বারকোড ক্যাফে এখন ঢাকায়!

Send
নওরিন আক্তার
প্রকাশিত : ১৩:৩০, জানুয়ারি ২৯, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪২, জানুয়ারি ২৯, ২০১৬

বারকোড ক্যাফে

‘মানুষ যদি তোমাকে জোর করে টেনে নিচে নামাতে চায়, তাহলে তোমার অবস্থান তাদের ওপরে!’ ফেসবুকের দেয়াল নয়, এই বাণীটি সাঁটানো বারকোড ক্যাফের দেয়ালে! ক্যাফের বিভিন্ন দেয়ালে এমন সব চমৎকার বাণীর পাশাপাশি টাঙানো চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী নানান স্থানের ছবি। চট্টগ্রামের সীমানা ছাড়িয়ে বারকোড ক্যাফে ঢাকায় শুরু করেছে তাদের পথচলা।
‘চট্টগ্রামের মানুষ যারপরনাই হতাশ এ ঘটনায়!’ সেটা কেন? ‘তারা ঢাকার মানুষের কাছে খুব গর্ব করে বলতো, আমাদের বারকোড ক্যাফে আছে, তোমার কী আছে? এখন সেটা আর বলতে পারবে না! এজন্য তাদের বেশ মন খারাপ!’ হাসতে হাসতে জানালেন বারকোড রেস্টুরেন্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মঞ্জুরুল হক।

একেবারে চট্টগ্রামের বারকোড ক্যাফের আদলেই সাজানো হয়েছে

২০১৩ সালে ছোট্ট পরিসরে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছিল বারকোড ক্যাফের পথচলা। তখন মাত্র ৫০ জনের বসার ব্যবস্থা ছিল। তবে খাবারের স্বাদ, মান এবং পরিবেশনের আন্তরিকতার কারণে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি এ রেস্টুরেন্টকে। এখন বারকোড ক্যাফের মোট ৬টি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে ৫টিই চট্টগ্রামে। চলতি বছরেই ঢাকার গুলশানে শুরু হয়েছে তাদের ষষ্ঠ শাখার কার্যক্রম। কেমন সাড়া পাচ্ছেন ঢাকায়? মঞ্জুরুল হক জানালেন, চট্টগ্রাম থেকে পাওয়া সুনাম এবং সাধারণ মানুষের আস্থাকে সঙ্গে নিয়েই বারকোড ক্যাফে ঢাকায় তাদের পথচলা শুরু করেছে। এখনও গ্র্যান্ড ওপেনিং না হলেও প্রচুর মানুষ প্রতিদিন আসছেন খাবারের স্বাদ নিতে। এবার পালা চট্টগ্রামের মতো এখানকার ভোজনরসিকদেরও আস্থাভাজন হওয়া।

বারকোড ক্যাফের জনপ্রিয় ড্রিংক 'মিন্ট লেমন'

ঢাকার বারকোড ক্যাফে সাজানো হয়েছে একেবারে চট্টগ্রামের বারকোড ক্যাফের আদলেই। একই রকম চেয়ার টেবিলের পাশাপাশি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোও দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে একইভাবে।

ক্যাফের নাম বারকোড রাখার কারণ কী? ‘বারকোড হচ্ছে নিজস্ব পরিচয়। বারকোড ক্যাফে সবসময় চায় তাদের স্বতন্ত্র পরিচয়টা ধরে রাখতে। এ কারণেই নাম বারকোড’- বলেন মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি জানান, ফ্রেশ এবং উন্নতমানের খাবার সাশ্রয়ী দামে পরিবেশন করাই বারকোড ক্যাফের বিশেষত্ব।

ক্যাফের দেয়ালে সাঁটানো বিভিন্ন বাণী

ইতালিয়ান ও আমেরিকান খাবারকে প্রাধান্য দিয়েই সাজানো বারকোড ক্যাফের মেন্যু। এখানকার মিন্ট লেমন, ওভেন বেকড পাস্তা, হানি চিকেন সালাদ, চিটাগাং পিৎজাসহ বিভিন্ন আইটেম সুনাম কুড়িয়েছে ভোজনরসিকদের কাছে। মনকাড়া বিভিন্ন অফার দিয়ে ক্রেতাদের আসতে বাধ্য করতে আগ্রহী নয় বারকোড ক্যাফে। খাবারের মান, স্বাদ এবং হাতের নাগালে থাকা দামের কারণেই ক্রেতারা বারবার ফিরে আসবেন এখানে- এমনটাই বিশ্বাস করেন মঞ্জুরুল হক।

বারকোড ক্যাফের শর্মা

আরেকটা বিশেষত্বের কথাও উল্লেখ করলেন তিনি। বারকোড ক্যাফেতে পরিবার পরিজন নিয়ে যেমন খেতে পারবেন ডিনার কিংবা লাঞ্চ, তেমনি বন্ধুদের নিয়ে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি হাতেও মেতে উঠতে পারবেন নির্ভেজাল আড্ডায়। পুরো রেস্টুরেন্টের পরিবেশ সাজানো হয়েছে এটা মাথায় রেখেই।

সিঁড়ি দিয়ে উঠতে চোখে পড়বে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন স্থানের ছবি

খুব শীঘ্রই জমকালো আয়োজন করে ঢাকায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে বারকোড ক্যাফের। চলছে সেই প্রস্তুতিই।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন



/এনএ/

লাইভ

টপ