behind the news
IPDC  ad on bangla Tribune
Vision  ad on bangla Tribune

যেখানে খোঁপায় গাঁথা ফুলে চেনা যায় নারী!

ওয়ালিউল মুক্তা, তামিলনাড়ু থেকে ফিরে২০:৩৬, জানুয়ারি ২৬, ২০১৬

যেখানে খোঁপায় গাঁথা ফুলে চেনা যায় নারী!

মারুগান নামের এক দেবতা এসে নেমেছেন পদ্ম পুকুরে। হাতে তার তির। যুদ্ধের তির। তার উদ্দেশ্য ভয়াবহ ও ভালো। ধনুক হাতে নিয়ে তিনি এসেছেন খারাপদের (শত্রু) ওপর তা নিক্ষেপ করতে। আর যে জায়গায় তিনি নেমেছিলেন, সে পদ্ম পুকুরটা আজকের ভারতের ভেলোর সিটি। ভেল অর্থ বলা হচ্ছে স্পেয়ার বা যুদ্ধাস্ত্র। 'অর' মানে জায়গা। এটা হলো সংক্ষেপে এ নগরের নামকরণ। তবে ভেলরো আমি যে লজে আছি, তার মালিক সেলিম ভাইয়ের কাছে এ তথ্য তেমন একটা গুরুত্ব পেল না। তার মতে, ভেল অর্থ সূর্যের উত্তাপ আর 'অর' মানে জায়গা। গত এক সপ্তাহ ধরে এ শহরে আছি। উত্তাপ কাকে বলে তা মোটামুটি টের পাচ্ছি। তাই সেলিম ভাইয়ের ওপর কথা চলে না।

এলাকায় আরও একজন আধ্যাত্মিক পুরুষ আছেন। নাম তার শ্রী শাক্তি আমা (শ্রী নারায়ণী)। কয়দিন আগে সামনাসামনি তাকে পেয়ে বড় সাইজের ধাক্কা খেয়েছিলাম। এই মানুষটিও নাকি যখন পৃথিবীতে আসেন, তখন তার হাতেও ছিল পদ্ম ফুল চিহ্ন। এত কথার কারণ হলো ফুল। শুধু ভেলোর নয়, পুরো তামিল সংস্কৃতিতে ফুলের প্রভাব অগাধ। তামিলদের মধ্যে ফুল প্রিয়তা অসাধারণ। পৃথিবীর আর কোনও জাতির এই ঈর্ষণীয় ক্ষমতা আছে বলে মনে হয় না।

যেখানে খোঁপায় গাঁথা ফুলে চেনা যায় নারী!

এখানকার প্রতিটি নারী যখন রাস্তায় বের হন, চুলের ভাঁজে পরম যত্নে ফুল গেঁথে নেন। সাত দিনে তামিলনাড়ুর বেশ কয়েকটি শহরে এই একই কাণ্ড আমি দেখেছি। বিস্ময় নিয়ে লক্ষ্য করেছি, রাজ্যের প্রতিটি চুলখোলা নারী এই কাজটি করে যাচ্ছেন। আশ্চর্যের বিষয়, এই ফুল দিয়েই নারীকে নাকি চেনা যায়!প্রতিটি ফুলের আলাদা অর্থ আছে। বিবাহিত নারীরা এক রকম ফুল খোঁপায় রাখে। টিনএজরা অন্যরকম। এই নিয়ম বিধবাদের জন্যও! তবে অবিবাহিত যারা তামিলনাড়ুতে আসবেন, তারা জেসমিন (সাদা) ও গোলাপ (লাল) ফুলের কেশধারীর দিকে বিগলিত নয়নে তাকাতে পারেন! কারণ তারা টিনএইজ বা অবিবাহিত।

যেখানে খোঁপায় গাঁথা ফুলে চেনা যায় নারী!

আর গোলাপি, কৃষ্ণচূড়াসহ বেশ কয়েকটি রঙের ফুল ব্যবহার করে বিবাহিত মেয়েরা। তাদের একের অধিক রঙের ফুল রাখতে দেখা যায়। এ ধরনের মেয়েরা সাদা ফুল পরতে পারেন। তবে সঙ্গে অন্য যেকোনও ফুল মাথায় থাকতে হবে। আর বিধবারা ব্যবহার করেন সাদা রঙের ফুল। তবে এক্ষেত্রে শর্ত প্রযোজ্য, এ ফুলের কোনও গন্ধ থাকা চলবে না। বেগুনি, কমলা, হলুদ ধরনের ফুলের কোনও বাছ-বিচার নাই। এগুলো সবার জন্য। দেবতার জন্য তারা রেখেছে হলুদ রঙের ফুল। এর নাম লাক্সমি বা লক্ষ্মী। আমার দেখা অত্যন্ত অমায়িক এ গোষ্ঠী ফুলকে পবিত্র বস্তু হিসেবে মান্য করে। স্থানীয় এক তামিলের সঙ্গে কথা বলছিলাম, তার কথা বেশ কিছুক্ষণ ভাবাল। তার তথ্য হলো, ফুল মাথায় গুঁজে বের হওয়াটাই তাদের সংস্কৃতি। আর এটা মাথায় রেখে বাসার কাজ করাটা হলো অপসংস্কৃতি। ফুল এতটাই পবিত্রতম তাদের কাছে!

ছবি: লেখক  

/এম/এনএ/ 

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ