যত্নে বাড়ুক টবের গাছ

Send
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:০৮, জানুয়ারি ১৬, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩৬, জানুয়ারি ১৬, ২০১৬

টবে লাগাতে পারেন স্ট্রবেরি গাছ

বাড়ির সামনে বাগান করার জায়গা নেই তো কি হয়েছে? এক চিলতে বারান্দাতেই সাজিয়ে নিতে পারেন স্বপ্নের বাগান। আর ছাদে জায়গা থাকলে তো কথাই নেই! তবে টবে ফুল ও ফল গাছ লাগানোর আগে কিছু নিয়ম কানুন জেনে রাখা জরুরি। সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে ছোট্ট টবের গাছটিও বেড়ে উঠবে আপন সজীবতায়।

প্রথমেই টবের জন্য উপযুক্ত গাছ নির্বাচন করুন। দীর্ঘজীবী অথবা বৃক্ষজাতীয় গাছ টবে বেশিদিন বাঁচে না। নানা ধরণের মৌসুমি ফুল টবের জন্য সবচেয়ে ভালো। সব মৌসুমের ফুল কিছু কিছু করে লাগাতে পারেন। এতে সারা বছরই বিভিন্ন ফুলের দেখা মিলবে আপনার টবে। গোলাপ, গাঁদা, বেলি, অপরাজিতা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, নয়নতারা, গন্ধরাজ গাছ লাগাতে পারেন বারান্দায় রাখা টবে। ছাদে জায়গা থাকলে বড় বা মাঝারি টবে হাসনাহেনা, জুঁই, বাগানবিলাস, টগর, জবা কিংবা শিউলি ফুল গাছ রাখা যেতে পারে। ফুলের পাশাপাশি ফল গাছও লাগাতে পারেন টবে। তবে এজন্য পর্যাপ্ত রোদ, আলো বাতাস ও প্রশস্ত জায়গা থাকা প্রয়োজন। সবচেয়ে ভালো হয় বাড়ির সামনের খোলা জায়গা অথবা ছাদে রাখা টবে ফলের গাছ লাগালে। পেয়ারা, আমলকী, জাম্বুরা, ট্রবেরি, ডালিম, লেবু, মরিচ গাছ ছাদে বা ড্রামে লাগানো যেতে পারে।      

টবে গোলাপ ফুল

টবে চারা রোপণের আগে দোঁআশ মাটির সঙ্গে তিন ভাগের এক ভাগ পরিমাণ জৈব সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করে নিতে হবে। সঙ্গে একমুঠো হাঁড়ের গুঁড়া, দুই চামচ চুন, দুই মুঠো ছাই মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে টবের মাটির উর্বরতা অটুট থাকবে দীর্ঘদিন। চারাটি যেন সতেজ ও প্রাণবন্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। গাছ লাগানোর পর আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে গোড়ার মাটি শক্ত করে পানি দিন সামান্য। গাছ লাগানোর পরপরই কড়া রোদে রাখবেন না। কয়েক দিন ছায়ায় রেখে সহনশীল করে তারপর রোদে দিন। সকাল ও বিকালের হালকা রোদে দিতে পারেন প্রথম কিছুদিন। দ্রুত বেড়ে ওঠা শুরু করলে গাছকে সোজা রাখার জন্য বাঁশের কঞ্চি বা স্টিক ব্যবহার করতে পারেন। তবে টবের গাছ খুব বড় হতে দেবেন না। বাড়তি অংশ ছেঁটে দিন কিছুদিন পর পর। মাসে একবার নিড়ানির সাহায্যে গোঁড়ার মাটি খুঁচিয়ে জৈব সার দিন। গাছের ফুল শুকিয়ে গেলে একটু নিচ থেকে ডালসহ কেটে দিন। নতুন পাতা গজানোর সময় এক চিমটি ইউরিয়া সার এক লিটার পানিতে গুলে গাছের গোঁড়ায় দিন। ট্যাবলেট সারও দিতে পারেন। ফুলের আকৃতি বড় হবে। গাছে কীটনাশক দিন নিয়মিত। খুব প্রয়োজন না হলে এক টব থেকে অন্য টবে গাছ স্থানান্তর করতে যাবেন না।

ছাদ ও বারান্দার পাশাপাশি ঘরে কিংবা সিঁড়িতেও রাখতে পারেন টবসহ বিভিন্ন গাছ। মানিপ্লান্ট, ড্রেসিনা, পাম, পাতাবাহার ইত্যাদি গাছ রাখতে পারেন ভেতরে। সেক্ষেত্রে সপ্তাহে একদিন টবটি বারান্দায় রাখার চেষ্টা করুন। টবের গোঁড়ায় একবারে বেশি পানি দেবেন না। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে গাছ রাখা উচিত নয়।

জেনে নিন    

ছোট টবে বড় গাছ লাগানো যেমন অনুচিত তেমনি বড় টবে ছোট গাছও বেমানান দেখায়।

টবের নিচে ছিদ্র থাকতে হবে অবশ্যই। যাতে অপ্রয়োজনীয় পানি চুইয়ে পড়তে পারে। ছিদ্রটি ছোবড়া বা ইটের টুকরো দিয়ে ঢেকে তারপর টবে মাটি রাখুন।  

খুব ভারি টবের নিচে প্লেট রাখা জরুরি। প্রয়োজনে কয়েকটি ইটের উপর বসাতে পারেন টব।  

ফুল শুকানো শুরু করলেই ছেঁটে দিন। এতে দীর্ঘদিন ধরে ফুল ফুটাতে সক্ষম হবে আপনার প্রিয় গাছটি।     

 /এনএ/

লাইভ

টপ