছালো লেখা প্রতিষ্ঠানের সুনাম তো ক্ষুণ্ণ করবেই, পাশাপাশি আপনার যোগাযোগ দক্ষতাকেও করে তুলবে প্রশ্নবিদ্ধ। লেখার তথ্যগুলো সঠিক কিনা তা যাচাই করে নিন বারবার। কারোর সঙ্গে দেখা করার জন্য অ্যাপয়ন্টমেন্ট নিয়ে রাখলে অবশ্যই সময় মতো পৌঁছাবেন। সম্ভব হলে কাজের বাইরেও পরিচিত মানুষজনের সঙ্গে টুকটাক যোগাযোগ রেখে চলার চেষ্টা করুন। এটা পরবর্তীতে কাজে দিবে। সঠিক ও কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক জগতেও আপনার অবস্থান দৃঢ় করবে। 

 

জেনে নিন: 

  • কাজ কখনো ফেলে রাখবেন না। সময়ের কাজ সময়ে করুন।
     
  • প্রতিষ্ঠান আপনার কাছ থেকে কি চাচ্ছে সেটা আগে বুঝে নিন। সেই অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করুন।
     
  • কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স করে নিতে পারেন। এছাড়া পেশা সংক্রান্ত নানা বইও আপনার যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে 

 

/এনএ/

লাইভ

টপ