শেষ পাতে দই

Send
সুস্মিতা খান
প্রকাশিত : ১৩:৫২, জানুয়ারি ২৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫৫, জানুয়ারি ২৩, ২০১৬

ঘরে পাতা দই

খুব বেশিদিন আগের কথা না “শেষ পাতে দই” কথাটি ছিল সব বাঙালির  খুব পরিচিত কথা। দিন পার হয়েছে, আধুনিকতা ছুঁয়েছে আমাদের। সত্যি করে বলুন তো সেই পুরোনো দিনে ‘শেষ পাতে দই’ যে আবেদন নিয়ে আসত, তা কি কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ণ হয়েছে? স্বাদে যাই হোক না কেন - টক বা মিষ্টি - জীবনের প্রতিটি ধাপে পুষ্টির জোগান দিতে ঘরে পাতা দইয়ের জুড়ি কমই আছে। হোক একটু ভারি খানা বা রোজকার খাবার, শেষ পাতে পরিবারের প্রতি সদস্যের কাছে দইয়ের আবেদন এখনও আছে।

স্বাদের পাশাপাশি দই একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার, তাই যেকোনও বয়সেই খাদ্য হিসেবে এর চাহিদা কম নয়। দুগ্ধজাত অন্যান্য খাদ্যের মতোই দধি হলো প্রোটিনসৃমদ্ধ এবং ৮ আউন্স পরিমাণ দইয়ে আছে ৮ থেকে ১০ গ্রাম প্রোটিন যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক চাহিদার ১৬-২০ শতাংশ। যেহেতু বিশুদ্ধ ছাঁচ ফেলে দই তৈরি করার পর এতে তরল দুধের তুলনায় প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে যায়, তাই দই ক্যালসিয়ামের একটি বড় উৎস। এছাড়া দইয়ে চর্বি কম এবং এতে রয়েছে প্রয়োজনীয় খনিজ ও ভিটামিন। এই স্বাস্থ্যকর খাবারটির স্বাস্থ্যকরী গুণ ও বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এর প্রভাব কেমন, তা-ই দেখা যাক-

হাড়ের রোগ প্রতিরোধে

গবেষকেরা বলেন, ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাদ্য খেলে হাড়ের ক্ষয় কমে। এতে হাড়ের সুরক্ষা হয় ও রোগীর ঝুঁকি কমে। ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ দই বয়স্কদের মধ্যে অস্টিওপরোসিসের প্রভাব কমিয়ে আনে, ঋতুবন্ধ-উত্তর নারীদের মধ্যে কমিয়ে আনে হাড়ের ক্ষয়। যেহেতু দইয়ের মাঝে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ অনেক বেশি, তাই নিয়মিত দই খেলে প্রতিদিনের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ হবে। এছাড়াও অধিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম গ্রহণ অনেক ক্ষেত্রেই কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা

গবেষণা থেকে দেখা গেছে, দই খেলে শুধু যে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় তা-ই নয়, এর গুণ আরও বেশি। দই রোগ প্রতিরোধ শক্তি ও ব্যবস্থাকেও করে প্রখর ও উজ্জীবিত। দই খেলে পাচক নলের সুরক্ষা হয়। বিশেষ করে পাচক নলের ক্যান্সার ও সংক্রমণেরও প্রতিরোধ করা সম্ভব। শিশুদের ডায়রিয়া প্রতিরোধেও দই বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে

নিয়মিত কম ফ্যাটযুক্ত দই খেলে দৈনিক যে পরিমাণ ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম দরকার হয় তা খুব সহজেই পূরণ হবে। এই তিনটি খনিজ উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স নিয়ন্ত্রণে

দুধ বা দুগ্ধজাত শর্করার নাম হলো ল্যাকটোজ এবং অনেকের মাঝেই অন্ত্রে পাচক এনজাইম ল্যাকটেজের ঘাটতিজনিত কারণে এই শর্করাটি হজম করতে পারেন না। গবেষণায় দেখা গেছে ঘরে পাতা দইয়ে যে জীবন্ত ও সক্রিয় জীবাণু রয়েছে, এগুলো সহজে পরিপাকে সহায়তা করে এবং ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

যোনিদেশে ছত্রাক সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে

শুনতে আশ্চর্যজনক বলে মনে হলেও মহিলাদের যোনিদেশে সংক্রমণ তৈরিকারী ছত্রাকের সংক্রমণ কমাতে নিয়মিত ঘরে পাতা দই কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে দইয়ের মধ্যে ল্যাকটোএসিডোফিলাস জীবাণু প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

এতো উপকার যে খাবারে, তা নিয়ে চলুন তাহলে আর গড়িমসি না করে, শেষ পাতে খেয়ে নেই ঘরে পাতা দই।

লেখক: পুষ্টিবিদ ও জনস্বাস্থ্যকর্মী

/এফএএন/

লাইভ

টপ